
আমার মনের ঘোর গেলো না
উৎসর্গ
প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।
তিনি নেই। অনেক বছর হলো।
তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো আছে, আছে সেইসব ভাবনা—যেগুলোর কাছে ফিরে গেলে আজও নতুন করে ভাবতে হয়।
"জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন,
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।"
কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো দিন পাওয়া যায় না। তবু প্রশ্নগুলো বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকে কিছু গান, কিছু লেখা, আর কিছু মানুষ—যাঁদের সঙ্গে কোনো দিন দেখা না হলেও, যাঁদের ভাবনার কাছে বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।
এই গল্পটি সেই রকমই এক ফিরে যাওয়া।
ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
----------
লোকটা গানটা প্রথম শুনেছিল এক বর্ষার রাতে।
রাত কত হবে, মনে নেই। ঘড়ির দিকে তাকানোর অভ্যাস তার ছিল না। জানালার বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল, ঘরের ভেতর একটা পুরোনো টেপরেকর্ডারে গান বাজছিল। গানটা কে চালিয়েছিল, সে-ও মনে নেই। শুধু মনে আছে, অন্য সবকিছু ছাপিয়ে একটা লাইন এসে তার বুকের মধ্যে কোথাও আটকে গিয়েছিল।
"আমার মনের ঘোর গেল না।"
তারপর থেকে পৃথিবীতে কত কিছু বদলে গেল।
বাড়ির পাশের পুকুরটা ভরাট হয়ে গেল। যে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সে একসময় সন্ধ্যা নামতে দেখত, সেই রাস্তার দুপাশে উঠে গেল বহুতল ভবন। পরিচিত মুখগুলো একে একে অপরিচিত হয়ে গেল। কিছু মানুষ দূরে চলে গেল, কিছু মানুষ এত কাছে থেকেও দূরে সরে গেল যে তাদের আর খুঁজে পাওয়ার উপায় রইল না।
শুধু গানটা রয়ে গেল।
আর রয়ে গেল একটা প্রশ্ন।
সাঁইয়ের বারামখানা কোথায়?
ছেলেবেলায় সে ভাবত, ঈশ্বর থাকেন আকাশের ওপরে। আকাশেরও ওপরে। যেখানে মানুষের চোখ পৌঁছায় না, কল্পনা পৌঁছায়। বড় হয়ে সে দেখল, মানুষের বিশ্বাসেরও কত রকম ঠিকানা আছে। কেউ মন্দিরে যায়, কেউ মসজিদে। কেউ নির্জনে বসে চোখ বন্ধ করে, কেউ সারাজীবন মানুষের সেবা করে। প্রত্যেকেই যেন কোথাও একটা পৌঁছাতে চায়।
কিন্তু কোথায়?
একদিন সে গানটার ব্যাখ্যা পড়ল। একজন মানুষের লেখা। লেখককে সে পছন্দ করত। তাঁর লেখা পড়লে মনে হতো, অচেনা কোনো ঘরের দরজা খুলে গেল। সেই লেখাতেও সে একটা উত্তর পেল—সাঁই মানুষের ভেতরেই থাকেন।
উত্তরটা তার ভালো লাগল।
মানুষের ভেতরে ঈশ্বর থাকলে মানুষকে অবহেলা করা যায় কীভাবে? কারও চোখের জলকে তুচ্ছ করা যায় কীভাবে? যে মানুষটাকে বাইরে থেকে দেখে এত সহজে বিচার করে ফেলি, তার ভেতরে যে একটা অদেখা জগৎ আছে, সেখানে পৌঁছানোর পথ কি আমাদের জানা?
সে অনেকক্ষণ ভেবেছিল।
তারপর মনে হয়েছিল, এত সহজ হলে এত দিনেও মানুষ মানুষকে চিনতে শিখল না কেন?
ব্যাখ্যাটা সে ফেলে দেয়নি। বরং যত্ন করে রেখে দিয়েছিল। মানুষের জীবনে কিছু উত্তর থাকে, যেগুলোকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। উত্তরগুলো সত্যি কি না, তার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সেগুলোর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন।
কিন্তু লালনের গানটা তাকে নির্ভর করতে দিল না।
লোকটার বাবা একদিন অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
বয়স হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষটা ধীরে ধীরে কেমন অচেনা হয়ে যাচ্ছিলেন। কথার মাঝখানে থেমে যেতেন। কখনো একই কথা দুবার বলতেন। কখনো ছেলের দিকে তাকিয়ে এমন একটা হাসি দিতেন, যেন অনেক দিন পর দেখা হলো।
ছেলে বাবার পাশে বসে থাকত।
একদিন বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুই কি আজ এসেছিস?’
