
আরেকটি ব্যাপার হল, বর্তমানের দুই বাচ্চাকে লালন পালন করতেই সহযোগী লাগছে। আরেকজন হলে তো এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি হবে। এখানে মূল সমস্যা হল, আমি দাওয়াত ও জিহাদের কাজের কারণে আত্মগোপনে আছি। তাই আমার স্বাভাবিক জীবন এমন নয় যে, আমি ফ্যামিলি বা আত্মীয়স্বজনের সাথে মিলে থাকব। বরং আমাকে আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জানার বিষয় হল, আমাদের জন্য গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করা বৈধ হবে কি না? কিংবা বৈধ হলে এর কোনো সময় সীমা আছে কি না? বিষয়টি শরয়ী সমাধান দিয়ে ধন্য করবেন।
নিবেদক
আসহান হাবীব
ধামরাই
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما
উত্তর:
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক সন্তানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে,
تزوجوا الودود الولود فإنى مكاثر بكم الأمم.
“তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবিনী নারীদের বিবাহ কর। কেননা আমি কেয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সাথে গর্ব করবো।” -সুনানে আবু দাউদ: ২০৫২, সুনানে নাসায়ী: ৩২২৭
এজন্য গ্রহণযোগ্য শরয়ী ওজর ব্যতীত ভ্রুণ নষ্ট করা সর্বাবস্থায় নাজায়েয; চাই তাতে প্রাণ সঞ্চার হোক বা না হোক। সুতরাং বড় কোনো ওজর না থাকলে যথাসাধ্য গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
তবে আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন, তা যদি বাস্তব হয় অর্থাৎ এত ছোট্ট দুটি বাচ্চার পর এঅবস্থায় আরেকটি বাচ্চার প্রতিপালন আপনার জন্য অস্বাভাবিক কষ্টকর হয়ে যাবে এবং তার কারণে দুধ শুকিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে ভ্রুণে প্রাণ সঞ্চার হওয়ার আগ পর্যন্ত (সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুসারে ১২০ দিনের মধ্যে) গর্ভপাত করা জায়েয হবে এবং তা যত আগে করা যায় তত ভালো। ১২০ দিন পূর্ণ হয়ে গেলে উপরোক্ত ওজরের কারণেও গর্ভপাত করা জায়েয হবে না।
فقط. والله تعالى اعلم بالصواب
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




