somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অপমৃত্যু !

২৫ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগেরদিন রাতে আমার কম্পিউটারে রাত ৩ টার মত সময় পর্যন্ত কাজ করেছি। তাই একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমাব এটাই স্বাভাবিক। ঠিক সময়টা মনে নেই, তবে সকাল পৌনে এগারটার দিকে হবে। আমার দরজায় কেউ একটা শব্দ করছে থেকে থেকে। শব্দ পেয়ে আমি ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই আমার ঠিক সামনের ফ্ল্যাটের মেয়েটা সাথে ওর সাবলেট একটা ছেলের পাশে দাড়িয়ে আমাকে বলছে "পান্না ভাইয়ের স্ত্রী রিক্তা অসুস্থ, তাকে হসপিটালে নিতে হবে। আপনি যদি তাকে ধরে একটু সহযোগিতা করতেন....।" মেয়েটাকে সহজ সাবলিল মনে হলো, কিন্তু ছেলেটার অভিব্যক্তিতে ভয়ের কারনে যেমন ফ্যাকাশে লাগে তেমন লাগছিল। আমি তখনো ঘুমের ঘোরে, বললাম "একটু অপেক্ষা করুন, আমি শার্টটি গায়ে দিয়ে আসছি।" আমি শার্টটি গায়ে দিতে দিতে সেই ছেলেটির ঘরের দিকে গিয়ে দেখলাম, রিক্তার দেহটি ফ্লোরে তোষক বিছিয়ে করা বিছানার বাইরে অর্ধেক, বিছানায় অর্ধেক। রিক্তার দেহের উপরিভাগ পান্না এমন ভাবে ধরে আছে যে আমি তার মুখটি দেখতে পাই্নি। আমাকে আবার তাগিদ দেয়া হলো, “ভাইয়া, একটু তারাতারি ধরেন।“ আমি আর অপেক্ষা না করে রিক্তার শরিরের নিম্নাংশ ধরতে গেলাম। কোমরের নিচে হাত দিয়ে ধরতে গিয়ে দেখলাম শরীর বেশ ঠান্ডা, কিন্তু আমার একবারো মনে হয়নি তার শরীরে প্রান আছে কি নেই। চারতলার সিড়ি দিয়ে নামাতে আমার এবং পান্নার যে খুব কস্ট হচ্ছিল তা বুঝতে পারছিলাম। তখাপি ভাবছিলাম, যদি মেয়েটি বেচে যায় তাহলে পরিশ্রম স্বার্থক হবে। কিন্তু আমার যে কি হয়েছিল জানিনা, আমি একবারো পান্না কিংবা সাবলেট শায়লাকে জিজ্ঞেস করিনি যে রিক্তার কি হয়েছেলো বা ক্যানো হসপিটালে নেয়া দরকার। আমি ভাবলাম, মেয়েরা তো কত কারনেই অসুস্থ হতে পারে। সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে আমি লক্ষ্য করলাম মেয়েটি অনেক সুন্দর। কিন্তু কি হতে পারে মেয়েটির? ভাবলাম, সুস্থ হলে পরে জানা যাবে। বিল্ডিংয়ের নীচে অপেক্ষারত অটোতে মেয়েটিকে তুলে দিতেই দেখলাম মেয়েটির গলায় কালশিটে দাগ, বেশ কালো হয়ে আছে। মুহুর্তেই মনে হল, রিক্তা অনেক আগেই আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে, আর কখনো দেখবো না তাকে। ততক্ষণে অটো চলে গেলো হসপিটালের উদ্ধেশ্যে। আমি অনেক কস্টে সিড়ি বেয়ে উঠে বাসায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। আমার কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছি; কোনভাবে দাড়াতেই পাড়ছিলাম না। মনে হচ্ছে রিক্তার কস্টের সবটুকু আমাকে দিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছে আকাশের তারা হয়ে। ঘন্টাখানেক পরে জানতে পারলাম রিক্তা সত্যিই নেই। এরই পর পর পুলিশ, র্যা ব, সাংবাদিক ....কতো কি! কিন্তু কেউ বলতে পারছেনা এটা কি ছিলো? আত্মহত্যা না হত্যা? আত্মহত্যা হলে স্বামী ক্যানো এলাকাবাসি কিংবা প্রতিবেশীদের কাছে না বলে অথবা মিথ্যা বলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো? হত্যা হলে এর বিচার কি পাবে রিক্তার পরিবার?শুনেছি রিক্তার পরিবার বেশ গরীব। অন্যদিকে পান্নার পরিবার বেশ স্বচ্ছল। একবোন সিআইডির এ.এস.পি. । শুনেছি তারপরো পান্নাকে পুলিশ আটক করে রিমান্ড চেয়েছে। জানিনা কতটুকু তারা করতে পারবে, তবে আমার সারাজীবন এ অপমৃত্যুর কস্ট মনে থাকবে। রিক্তা যদি ন্যায়বিচার পায় তবেই আমার কস্ট দুর হতে পারে। আমরা কি এতটা অসহায় যে রিক্তার মত মেয়েদের অকালে নক্ষত্র হযে যায়া রোধ করতে পারিনা? আমাদের কি কিছুই করার নেই?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×