সে বলল, ‘হ্যাঁ, বাবা। আমি তো রোজই আসি।’
বাবা মাথা নাড়লেন। তারপর জানালার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে লোকটার মনে হয়েছিল, মানুষ কি সত্যিই আরেকজন মানুষকে চেনে? যে মানুষটা তাকে কোলে নিয়ে ঘুরেছেন, স্কুলে ভর্তি করেছেন, অসুখ হলে রাত জেগেছেন, সেই মানুষটার মনের ভেতরেও কি এমন কোনো ঘর আছে, যেখানে তার প্রবেশাধিকার নেই?
একটা মানুষকে সারাজীবন পাশে পেয়েও তার সমস্তটুকু জানা যায় না।
তাহলে মানুষকে চেনার এত অহংকার আমাদের আসে কোথা থেকে?
বাবা মারা যাওয়ার পর সে অনেক দিন গান শোনেনি।
কিছু কিছু গান থাকে, যেগুলো শুনতে গেলেই মনে হয়, বুকের ভেতর একটা দরজা খুলে যাবে। আর দরজার ওপাশে এমন কিছু অপেক্ষা করছে, যার মুখোমুখি হওয়ার সাহস এখনো হয়নি।
তবু এক রাতে গানটা আবার শুনল সে।
বাইরে বৃষ্টি ছিল না। জানালার পাশে একটা মরা পাতাও নড়ছিল না। ঘরের মধ্যে নিস্তব্ধতা। গানটা বাজতে বাজতে সেই লাইনটা এল।
"আমার মনের ঘোর গেল না।"
লোকটা হঠাৎ বুঝতে পারল, বাবাকে সে কোনো দিন পুরোপুরি চিনতে পারেনি। বাবারও হয়তো এমন কিছু দুঃখ ছিল, যেগুলো কোনো দিন ছেলেকে বলেননি। এমন কিছু ইচ্ছা, যেগুলো সংসারের হিসাবের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এমন কোনো বিকেল, যেখানে তিনি একা বসে নিজের জীবনটাকে নতুন করে দেখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু এখন আর জিজ্ঞেস করার কেউ নেই।
মানুষ চলে গেলে তার সঙ্গে শুধু শরীরটা চলে যায় না। চলে যায় অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনাও।
সেদিন প্রথমবার লোকটার মনে হলো, মানুষের ভেতরে যদি সত্যিই কোনো বারামখানা থাকে, তবে সেখানে পৌঁছানো এত কঠিন কেন?
এরপর থেকে সে মানুষকে একটু অন্যভাবে দেখতে শুরু করল।
বাসে পাশাপাশি বসা অচেনা লোকটাকে। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধকে। অফিস থেকে ফেরার সময় ক্লান্ত মুখে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোকে।
প্রত্যেকেরই একটা জীবন আছে। প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো অন্য কেউ জানে না। হয়তো কোনো মানুষ দিনের পর দিন হাসিমুখে কথা বলে যাচ্ছে, অথচ তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে সে হারিয়েছে। হয়তো যে লোকটা সামান্য কারণে রেগে যায়, তার ভেতরে এমন কোনো ক্ষত আছে, যার কথা সে কাউকে বলতে পারে না।
আমরা শুধু তাদের বাইরের মানুষটাকে দেখি।
ভেতরের মানুষটার কাছে পৌঁছাতে চাই না। কখনো চাইলেও পারি না।
একদিন বাসে তার পাশে বসা একজন বৃদ্ধ হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘জানেন, আমার ছেলেটা আমার সঙ্গে কথা বলে না।’
লোকটা কোনো উত্তর দিতে পারল না।
বৃদ্ধ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নিজেই বললেন, ‘ওর দোষ নেই। আমিই হয়তো ওকে বুঝতে পারিনি।’
এইটুকু বলে তিনি চুপ করে গেলেন।
লোকটা সেদিন অনেকক্ষণ বৃদ্ধের কথাটা ভেবেছিল। নিজের বাবার কথা মনে পড়েছিল। মনে পড়েছিল, বাবার জীবদ্দশায় কতবার তার মনে হয়েছে, বাবা তাকে বোঝেন না। অথচ এখন আর বোঝানোর কেউ নেই।
মানুষের সম্পর্কগুলো বোধহয় এমনই। আমরা যখন কাছে থাকি, তখন নিজেদের বোঝাতে ব্যস্ত থাকি। আর যখন বুঝতে শিখি, তখন অনেক সময় মানুষটা আর কাছে থাকে না।
সেই রাতে লোকটা আবার গানটা শুনল।
এবার তার মনে হলো, লালন হয়তো শুধু ঈশ্বরের ঠিকানা খুঁজছিলেন না। হয়তো তিনি মানুষের ভেতরে এমন এক রহস্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জ্ঞানকেও অসম্পূর্ণ মনে হয়।
কিন্তু এ-ও তো একটা ব্যাখ্যা।
আর ব্যাখ্যা দিয়ে কি সত্যিই সবকিছুর শেষ করা যায়?
