somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিরাকল

২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিরাকল

এরকমটা আমি আগে দেখিনি তা নয়, বরং এর চেয়ে ভয়াবহ ইনজুরিও দেখেছি। তবে এবার সাত বছরের এই মেয়েটার চোখ দেখে থমকে গেলাম। একটা পেন্সিল তার চোখে আমূল গেঁথে আছে। রুমের ভেতর কাঁদছে মেয়েটি আর রুমের বাইরে কার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদছে তার দরিদ্র বাবা। আর দশটা বাবার মতো আমারও মনে পড়ে যাচ্ছিলো নিজের সন্তানের কথা। মনটা ভারী হয়ে ছিলো।

সাবধানে সরিয়ে আনা হলো চোখের ভেতরের পেন্সিল। আল্লাহু আকবার। চোখ সাবলীলভাবে নড়ছে। মেয়েটার দৃষ্টি পরীক্ষা করা হলো। সম্পূর্ণ দৃষ্টি অক্ষত। শুধুমাত্র সামান্য কয়েকটা সেলাই লাগলো আঘাতের যায়গায়। চোখ পরীক্ষা করে এখন কেউ বুঝতেই পারবে না যে, একটা পেন্সিল মেয়েটির চোখের কোটরে দু ইঞ্চি ঢুকে গিয়েছিলো। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, যে অ্যাঙ্গেলে এই পেন্সিল ঢুকেছে তা অত্যন্ত দুরূহ একটি অ্যাঙ্গেল এবং চোখের সেনসেটিভ সকল অংশ অক্ষত রেখে ঠিক এই বরাবর কোন কিছু ঢুকে পড়াটা অনেক বড় মিরাকলের চেয়ে কম না। সামান্য একটু এদিক ওদিক হলেই অন্ধত্ব ছিলো প্রায় নিশ্চিত।

ইমার্জেন্সি রুমে আনন্দের বাতাস বইছিলো। বাবাটির বাঁধ ভাঙা চোখে দ্বিগুন বেগে বইছিলো সুখের অশ্রু। আমার মনে হচ্ছিলো একটি কথা। এই অবিশ্বাস্য বেঁচে যাবার ব্যাপারটি আমাদের কতদিন স্মরণ থাকবে? আমাদের সকলের জীবনেই এমন বিস্ময়কর কোন না কোন ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের বিরাট ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, অথচ স্বল্প সময়েই আমরা তা ভুলে গিয়ে নিজের সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার বলে ধরে নিয়েছি।

প্রসঙ্গত মনে পড়ছে সাহাবা কাতাদাহ বিন নুমান রাঃ এর কথা। উহুদ যুদ্ধের ভয়াবহ অবস্থায় এক পর্যায়ে একটি তীর এসে তাঁর চোখের কোটরে বিদ্ধ হয়। তীরের আঘাতে চোখটি কোটর থেকে বের হয়ে এসে চোখের নীচে ঝুলতে থাকে। তিনি এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চোখটি ফেলে দিতে উদ্দত হন। রাসুলুল্লাহ সাঃ তা দেখে আল্লাহর নামে চোখটি নিজের হাত দিয়ে আবার কোটরে বসিয়ে দেন। এরপর চোখের অবস্থা এমন মনে হচ্ছিলো যেন কিছুই হয়নি। এমনকি কাতাদা রাঃ সারা জীবনেও এই চোখে আর কোন সমস্যা বোধ করেননি। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবনে যে সকল মুজিজা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে এটি ছিলো তার মধ্যে একটি। কৃতজ্ঞ কাতাদা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহর এই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করতেন। এমনকি তাঁর বংশধররা পর্যন্ত এই বলে মানুষের কাছে পরিচয় দিতেন যে, "আমি হলাম সে ব্যক্তির সন্তান, যার কোটর থেকে বেরিয়ে যাওয়া চোখ রাসুলুল্লাহ সাঃ আবার বসিয়ে দিয়েছিলেন" (আর রাহিকুল মাখতুম)।


চোখের ভেতর পেনসিল


চোখের ভেতর পেনসিল-২


পেনসিল সরিয়ে সেলাই করা হয়েছে


এই হলো শেষ
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×