শিরোনাম দেখে ভুরু কোঁচকানোর কোনো কারণ নেই। গণিতের সংখ্যাভুবনে এমন সব বিচিত্র নামের সংখ্যা আছে বলেই গণিত এত রঙিন। যে ক্ষুদ্রতম সংখ্যাকে n সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে দুটি ধনাত্মক সংখ্যার ঘনের যোগফল আকারে লেখা যায়, তাকে n তম ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা বলা হয়। যেমন, সংখ্যা ২ হচ্ছে প্রথম ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা। কারণ, ২ সংখ্যাটি ১৩+১৩=২ আকারে প্রকাশ করা যায়। সংখ্যার এই প্রকাশ কি অনেক সহজ মনে হচ্ছে! মোটেই ব্যাপারটা সহজ নয়। দ্বিতীয় ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা কত, জানো? দ্বিতীয় সংখ্যাটি হলো ১৭২৯! একে দুভাবে (১৩+১২৩=৯৩+১০৩=১৭২৯) ঘনমানের যোগফল হিসেবে দেখানো যায়। অনুরূপভাবে, তৃতীয় ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যাটিকে তিনভাবে ঘনমানের যোগফল হিসেবে দেখানো যায়। সর্বপ্রথম ১৬৫৭ সালে মজার এই সংখ্যার ধারণা দেন ফরাসি গণিতবিদ বার্নার্ড বেসি। কিন্তু তিনি এই ভিন্ন ধরনের সংখ্যার নামকরণ করেননি। ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণিতবিদ জি এইচ হার্ডি ও শ্রীনিবাস রামানুজানের গল্প। বিশ শতকের শুরুর দিকের কথা। ভারতীয় গণিতবিদ রামানুজান ১৯১৪ সালে লন্ডনের আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যে জন্য তিনি লন্ডনের বেশ দূরে উত্তর-পশ্চিমে পাটনে নামের স্থানে অবস্থান করেন। জি এইচ হার্ডি অসুস্থ রামানুজানকে দেখতে কেমব্রিজ থেকে ভাড়ায়চালিত ট্যাক্সিক্যাবে চড়ে বসেন। তিনি গুরুত্বের সঙ্গে ট্যাক্সির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৭২৯ খেয়াল করেন এবং সংখ্যাটির কোনো রকম আকর্ষণ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন। রামানুজানের কাছে তিনি হতাশা প্রকাশ করলে ভারতীয় গণিতবিদ তাৎক্ষণিক উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘এই অনাকর্ষণীয় সংখ্যাটিই হচ্ছে এমন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা, যাকে দুটি ধনাত্মক সংখ্যার ঘনের যোগফল হিসেবে দুভাবে প্রকাশ করা যায়।’ সেই থেকে এরূপ সংখ্যাকে ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা বলে। পৃথিবীতে মোটরযান ট্যাক্সিক্যাবের সংখ্যা অগণিত হলেও গণিতে এখন পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব সংখ্যা শনাক্ত করা গেছে মাত্র ২২টি!
(Click This Link)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