অনেক বছর পর একদিন সে সেই পুরোনো টেপরেকর্ডারটা খুঁজে পেল।
বাড়ি বদলানোর সময় কত কিছু যে হারিয়ে গিয়েছিল! কিছু জিনিস বিক্রি হয়েছে, কিছু ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিছু জিনিস বাক্সের মধ্যে ঢুকে এমনভাবে পড়ে থেকেছে, যেন তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই।
টেপরেকর্ডারটা চালু হয়নি।
সে অনেকক্ষণ বসে সেটার দিকে তাকিয়ে রইল। মনে পড়ছিল সেই বর্ষার রাতটার কথা। গানটা প্রথম শোনার রাত। তখন তার বয়স কম ছিল। জীবনের অনেক কিছুই তখনো ঘটেনি। সে জানত না, একটা মানুষের চলে যাওয়া কতখানি শূন্যতা তৈরি করতে পারে। জানত না, সময় একদিন পরিচিত বাড়ির দরজাও বন্ধ করে দেয়। জানত না, নিজের মনের ভেতরে এমন কিছু প্রশ্ন জমতে পারে, যেগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য কোনো বই যথেষ্ট নয়।
অথচ সেই রাতেই একটা লাইন তার ভেতরে এসে জায়গা করে নিয়েছিল।
এত বছর পরও লাইনটা সেখানে আছে।
সে ফোনে গানটা চালাল।
একই গান। একই কণ্ঠ। একই পঙ্ক্তি।
কিন্তু মানুষটা আর আগের মতো নেই।
গান শুনতে শুনতে তার মনে হলো, সে এত দিন ধরে ভুল জায়গায় উত্তর খুঁজেছে। ভেবেছে, একদিন কোনো ব্যাখ্যা পড়বে, কোনো জ্ঞানী মানুষের কথা শুনবে, কিংবা নিজের জীবনের কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে হঠাৎ সব বুঝে ফেলবে। তারপর মনের ভেতরের সমস্ত অস্থিরতা থেমে যাবে।
কিন্তু তা তো হয়নি।
বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন বেড়েছে। যাদের সে খুব ভালো করে চিনত বলে মনে করত, তাদেরই নতুন করে অচেনা লেগেছে। যেসব বিশ্বাসকে একসময় পাথরের মতো শক্ত মনে হতো, সেগুলোর গায়েও সময়ের ফাটল দেখা দিয়েছে।
সে কি তবে কিছুই শিখল না?
