নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন জীবনের বেশিরভাগ সময় পাশ্চাত্যে অবস্থান করলেও শুদ্ধ বাঙলায়, বাঙলা উচ্চারণে, কোন ইংরেজি বাক্য ব্যবহার না করে 1 ঘন্টার সাক্ষাতকারে দিতে পারেন। অনেক দিন আমেরিকায় থাকার পরও অধ্যাপক জাফর ইকবাল শুদ্ধ বাঙলায়, বাঙলা উচ্চারণে বাঙলা বলেন। কিন্তু বাংলাদেশে অভিজাত এলাকয় বসবাস কারী অনেকে কথা বলে বাঙলা ভেজাল দেয়া ইংরেজিতে। যতটুকু বাঙলা বলে তাও বিজাতীয় উচ্চারণে। নিজের মাতৃ ভাষাকে অপমান না করলে জাতে উঠা যায় না!
কোন কোন টিভি চ্যানেল ও রেডিও তে এখন ধুম পরেছে বিকৃত উচ্চারণে খিচুড়ি ভাষায় অনুষ্ঠান পরিচালনার। বাঙলা ভাষার উপর আক্রমন নতুন নয়। হাজার বছর আগে থেকে শুরু করে বর্তমানেও চলছে না রূপে নানা চেহারায়। সর্বকালের সর্বযুগের বাঙলা ভাষা বিরোধীদের প্রতি , সাড়ে তিনশত বৎসর আগে উচ্চকন্েঠ অমোঘ বাণী উচ্চারণ করেছিলেন মধ্যযুগের কবি আব্দুল হাকিম:
[গাঢ়]যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন ।
যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি ।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়
নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশে না যায় । [/গাঢ়]
-----------------------------------------------------------------------
আবদুল হাকিম মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি। তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামপুর গ্রামে।
তাঁর কবিতায় অনুপম ব্যাক্তিত্বের পরিচয় মেলে। স্বদেশের ও স্বভাষার প্রতি তাঁর ছিল অটুট ও অপরিসীম প্রেম। তাঁর আটটি কাব্যের কথা জানা গেছে। নূরনামা তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলঃ ইউসুফ জোলেখা, লালমতি, সয়ফুলমুলুক, শিহাবুদ্দিননামা, নসীহতনামা, কারবালা ও শহরনামা। তিনি ১৬৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্য সূত্র : !@@!458713, !@@!458714 !@@!458715
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


