বর্তমানে ভারতের পক্ষে যতই যৌক্তিক হোক না কেন,কোনো কিছু লেখা বিপদজনক।কারন ভাদা(ভারতীয় দালাল)উপাধি পেতে হয়।আপনারা যারা আমার এই যৌক্তিক লেখা পছন্দ করবেন না, দয়া করে পাকিস্তান চলে যান।খামাখা আমাকে ভাদা উপাধিতে ভূষিত করবেন না।
এই যে,ভারতের উপর অবিচার হচ্ছে কেউ কি নাই এর প্রতিবাদ করবে?আশ্চর্য্য লাগে, অনেক চিহ্নিত ভারত বন্ধু আছেন তারাও এ ব্যপারে চুপ। নৌ প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে প্রতি মেট্রিক টনের ট্রানজিট মাশুল হিসেবে ১৩০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
নৌপথে ভারতীয় পণ্য পরিবহন, প্রতি টনে মাশুল ১৩০ টাকা করার প্রস্তাব ঢাকার
যেখানে আমাদের এক উপদেষ্টা বলে দিয়েছেন ট্রানজিট মাশুল চাওয়া অসভ্যতা।সেখানে কিভাবে বাংলাদেশ মাশুল চায়?এর আগেও আমরা ত্রিপুরায় মানবিক কারনে বিনা মাশুলে ৩৫ হাজার টন পন্য পরিবহনে সুযোগ দিয়েছি। এখন কেন এই অসভ্যতা করব? আমরা কি ধীরে ধীরে সভ্যতা আর মানবিকতার বাইরে চলে গিয়েছি?
হ্যা আপনি বলতে পারেন ,ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ফি কত হবে, তা নির্ধারণে ২০১১ সালে গঠন করা হয় কোর কমিটি। ২০১২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোর কমিটির কাছে প্রতি টনে ৫৮০ টাকা ফি আদায়ের প্রস্তাব দেয়। সেখান থেকে কমিয়ে ১৩০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু দরকার হলে আরো বেশী দেশের জনগনের উপর ট্যাক্স আরোপ করা হোক।জনগন নিজের রক্ত বেচে ট্যাক্স দেবে। তবুও এক পয়সা ট্রানজিট মাশুল নেয়া ঠিক হবে না।
কারন,
যেখানে,
১) প্রতিদিন লাখ লাখ কাশির সিরাপ সাপ্লাই দিয়ে বাংলাদেশকে কাশি মুক্ত বানানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের যুব সমাজকে ইনসমনিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভারতের অবদান অনস্বিকার্য।
২)সীমান্তে প্রায় দিনই আমাদের জনসংখা কমানোর একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের বীর সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বি এস এফ।
৩)রেড মিট স্বাস্থের জন্য কত ক্ষতিকর,তা আমরা না বুঝলেও ভারত বুঝে।তাই ভারত তাদের দেশ থেকে গরু দিচ্ছে না, পাশাপাশি আমাদের হার্ট,রক্তচাপ,কিডনী ইত্যাদি অংগ-প্রতঙ্গ সুস্থ রাখাতে কি যে উপকার করছে তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে?
এছাড়া ভারতের আরো কত যে অবদান আছে,তার কি কোনো ইয়ত্তা আছে?এগুলো লিখতে গেলে পোষ্ট অনেক বড় হয়ে যাবে।
সুতরাং এমন অকৃত্রিম বন্ধুর থেকে ট্রানজিট মাশুল নেয়া অসভ্যতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধই বটে।
সুতরাং গতকাল ফ্রান্সে বর্বরতার হামলার প্রতিবাদে যেভাবে অনেকে # ট্যাগ লাগাইছেন #আমিই ফ্রান্স। ভারত থেকে ট্রানজিট মাশুল নেয়ার প্রতিবাদে, আসুন সবাই #আমিই ভারত লাগাই।
তাছাড়া কিছুদিন আগে এক রুপি প্রতীকী মাশুল দিয়ে ট্রানজিট নিল ভারত। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক সড়কপথে ঢাকা হয়ে ত্রিপুরার আগরতলা গেল। এটি পরীক্ষামূলক চালান। তাই প্রতীকী মাশুল হিসেবে এক রুপি নিয়েছে বাংলাদেশের শুল্ক বিভাগ।
এক রুপিতে ট্রানজিট!
এ নিয়ে ভারতের ট্রাক ড্রাইভারদের ভিতরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
(নিচের অংশটুকু ফেসবুক থেকে কপি-পেষ্ট)
১.
[কলকাতার দুই ট্রাক ড্রাইভারের কথোপকথন]
ভূপেন: হ্যাঁরে নগেন, কোতায় গিয়েচিলি বল দিকিনি?
---নগেন: আগরতলা থেকে এলুম দাদা, বাংলাদেছ হয়ে
ভূপেন: তা কেমন লাগলো?
---নগেন: আর বলিস না দাদা। বাংলাদেছে ঢুকতেই বাঙালগুলো মাশুল না কি যেন বলে পুরো এএএএএএএক টাকা রেখে দিলো! (এক উচ্চারণের সময় চার আলিফ টান হবে)
ভূপেন: বলিস কিরে!!!! পুরো এএএএএএএএএক টাকা?!!!!!!!! এ যে দিনে দূপুরে ডাকাতি!!!! এমন অনাচার যে ভগবানও সইবে না
---নগেন: তবে আর বলচি কি? ভেবে দেখ; এক টাকার মুড়ি দিয়ে পুরো এক বেলার জলখাবার হয়ে যায়। ........ দূঃখে দুবেলা মুখে অন্ন ওটেনি আমার।
ভূপেন: থাক, দুক্কু করিশনে। পরেরবার কোলকাতায় এলে দিদিকে নিচ্চই কত্তাবাবুরা আচ্ছা করে বকে দেবে। হয়তো তখন তোর এক টাকা ফেরতও দিতে পারে।
---নগেন: ভগবানের কাছে সেই প্রাত্তনাই কচ্চি।
২.
[উচ্চতর পাটিগণিত]
দেশে এক টাকার কয়েনের যথেষ্ট ঘাটতি থাকায়, এক টাকার পরিবর্তে সমমূল্যের একটি "লেবেনচুশ"কে এক টাকা ধরিয়া লইয়া নিচের অংকটি সমাধান করুন-
আগরতলা হইতে কলিকাতাগামী প্রতিটি ট্রাকের শুল্ক মাশুল একটি লেবেনচুশ হইলে, উক্ত পথে অর্জিত আয়বাবদ প্রাপ্ত সকল "লেবেনচুশ" বিক্রয় করিয়া বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাইতে কত বছর লাগিবে?
সংগৃহিতঃ Abul Abuilla
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



