দুইটা নিউজে দেখে মজা পেলাম।
প্রথমটা হল- তিন দিন আগে প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে একটা নিউজ - এক খ্রিস্টান দম্পতি ডাকাতির শিকার হয়েছেন।
নিউজটা এমনিতে খুবই সাধারণ প্রকৃতির ,আনটিল ইয়ু পে এটেনশন।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার কত ভাগ খ্রিস্টান ? আমার ধারণা সেটা ০.০৫% এর কম (কারেক্ট মি ইফ আই এন্ড রং)। মোট ডাকাতির শিকার হওয়া লোকেদের কত ভাগ খ্রিস্টান ? সাধারণ হিসেবে মোট ডাকাতির শিকার হওয়া খ্রিস্টান ভিক্টিম এর পারসেন্টেজ ০.০৫% এর আশেপাশেই হওয়ার কথা।
আমি টাইটেল দেখে সে নিউজটা বিস্তারিত পড়লাম। বিস্তারিত অংশে লেখা হয়েছে- তারা কোন ধর্মীয় প্রতিহিংসা নয়, জাস্ট রেণ্ডমলি একটা ডাকাতির শিকার হয়েছেন, অর্থাৎ এটি সে ০.০৫% ঘটনারই অংশ।
তাহলে এখানে তাদের ধর্মীয় পরিচয়টা মুখ্য হল কেন ?
কোন মুসলিম দম্পতি যখন ঠিক এরকম কোন একটা রেন্ডম ডাকাতির শিকার হন, সেখানে- " এবার ডাকাতির শিকার হলেন এক মুসলিম দম্পতি ?" এরকমটা দেখা যায় না কেন ?
এ ধরনের সংবাদের মুল সমস্যা হল- এগুলো আপনাকে একটা ইম্প্রেশন দেয় যে, সম্ভবত খ্রিস্টান দেখেই এমনটা ঘটেছে (আমি বলছি না যে মাইনরিটি এরকম হামলার শিকার হয় না), কিন্তু যেখানে এটা একটা রেণ্ডম ঘটনা মাত্র এবং সে সময়ে সে স্থানে উপস্থিত যে কারো ক্ষেত্রেই এটা হতে পারত, সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ে ডাকাতির খবর উল্লেখ করে এক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন ধর্মীয় ডাকাত তৈরির মানে কি ?
ডাকাত কি ডাকাতি করার আগে জিজ্ঞেস করেছে- " ঐ মিয়া তোমার ধর্ম কি ? এবার যা আছে সব বাইর কর কারণ তুমি খ্রিস্টান ?" ব্যাপারটা কি আমাদের সংখ্যা লঘুদেরকে মানসিকভাবে আরও বেশী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় না ?
যেখানে সিঁদুর নেই সেখানে সিঁদুর দিয়ে, হেফাজতের লাশের বদলে কাটা গাছের জন্য আহাজারি করে, মাদ্রাসার ছেলে করলে তাণ্ডব আর ছাত্রলীগ করলে ভাংচুর উল্লেখ করে প্রথম আলো আমাদের সাথে এই খেলা নিয়মিত খেলে। এটা জাস্ট কন্টিনিউয়েশন অফ দ্য গেম।
-------------
দ্বিতীয়টা হল-
বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের কেউ একজনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে। এটা নিয়ে মানুষজন খুব আপসেট। নিউজটা এখনো অভিযোগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, প্রমাণ হওয়া বাকি। অভিযোগ এবং প্রমাণ এক জিনিস না, এটা খুব সহজ হিসেব।
এখন যদি ধরেও নেই এটা সত্য, এরপরের পার্টটা হল- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কত হাজার সদস্য এ পর্যন্ত বাইরে গিয়েছেন ? এর মধ্যে কতজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আছে ? এরকম অভিযোগ এসেছে এর বেস রেট কত ? আমার ধারণা এটা দশমিকের পরে এক বা একাধিক ঘর শূন্য এবং এরপরের একটা সংখ্যা হবে।
আমি নিশ্চিত জাতিসংঘ মিশনে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত বা অন্য প্রায় সব ব্যাপারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্র্যাক রেকর্ড খুবই ভাল। যে ক্রাইম এর বেস রেট এত কম এটা একটা নিছক দুর্ঘটনা।
এর চেয়েও মজার ব্যাপার হল- এটা নিয়ে সেনাবাহিনীই সবার চেয়ে বেশী চিন্তিত হবার কথা। আফটার অল- ইউ এন মিশন ব্রিংস দেম মানি (এন্ড অনার)।
বাংলাদেশের পাবলিক গেদারিংয়ে (যেমন- একুশে বই মেলা) কি পরিমাণ যৌন নির্যাতন হয় এবং (ভিডিও থাকা সত্ত্বেও ) যে পরিমাণ আনপানিশড যায়, জাতিসংঘ এটা জানে, কারণ মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট তাদের কাছে যায়। এসবের তুলনায় সেনাবাহিনী দুধে ধোয়া তুলসি পাতা। ফলে এরকম একটা ঘটনার কারণে- "মান ইজ্জত সব গেল " এমনটা হয় নি। মান ইজ্জত সব যাওয়ার মত এত সেন্সেটিভ মান ইজ্জত আমাদের সিমপ্লি নাই !
হ্যাঁ, যদি কোন সেনাসদস্য এটা করে থাকে তাহলে- তার অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত।
সেনাবাহিনীর পেশাগত অবস্থান সম্ভবত এই আনপ্রপোরশনেট মনযোগের কারণ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



