somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফানুসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিশরীয় এরাবিক শব্দ "ফানুস" এর অর্থ আলো/বাতি/কুপি/লন্ঠন/হারিকেন। এটি একটি গ্রীক শব্দ থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ মোমবাতি। এটি সাধারণভাবে Ramadan Lantern বা Sky Lantern হিসেবে পরিচিত। Fanous Ramadan নামক উৎসবে প্রধান উপকরণ এই ফানুস ঐতিহাসিকভাবে মানুষের মাঝে আশার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পৃথিবীর শত আঁধারের মাঝে আলোর সঞ্চারণের প্রতীকী মাধ্যম এই ফানুস।

রমজানের সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে ফানুসের প্রথাগত ব্যবহারের সূচনা ধরা হয় ফাতিমীয় খিলাফতের সময়কালকে। ফাতিমীয় খিলাফত মূলত ছিল মিশরকেন্দ্রিক, যেখানে প্রথা ছিল- পবিত্র রমজান মাসে খলিফার কায়রোতে আগমন উদযাপনের জন্য মিশরীয় জনগণ "ফানুস" নামক বিশেষ বাতি হাতে তাকে অভিবাদন জানাবে। এখন এর ব্যবহার প্রায় সব মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে গিয়েছে।

প্রাচীনকালে ফানুস সাধারণ কুপিবাতির মতই ছিল, যাতে হয় মোম কিংবা তেল ব্যবহার করা হত। সাইরিয়াস নামক নক্ষত্রের উদয় উদযাপনের জন্য ফারাও-রা যে উৎসব পালন করত, সেই উৎসবে ব্যবহৃত মশাল থেকেই প্রকৃতপক্ষে ফানুসের উদ্ভব হয়। প্রাচীন মিশরীয়রা পাঁচ দিন ধরে "ফানুস" নামক বিশেষ মশাল দিয়ে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করে পাঁচ ফারাও সম্রাটের জন্মদিন পালন করত।

এই বিশেষ মোমবাতি বা মশালগুলো প্রাক-খ্রিস্টীয় সময়কালেও ব্যবহৃত হত। মিশরীয় ইতিহাসবিদ আল-মাক্বরিযি (১৩৬৪-১৪৪২) তার বইয়ে লিপিবদ্ধ করেন যে, এই বাতিগুলো খ্রিস্টীয় বিভিন্ন উৎসব উদযাপনের সময় ব্যবহৃত হত।

বিশ্বের সর্বত্র, বিশেষত এশীয় অঞ্চলে, শুধুমাত্র কোন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবের জন্য নয়, বরং সামাজিক ও ব্যক্তিগত নানান অনুষ্ঠানের অলংকরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে ফানুস ব্যবহৃত হয়। এক বা একাধিক বাতি দিয়ে সাজানো বিভিন্ন নকশা ও আকারের ফানুস বসতবাড়ি, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, শপিংমল, প্রভৃতি স্থানে দেখা যায়। কাগজ, কাপড়, বেত, বেড়া, এমনকি হালকা ধাতু এবং কাঁচ দিয়েও ফানুস তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নানান ধর্মীয় উৎসব ফানুস উড়িয়ে উদযাপন করা হয়।

উৎসঃ উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৫৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×