সেই কবে, কোন দুপুরে বালিশে বুক
চেপে 'পথের পাঁচালি' পড়তে পড়তে অপু
লুকিয়ে গেল আমার অন্তরে, আর
বাহিরে কত অনন্তকাল
ধরে নিশ্চিন্দিপুরের সেই নির্জন
ভাটফুলের পথে আমি হাঁটতাম, একলাই।
আমার বিভূতিভূষণ হতে ভীষণ ইচ্ছে হত,
আমি জানি এই অস্থির
শহরে গাড়িগুলো দীর্ঘক্ষণ
জ্যামে আটকে থাকে, তবুও আমার
এখনো ইচ্ছা হয়, আমার মনে হয় ঐ ট্রাফিক
পুলিশটা কেমন যাদুকরের মত হাত
নাড়তে থাকে।
আমি জানালা দিয়ে আশ্চর্য
হয়ে দেখি সামনের ছাদটায়
এতগুলো কবুতর থাকে আর ওই অদ্ভুত
কবুতরওয়ালা হাততালি দিলে ওরা কোথায়,
কোন
আকাশ থেকে নেমে আসে। দূর্গার মত
একটা বোন থাকলে হাত
নেড়ে নেড়ে বলতাম, আমার
যদি একটা ডানা থাকত রে, দিদি!
সেটা আর হয় না। আমি তাই পরীক্ষার
খাতায় অভিনয় শুরু করি।
ইন্টারমিডিয়েটের হিট প্যারাগ্রাফ
মাই চাইল্ডহুড মেমোরিজ।
ইংরেজি ভাষায় নির্বিচাের
মিথ্যার ফাঁদ পাতি,
শৈশবে আমি নাকি রেললাইনে মাথা পেতে রাখতাম
ট্রেনের আওয়াজ শুনতে!!! হায়!!!!
শুকনো পাতার শব্দ নাকি আমার
চাইল্ডহুড মেমোরিজ ঘিরে রেখেছে;
আমি আমার ছোটবেলার বন্ধুর নাম দেই
অপু, তার নাকি অদ্ভুত নীল চোখ । ঐ
পরীক্ষায় হাইয়েস্ট মার্কস পেলাম।
নাইনটি ফাইভ আউট অফ হানড্রেড।
খাতার মধ্যে বড় বড় করে লাল
কালি দিয়ে লেখা Superbly Splendid!
অতিশয় চমৎকার। বোকা পরীক্ষক
জানেনা এই চমৎকারিত্বের ভান
আমি বহুদিন ধরে করে আসছি। আজকাল
আর ধরতেই পারিনা কোনটা আসল আর
কোনটা ভান!
বন্ধুর বাসায় বসে গল্প করতে করতে হঠাৎ
একজন বলে উঠল কিরে, তুই ওখানে ক্যান?
আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম অন্য দশ
বার জন একসাথে বিছানায় আর
আমি আলাদা একটা চেয়ারে একলা বসে!
চুপ করে দেখলাম একটা অদৃশ্য দেয়াল,
বহুদিনের ভান আর অভিনয়ে গড়া।
চশমাটা খুলে আমি আবিষ্কার করলাম,
আশ্চর্য একটা একলা ঘোর
লাগা জগতে আমার বাস।
ভাবছেন এইসব কেন বলছি? কে জানে,
হয়ত নতুন কোন ভান! অতি তুচ্ছ একটা মানুষ
আমি, সদ্য কৈশোর পেরনো তরুণ। সাধারণ,
বৈচিত্র্যহীন জীবন যাপন করি;
'দি ওল্ডম্যান এন্ড দ্য সী' এর বুড়োটার
মতো একমনে চিন্তা করি। কোনো লেখক
বুঝি আমার জীবনটাকে প্রতিনিয়ত
অঙ্কিত করছেন।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



