জুনায়েদের মামলার রায় যখন জজ সাহেব পড়ে শুনাচ্ছিলেন তখন কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ছেলেটা হুহু করে কেঁদে উঠলো।চোখের উপর উপচে পড়া লম্বা চুলগুলো সরানোর প্রয়োজন বোধ করলো না সে।জীবনের সোনালী সময়গুলো জেলেই কাটাতে হবে।
জজ যখন রায় দিল ১৪ বছরের কারাদণ্ড তখন জুনায়েদ ধমক দিয়ে বলতে পারেনি "আমি জুনায়েদ।কোন মন্ত্রী-মিনিষ্টার আমার কিছু করতে পারবে না।তুই জজ হয়ে আমাকে ১৪ দিনের কারাদণ্ড ও দিতে পারবি না।"
এখন সে নীরবে শুনে যাচ্ছে।
রায় শেষ করে জজ উঠে যাওয়ার সময় জুনায়েদ জজ সাহেবকে আকুতি ভরা কন্ঠে বলল,আমার কিছু বলার আছে জজ সাহেব।শুনবেন?
জজ সাহেব উঠে গিয়েও কি মনে মনে করে বসে গেলেন।ছেলেটা এক নাগাড়ে বলতে শুরু করলো,
আপনার রায় আমি মাথা পেতে মেনে নিলাম।কিন্তু এই রায় দিয়েকি আমার উপর ন্যায় বিচার করা হয়েছে?
এদেশে ধর্ষণের বিচার হয়না।খুনের বিচার হয়না।অস্ত্র মামলার বিচার হয় না।
আর বিচার হলেও তাদের ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়।
কোন একসময় টাকা খাইয়ে সেটা কমিয়ে ৪/৫ বছরে নিয়ে আসা হয়।
আচ্ছা আমিকি ধর্ষণ বা খুন করেছি? নাকি এর চেয়েও বড় অন্যায় করেছি?
পাড়ার মাঠে এর চেয়ে আরো বড় মারামারি হয়।একজন আরেকজনের মাথা ফাটিয়ে দেয়,হাত-পা ভেঙে দেয়,হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
সেগুলোরতো বিচার হয় না। তবে আমার বেলায় কেন?
ফেইসবুকে ভাইরাল আর মিডিয়া কাভারেজ দিয়েছে বলে আমার বিচার হচ্ছে?
আবেগ থেকে আমার রায় দিচ্ছেন নাতো?
আমাকে কিশোর সংশোধণ কেন্দ্রে ২/৩ বছরের জন্য দেওয়া যেতো।সংশোধণ হয়ে ফিরতে পারতাম।
কিন্তু আমার জীবনের সোলানী সময়গুলো নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।
রায়টা বিবেচনা করে দেখবেন।
জজ সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলেন।একজন পুলিশ এসে জুনায়েদকে টানতে টানতে জেলে নিয়ে যাচ্ছে……… ১৪ শিকের অন্ধকার ঘরে।
(কাল্পনিক)
(বিঃদ্রঃ জুনায়েদের পক্ষ নিচ্ছ না।নুরুল্লাহ এর যেমন ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে ঠিক তেমনি জুনায়েদেরও ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

