
মুসলমানদের বর্তমান দুর্গতির নেপথ্যে
মুসলমানদের বিগত সাড়ে চৌদ্দশ' বছরের জীবনকে ইতিহাসের পাতায় দেখা হলে জানা যায় যে, আমরা ইজ্জাত ও শ্রেষ্ঠত্ব, শান ও শওকত এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির একমাত্র ও একচ্ছত্র অধিকারী ছিলাম। কিন্তু যখন ইতিহাসের পাতা হতে নজর সরিয়ে বর্তমান অবস্থার উপর দৃষ্টিপাত করা হয় তখন আমাদিগকে চরম লাঞ্ছিত ও অপদস্থ, নিঃস্ব ও অভাবগ্রস্থ জাতি হিসেবে দেখি। আমাদের না আছে শক্তি-সামর্থ্য, না আছে ধন-দৌলত, না আছে শান-শওকত, না আছে পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, না স্বভাব ভাল, না আখলাক ভাল, না আমাল ভাল, না আচার-আচরণ ভাল–সব ধরণের অকল্যাণ আমাদের মধ্যে, সব ধরণের কল্যাণ হতে আমরা যেন দূর-বহু দূরে। অন্যান্য ধর্মের ব্যক্তিবৃন্দ আমাদের এই দুরাবস্থার উপর আনন্দ বোধ করে। প্রকাশ্যে আমাদের দুর্নাম গাওয়া হয় এবং আমাদের নিয়ে উপহাস করা হয়।
এখানেই শেষ নয় বরং স্বয়ং আমাদের কলিজার টুকরা নব সভ্যতার প্রতি অনুরক্ত যুবকশ্রেনির নয়নমনি সন্তানগ্ণ ইসলামের পূত-পবিত্র বিধানসমূহকে উপহাস করে, কথায় কথায় দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং এই পবিত্র শরীয়তকে আমালের অযোগ্য, অনর্থক ও বেকার মনে করে নেতিবাচক ধ্যান-ধারনা পোষন করে আমলের ময়দান থেকে দূরে সরে থাকে। অবাক হতে হয়- যে জাতি একদা পিপাসা মিটিয়েছে, তারা আজ কেন পিপাসার্ত! যে জাতি দুনিয়াকে সভ্যতা ও সামাজিকতার সবক পড়িয়েছে, আজ তারা কেন অসভ্য ও অসামাজিক?

রোগ নির্ণয়ে ভুল
জাতির দিশারীগণ আজ হতে অনেক পূর্বেই আমাদের দুরাবস্থাকে অনুধাবন করেছেন এবং নানাভাবে আমাদের সংশোধনের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু (কবির ভাষায়)– “চিকিৎসা যতই করা হল, রোগ ততই বেড়ে চলল“।
বর্তমান অবস্থা যখন অধিকতর শোচনীয় পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে এবং অতীতের তুলনায় ভবিষ্যত আরও বেশি বিপজ্জনক ও অন্ধকারময় দেখা যাচ্ছে তখন আমাদের চুপ করে বসে থাকা এবং সক্রিয় চেষ্টা না করা এক অমার্জনীয় অপরাধ।
কিন্তু বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়ার পূর্বে আমাদের অবশ্যই ঐ সকল কারণসমূহ চিন্তা করতে হবে, যে সকল কারণে আমরা এই অপমান ও লাঞ্ছনার আযাবে পতিত হয়েছি। আমাদের অবনতি ও অধঃপতনের বিভিন্ন কারণ বর্ণনা করা হয় এবং উহা দূর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ অনুপযোগী ও বিফল প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আমাদের পথপ্রদর্শকগণকেও নৈরাশ্য ও হতাশায় নিমজ্জিত দেখা যাচ্ছে।
বাস্তব সত্য হল এই যে, আজ পর্যন্ত আমাদের রোগ নির্ণয়ই সঠিকরূপে হয়নি। যে সব কারণ বলা হয় উহা প্রকৃত পক্ষে রোগ নয় বরং রোগের উপসর্গ মাত্র। সুতরাং যতক্ষন পর্যন্ত প্রকৃত রোগের প্রতি মনযোগ দেয়া না হবে এবং রোগের মূল উৎসের সংশোধন ও চিকিৎসা না হবে, ততক্ষন পর্যন্ত উপসর্গের সংশোধন ও চিকিৎসা অসম্ভব ও অবাস্তব। কাজেই যতক্ষন পর্যন্ত আমরা প্রকৃত রোগের সঠিক নির্ণয় ও উহার সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জেনে না নিব ততক্ষন পর্যন্ত সংশোধনের ব্যাপারে আমাদের মতামত ব্যক্ত করা হবে মারাত্মক ভুল।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৮ সকাল ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


