somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

WWE পুরোটাই মেকি!

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন মানুষ আরেকজনেক মাটিতে ঠেসে ধরেছে। পাশ থেকে ডোরাকাটা শার্ট পরা একজন মানুষ বিড়বিড় করে কী যেনো বলছেন! আর তা দেখে আশপাশের মানুষরা উৎফুল্ল। পুরো বর্ণনা শুনে বর্বর অমানবিক কোন দৃশ্য মনে হলেও টেলিভিশনে এই একই দৃশ্য দেখে আমরাই কিন্তু হাততালি দেই।

আমাদের অনেকের পছন্দের অনুষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে এ ধরণের টিভি শো। টিভির পর্দায় মানুষগুলাে মারামারি করতে থাকে আর আমরা তা মুগ্ধ হয়ে আমরা তা দেখি! বলছিলাম সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি শো রেসলিং-এর কথা।

ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্ট (W W E)। এটি ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে সমস্ত রেসলিং শোয়ের মধ্যে এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে! ১৫০টিরও বেশি দেশে এটি প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠানটি। বছরে ৩২০টিরও বেশি লাইভ ইভেন্ট সম্প্রচার করে এরা। আমাদের দেশে TEN SPORTS চ্যানেল এ WWE-এর RAW, SMACK DOWN, BOTTOM LINE ,AFTER BURN, NXT, MAIN EVENT পর্বগুলো প্রচারিত হয়।

WWE হল একটি আমেরিকান প্রাইভেট কোম্পানি যা প্রফেশনাল রেসলিং পরিচালনা করে। তবে এর পেছনের গল্প রয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা স্ক্রিপ্টও লেখা হয়। প্রতিটি ম্যাচ আগে থেকেই কোরিওগ্রাফ করা থাকে যাতে অভিনয় করেন পেশাদার কুস্তি বীরেরা।

এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অফিস যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ড, কানেক্টিকাটে। এছাড়া নিউইয়র্ক, লন্ডন, টকিও, মিউনিখ, সিঙ্গাপুর ও মুম্বাইতেও এদের অফিস রয়েছে।

WWE-এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। নির্মাতা জেস মিকম্যান ও টুটস মন্ড প্রথমে এর নাম দেন Capitol Wrestling Corporation (CWC)। এরপর কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকবার নাম পাল্টায়, ১৯৬৩ সাল এর নামকরণ করা হয় World Wide Wrestling Federation (WWWF)।

১৯৮০ সালে ভিন্স মিকম্যান তার বাবা জেস মিকম্যান-এর কাছ থেকে ক্যাপিটল স্পোর্টস কিনে নেয় এবং টাইটেন স্পোর্টস স্থাপন করে। ১৯৮২ সালে World Wide Wrestling Federation এর নাম পাল্টে World wrestling federation (WWF) করা হয়। সবশেষে ২০০২ এর নামকরণ করা হয় World Wrestling Entertainment (WWE) যা এখন পর্যন্ত বহাল আছে।

ভিন্স মিকম্যান তার বাবাকে দেখে পেশা হিসেবে রেসলিংকে বেছে নিতে চাইলে জেস তাকে বাধা দেন। ১৯৭১ সালে রেসলিংয়ের ভাষ্যকার হিসেবে WWWF-এ ভিন্সের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ।

টেলিভিশনে চারকোনা রিঙের মধ্যে আমরা যে কুস্তির মহড়া বা রেসলিং দেখি তার পুরা ব্যাপারটাই কিন্তু মেকি। কার সঙ্গে কার ম্যাচ হবে, সেখানে কে কীভাবে মারামারি করবে সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত। সিনেমার নায়ক নায়িকাদের মত ১-২ সপ্তাহ ধরে পুরাটা কোরিওগ্রাফ না করা হলেও পেশাদার রেসলারদের আগে থেকে ব্রিফিং দেওয়া থাকে।

এমনকি খেলার সময় যিনি রেফারি থাকেন তিনিও ক্রমাগত রেসলারদের তাদের পরবর্তী মুভ কী হবে তা নিচুস্বরে বলতে থাকেন। রেফারির কানে লুকানো ছোট হেডফোন থাকে। সেটা দিয়ে কনটেন্ট রাইটার পরবর্তীতে কি ঘটবে তা রেফারিকে জানিয়ে দিতে থাকেন। খেলায় কে জিতবে বা কে হারবে তাও আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।

তবে রেসলারদের প্রায়ই খেলার সময় আহত হতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে তারা আসলেও ইনজুরির মধ্যে পড়েন। Ring match, steel cage match ইত্যাদিতে দেখা যায় রিঙের ভেতর মই আনা হয়েছে বা cage এর অনেক উঁচুতে রেসলাররা উঠে সেখানে মারামারি করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান, এসব ম্যাচে রিংয়ের মধ্যে পাতলা ফোমের একটি প্রলেপ থাকে, যা রেসলারদের গুরুতর চোট পাওয়া থেকে রক্ষা করে।

তাছাড়া choke slam, big boot, leg drop, the rock bottom, the pedigree এসব জনপ্রিয় মুভগুলো রেসলাররা আগে থেকেই প্রাকটিস করে নেয় এবং শরীরের কোন অংশে এই মুভগুলো দিলে ব্যাথা কম লাগবে তা বুঝে নেয়।

অনেক নাম করা রেসলারকে পরবর্তীতে হলিউড মুভিতে দেখা গিয়েছ। যেমন দ্যা রক, জন সিনা, বাতিস্তা, বিগ সো, স্টোন কোল্ড, স্টিভ অস্টিন, ক্রিস জেরিকো, ত্রিপল এইচ, বিল গোল্ডবার্গ, হাল্ক হগান, কেভিন নাশ আরো অনেক রেসলারকে দেখা গেছে বিভিন্ন মুভিতে।

এসব রেসলারদের জনিপ্রয়তা কিন্তু কোন তারকা অভিনেতা বা গায়কের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তারা যখন কোন ট্যুরে যায় তাদের অটোগ্রাফ ও ছবি তোলার জন্য খুদে ভক্তদের বিশাল লাইন লেগে যায়। কারন খুদে ভক্তদের ধারণা বাস্তবেও এরা বােধহয় এমন মারমারি করতে পারদর্শী।

টিভিতে রেসলারদের যতোটা শক্তিশালী দেখানো হয় বাস্তব অনেকেক্ষত্রেই এর বিপরীত। ক্রিস বেনয়ট নামের একজন রেসলার তার শারীরিক গঠন ঠিক রাখার জন্য অনেক বেশি স্টেরয়েড নিতেন।

এক পর্যায়ে তিনি স্টেরয়েড নির্ভর হয়ে পড়েন, এরপর তিনি ঝুঁকে পড়েন মাদকের দিকে। তার রেসলিং ক্যারিয়ার উত্থান পতনের কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে একপর্যায়ে তার স্ত্রী, সন্তানকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর থেকে WWE কর্তৃপক্ষ তাদের রেসলারদের ফিটনেসের ব্যাপারে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করে।

বর্তমানে ভিন্স মিকম্যান WWE-এর চেয়ারম্যান এবং সিইও। তার আগে তার স্ত্রী লিন্ডা মিকম্যান CEO হিসেবে ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তাদের ছেলে শেন মিকম্যান WWE-এর সঙ্গে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জড়িত ছিলেন। ভিন্স ও লিন্ডা কন্যা স্টিফেনি মিকম্যানকে বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় রেসলার ট্রিপল এইচ।
তথ্য সুত্র : দ্বায় দায়িত্ব আমারে নহে
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×