somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস ডেভিয়েশনঃ খায় নাকি মাথায় দেয়?

২৬ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আগের পর্বে আমরা জেনেছি, কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস হল পুরো হৃদপিণ্ডে depolarization wave প্রবাহের গড় দিক।



আমরা এটাও জেনেছি, একটা স্বাভাবিক হৃদপিণ্ডে কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস ঠিক দুই ventricle এর মাঝ বরাবর থাকে না, left ventricle এর দিকে কিছুটা ঝুঁকে থাকে।



আজ আমরা জানব কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস ডেভিয়েশন কি।

মনে করি আপনি আর আপনার বন্ধু মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। আপনি সোজা তার হৃদপিণ্ডের দিকে, অর্থাৎ বুকের মাঝামাঝি যেখানে হৃদপিণ্ড থাকে সেদিকে তাকিয়ে আছেন।

বন্ধুর স্বাভাবিক হৃদপিণ্ডের কার্ডিয়াক অ্যাক্সিসকে আপনি দেখবেন অনেকটা এভাবে...



আগের পর্ব হতে আমরা জানি, left ventricle এর মাসল বেশি, তাই এতে depolarization wave এর প্রবাহও বেশি। যার ফলে পুরো হৃদপিণ্ডের সব depolarization wave এর সম্মিলিত ভেক্টর left ventricle এর দিকে একটু হেলে থাকে। (নিচের ছবিতে এই ভেক্টর হচ্ছে OG)



এবার মনে করুন, আপনার বন্ধুর হার্টের left ventricle এ তো মাসল এমনিই বেশি, ধরুন সেটা কোন কারণে আরও বেড়ে গেল। তখন আপনার বন্ধুর হার্টকে সামনে থেকে দেখাবে অনেকটা এরকম।



এখন আমরা আগেই বলেছি, left ventricle এ মাসল বেশি বলেই সেখানে depolarization wave প্রবাহ বেশি। এইজন্যেই ভেক্টর OG, left ventricle এর দিকে হেলে/ঝুঁকে থাকে। তাহলে এর মাসলের পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে আরও একটু বেশি হয় তাহলে কি হবে?

নিশ্চয়ই left ventricle এর depolarization wave প্রবাহের পরিমাণ আরও একটু বেড়ে যাবে, তাই না?



এর মানে কি?

নিশ্চয়ই এর মানে হচ্ছে, OG, left ventricle এর দিকে আরও বেশি ঝুঁকে থাকবে। কি, ঠিক বলেছি না?

তখন তার চেহারাটা হবে অনেকটা এমন...



এবার ধরুন, আপনার বন্ধুর left ventricle নয়, কোন কারণে right ventricle এর মাসলের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেল। শুধু বেড়ে গেল তা-ই নয়, ধরুন তার পরিমাণ left ventricle এর মাসলের পরিমাণ থেকেও বেশি হয়ে গেল।

তাহলে কি হবে? OG এখন কোনদিকে বেঁকে যাবে?

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। OG এখন ডানের দিকে বা right ventricle এর দিকে বেঁকে যাবে। ঠিক এই ছবিটার মত।



প্রিয় পাঠক, বুঝতেই পারছেন, স্বাভাবিক অস্বাভাবিক বিভিন্ন কারণে কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস তার স্বাভাবিক দিক থেকে সরে যেতে পারে। এই সরে যাওয়া হতে পারে ডান দিকে বা ঘড়ির কাঁটার দিকে, অথবা এটা হতে পারে বাম দিকে বা ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।



এবার এই ছবিটা দেখুন। কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস সরে গেলেই যে আমরা তাকে ডেভিয়েশন বলব তা কিন্তু নয়। ছবিতে যেমন আছে, -30◦ থেকে +90◦ এই রেঞ্জের মধ্যে যতক্ষণ কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস থাকবে ততক্ষণ আমরা তাকে বলব নরমাল। অর্থাৎ, এই রেঞ্জের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস যেখানেই থাকুক আমাদের সেটা নিয়ে মাথাব্যথা করার কোন প্রয়োজন নেই, কারণ সেটা নরমাল বা স্বাভাবিক।



কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস এই রেঞ্জের বাইরে গেলেই আমরা সেটাকে অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল বলে ধরে নেব। আর এটারই নাম কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস ডেভিয়েশন।

ছবিতে যেমন দেখছি, +90◦ থেকে +180◦ এই রেঞ্জের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস থাকলে আমরা তাকে বলব right axis deviation (RAD)


(এই ছবিটায় কিন্তু right axis deviation আছে)

-30◦ থেকে -90◦ এই রেঞ্জের মধ্যে থাকলে আমরা বলব left axis deviation (LAD)


(আর এই ছবিটায় আছে left axis deviation)

আর যদি +180◦ থেকে -90◦ এই রেঞ্জের মধ্যে থাকে তখন আমরা বলব extreme right axis deviation (EAD)



আজকের সব পড়ার সারাংশ শুধু এই একটি চমৎকার ছবিতে...



আজ এ পর্যন্তই থাক, হ্যাঁ? আগামি পর্বে আমরা কার্ডিয়াক অ্যাক্সিস ডেভিয়েশনের খুবই কমন এক দুইটা কারণ নিয়ে আলোচনা করব। সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৪ দুপুর ২:০২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইবাদতে মানুষের লাভ, না করলেও আল্লাহর কোন ক্ষতি নাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



সূরাঃ ১০৩ আসর, ১ নং থেকে ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। মহাকালের শপথ।
২। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ্য
৩। কিন্তু উহারা (ক্ষতিগ্রস্থ্য) নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৭


বাংলাদেশে কোনো অর্থমন্ত্রীর বিদায়ের পর একটা জিনিস প্রায় দেখা যায় । তাঁর একটা লিগ্যাসি তৈরি হয় । স্মরণসভার মতো পত্রিকায় “যুগান্তকারী সংস্কার”, “সাহসী সিদ্ধান্ত”, “দূরদর্শী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×