somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শূন্যতার চোরাবালি (২য় পর্ব)

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথম পর্ব

তুহিন কোথাও পড়েছিলো, প্রকৃতির নিয়মেই পুরুষেরা বহুগামী প্রবণতা দেখায়। কিন্তু তুহিনের মনে হয়, তার ভীত বিবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিন্তার এই অংশটিকে বিকল করে রাখে।
তুলতুলির কারণে নিজেকে বন্ধুশূন্য মনে হয় তার। তুলতুলি প্রসঙ্গে সহপাঠীরা হাসাহাসি করে। তুহিন নিজেকে গুটিয়ে নেয়। একবার এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে টিউশনি পড়ানোর বিবাদে, তুলতুলি ছাত্রীর বাসায় এসে পড়েছিলো। তুলতুলির কি মানসিক সমস্যা আছে? এই প্রশ্নের উত্তর তলিয়ে দেখেনা তুহিন। সত্যি বলতে ছেলেটি হয়তো ভেতরে ভেতরে অনেকদিন ধরেই মৃত।

এদিকে তুলতুলির মন জুগিয়ে কথা না বললে, একটু বিদ্রোহ করতে চাইলে, তুলতুলি কাঁদে, নিজেকে হত্যা করার ভয় দেখায়। ছোট্ট শিশুর মতো ক্ষমা চায় তুহিন। হয়তো তুলতুলির মৃত্যু হোক, এতটা বিষাক্ত হৃদয় তার নেই।
তুলতুলির কিন্তু অনেকগুলো ছেলেবন্ধু আছে। তবে তুহিন ব্যাখ্যা চায়না। কারণ, তুলতুলির দাবী সে দেখতে খারাপ এবং এরা শুধুই বন্ধু। তুলতুলি কখনো এদের প্রেমে পড়বেনা, বা এদের পড়তে দিবে না। কিন্তু যেহেতু তুহিন ছয় বছরের রাজপুত্র, তাই তার এসবে সমস্যা হবে।

আত্নীয় বা প্রতিবেশী, তুলতুলি সবাইকে সন্দেহ করে। নিরীহ নির্জীব বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেটে যায় আত্নমর্যাদাহীণ তুহিনের। তুলতুলি মনে মনে বেশ খুশি হয়।
স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে যেতে গেলে, পায়ে ধরে তুলতুলি। তাকেও সাথে নেয়া লাগবে। নয়তো তুহিন তার সুতো ছিড়ে মুক্ত হয়ে যেতে পারে। তুহিনকে মন থেকে ভালোবাসে তুলতুলি। বাধ্য হয়ে দেশেই থাকে এবং সার্টিফিকেটের জোরে ভালো চাকরি পায় তুহিন। দুই পরিবারই জানতো। চাকরির তিন মাসের মাথায় বিয়ে হয়ে যায় তুহিন-তুলতুলির।

অনেক বন্ধু, আত্নীয় স্বজন তাদের বিয়েতে আসে। শুভেচ্ছা জানায়। তুহিনের ভালো লাগে। অনেকটা যেন, বহুদিন পর কবর থেকে বের হওয়ার পরের অনুভূতি। তুহিন ভাবে, এখন তুলতুলির ছেলেমানুষী কমবে। ক্ষনিকের বিরতিতে মৃত মানুষ ভুলে যায়, অবশিষ্ট হাড়টুকুও ক্ষয়ে যাওয়া না পর্যন্ত, মানুষ দুঃখ নিয়েই বাঁচে।

বিয়ের পর তুলতুলি আরো হিংস্র হয়। বাঘিনী যেমন শাবকের উপর নজর রাখে, তেমন অস্বস্তি নিয়ে সংসার শুরু হয় তুহিনের। তুহিনের ব্যক্তিগত বলে কিছু নেই। টিভি সিনেমার নায়িকা কিংবা সংবাদ পাঠিকার উপর তুহিনের 'বদদৃষ্টি' চিহ্নিত করে তুলতুলি। শূন্যতার গভীর বিষাদের বাইরে সংসার কিছুই উপহার দেয়না তুহিনকে।
বউয়ের সাথে কোথাও যেতে লজ্জা পায়, অফিস থেকে লেট করে ফিরতে ভয় পায়। বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে বাঁচার চেষ্টা করে তুহিন।
একদিন তুলতুলি আবিষ্কার করে, তুহিনের বইগুলো কিশোরপাঠ্য অ্যাডভেঞ্চার বই নয়। বড়দের বই। সেখানে এমন শব্দ আছে, যা পাঠ করে হয়তো তুহিন যৌন লালসা মেটায়। নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য শুনে, ঘৃণায় কুঁকড়ে যায় তুহিন।
স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আগ্রহ পায় না। যদিও তুলতুলি সোয়াগের কথা বলে, ভালোবাসি বলে। কিন্তু সেসব শ্রুতিমধুর শব্দ ওজন করতে পারেনা তুহিন।
ওর মধ্যে মৃত মানুষের শীতলতা আসে, বর্ষার রাতের মতো। তাই ছাদে গিয়ে একাকী কাঁদে। তুলতুলির অগোচরে স্মোক করে। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা বা প্রতিবেশীর ভাঁড় হওয়ার সংকল্প তার মনে নেই।
কিন্তু তুলতুলি যখন কাঁদে, তখন নিখুঁত ভালোবাসা থেকেই কাঁদে।
তুহিন প্রচন্ড বিষণ্ণতায় ভোগে আজকাল। নিজেকে প্রশ্ন করে,"আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি? "

(আগামী পর্বে সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা আমি তোমাকে ভুলিনি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫৫



আমার বন্ধু রফিকের বিয়ে।
সে সাত বছর পর কুয়েত থেকে এসেছে। বিয়ে করার জন্যই এসেছে। রফিক একদিন আমার বাসায় এসে হাজির। আমি তাকে প্রথমে দেখে চিনতেই পারি নাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×