জানালার বাইরে তখন বিকেল নামছে। দূরের একটা বাড়ির ছাদে কয়েকটি পাখি বসে আছে। পাশের ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসছে কারও হাসির শব্দ। পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে চলছে। কোথাও কেউ জন্ম নিচ্ছে, কোথাও কেউ শেষবারের মতো চোখ বন্ধ করছে। কেউ কাউকে খুঁজছে, কেউ কাউকে পেয়েও চিনতে পারছে না।
এই সমস্ত কিছুর মাঝখানে বসে লোকটা হঠাৎ নিজেকে খুব ছোট মনে করল।
এত ছোট যে, পৃথিবীর সমস্ত রহস্য বুঝে ফেলার দাবি করাটা তার কাছে হাস্যকর মনে হলো।
হয়তো সে কোনো দিন জানবে না, সাঁইয়ের বারামখানা কোথায়।
হয়তো মানুষের ভেতরে সত্যিই এমন একটা জায়গা আছে, যেখানে পৌঁছাতে পারলে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না। আবার হয়তো সেই জায়গার সন্ধান করতে করতেই মানুষের জীবন কেটে যায়।
সে জানে না।
এত বছর পরেও জানে না।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই না-জানাটুকুর জন্য এখন আর তার নিজের ওপর রাগ হয় না। মনে হয় না, কোথাও কোনো পরীক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়েছে। বরং এই না-জানার ভেতরেই সে নিজের জীবনের অসংখ্য পরিচিত মুখ দেখতে পায়। বাবাকে দেখতে পায়। বাসের সেই বৃদ্ধকে দেখতে পায়। দেখতে পায় এমন সব মানুষকে, যাদের পাশে থেকেও সে কোনো দিন তাদের মনের দরজা খুলতে পারেনি।
হয়তো তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা বারামখানা ছিল।
হয়তো সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার সময় ফুরিয়ে গেছে।
গানটা শেষ হয়ে গেল।
লোকটা ফোনের পর্দায় হাত রেখে বসে রইল। গান আবার চালানোর জন্য আঙুলটা একবার এগিয়েও থেমে গেল।
তার মনে হলো, এই গানটা আসলে শেষ করার গান নয়। এই গান শুনে যার মনে একবার প্রশ্ন জেগেছে, তার কাছে গানটা কোনো দিন পুরোপুরি শেষ হবে না।
কেউ এর উত্তর খুঁজে পাবে। কেউ নিজের মতো করে একটা উত্তর বানিয়ে নেবে। কেউ হয়তো উত্তর না পেয়েও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়বে।
আর কেউ কেউ থাকবে, যারা এত বছর পরও সেই একই লাইনের কাছে ফিরে আসবে।
তাদের মনে হবে, জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে এসেও তারা যেন ঠিক প্রথম রাতটার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে।
লোকটা জানালার বাইরে তাকাল।
আকাশে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
তার মনে হলো, বাবাকে আর একবার যদি জিজ্ঞেস করা যেত—বাবা, তোমার মনের ভেতরে এমন কী ছিল, যা আমি কোনো দিন জানতে পারিনি?
কিন্তু প্রশ্নটা বাতাসে মিলিয়ে গেল। উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই।
শুধু গানটা আছে।
আর সেই পুরোনো প্রশ্ন।
লোকটা খুব আস্তে, প্রায় নিজের অজান্তেই বলে উঠল—
"আমার মনের ঘোর গেলো না।"
তারপর অনেকক্ষণ সে চুপ করে বসে রইল।
সেদিন তার মনে হলো না যে সে কোনো রহস্যের সমাধান করেছে। বরং মনে হলো, এত দিন ধরে যে প্রশ্নটাকে সে নিজের দুর্বলতা ভেবেছে, হয়তো সেটাই তাকে মানুষ করে রেখেছে।
সবকিছু বুঝে ফেললে মানুষ কী নিয়ে বাঁচে, সে জানে না।
শুধু এটুকু জানে, কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার চেয়ে প্রশ্নগুলো বেঁচে থাকা জরুরি।
কারণ কোনো কোনো গান আমাদের কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আসে না। আসে আমাদের ভেতরে এমন একটা দরজা খুলে দিতে, যেটা একবার খুলে গেলে আর আগের মতো বন্ধ করা যায় না।
আর সেই দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকে এক অদ্ভুত বিস্ময়।
যেখানে মানুষ নিজেকে খুঁজতে গিয়ে অন্য মানুষকে নতুন করে দেখতে শেখে। ঈশ্বরকে খুঁজতে গিয়ে নিজের অজ্ঞতার সামনে দাঁড়ায়। আর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে একদিন বুঝতে পারে—তার সমস্ত জানার পরেও কত কিছু বাকি রয়ে গেছে।
সেই বাকি থেকে যাওয়াটুকুর নামই হয়তো জীবন।
অথবা, কে জানে, লালন হয়তো অন্য কিছু বলতে চেয়েছিলেন।
"আমার মনের ঘোর গেলো না।"
— স্বপ্নবাজ সৌরভ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

