লোকাল বাসে যাচ্ছিলাম বাসার দিকে। হঠাৎ একটা ছোট ছেলে উঠলো বাসে। হাতে এক প্যাকেট পপ কর্ন। দেখে মনে হচ্ছিল সে পপ কর্ন বিক্রি করে। আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি এই প্যাকেটটি বিক্রি করতে বাসে উঠেছো? ছেলেটি হাসল। অতৎপর উত্তর, এইটা আমার ছোট ভাইয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছি।
ছেলেটার বয়স বড় জোড় 8 বছর। এই বয়সেই তার ছোট ভাইয়ের জন্য এত দরদ। জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কর কি? উত্তর: রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে পপ কর্নের প্যাকেট বেঁচি। প্রতি প্যাকেটে দুই টাকা লাভ।
ছেলেটির নাম মনির। চার বোন দুই ভাইয়ের সংসারে সে পঞ্চম। মনির লেখেপড়া করেছে ক্লাস টু পর্যন্ত। তারপরে বেছে নিয়েছে উপার্জনের রাস্তা।
মনিরের বাবা অবশ্য এখনো বেঁচে আছে। তবে এতবড় পরিবার চালানোর মতো রোজগাড় তার নেই। মনিরকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে কত টাকা লাভ হলো? চলি্লশ টাকা।
তুমি কি আর লেখাপড়া করবে না? আমি লেখাপড়া করলে সংসার চলবো কেমনে? বাবার গার্মেন্টসের চাকরি দিয়ে সংসার চলে না। আগারগাও বিএনপি বস্তির এক ছোট্টি কোনের বাসিন্দা মনির।
মনিরের মধ্যে ভালোবাসা আছে, দায়িত্ব জ্ঞান আছে, নেই শুধু শিক্ষার সুযোগ . . . । দেশ বিদেশের পাঁচ তারকা হোটেলে বসে বিদ্্বানরা আলোচনা করে শিশু অধিকারের কথা। কিন্তু তাতে মনিরদের লাভ হয় না কিছুই। কারন আলোচকদের চোখে রাজধানীর মনিররাই চোখে পড়ে না, গ্রামতো অনেক পরের বিষয়।
এই দেশে কি মনিরদের জন্য লেখাপড়ার কোন ব্যবস্থা নেই?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


