somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুয়েতঃ ২০১৪ নিয়ে কে ভয়ে আছে?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কুয়েত সম্পর্কে একটি অবাক করা বর্ণনা জেনে নেই যা ইমাম মাহদি বিষয়ক একটি গ্রন্থে। বর্ণনাটি নিম্নরূপঃ

“মেরুদণ্ডের সর্বশেষ হাড়ের চেয়েও ছোট হাড়ের ন্যায় একটি ভূখণ্ড যুদ্ধের কারণ হবে। সারা বিশ্ব তার জন্য এমনভাবে একত্র হবে যেন সেই ক্ষুদ্র ভূখণ্ড বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভূখণ্ড আর তাকে পাওয়ার জন্য সারা বিশ্ব এক হয়েছে। সেই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের শাসক পৃথিবীর সকল ফিতনা সৃষ্টিকারী শাসকদের নেতার কাছে তার পতাকাকে সমর্পণ করবে, যে (ফিতনা সৃষ্টিকারী শাসকদের নেতা) কিনা সর্ব পশ্চিমের সুদূরবর্তী সমুদ্র উপকূলবর্তী ভূখণ্ড থেকে আসবে। আর তখন এটাই হবে শেষের (শেষ জামানার) শুরু যেহেতু সে (ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের শাসক) গোটা বিশ্বের কাছে তার (ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের) সাহায্যের জন্য আর্জি জানাবে। সে (ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের শাসক) আবার তার সিংহাসন ফিরে পাবে আর এর মোকাবিলায় ইরাকের শেষ জামানা সম্পর্কিত ধ্বংস শুরু হবে। ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের সেই শাসক ইমাম মাহদির সৈন্য বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং সেই ক্ষুদ্র ভূখণ্ড আবার হুমকির সম্মুখীন হবে যেহেতু এর শাসক অনেক ফেতনার কারণ। ইমাম মাহদি এই (ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের) শাসককে হত্যার নির্দেশ দিবে এবং সেই ক্ষুদ্র হাড়টি (ক্ষুদ্র ভূখণ্ড) মূল শরীরে (মূল ভূখণ্ডে) ফেরত আসবে”।

(আসমাল মাসালিক লিয়্যাম মাহাদিয়্যা মালিকি লি কুল্লু-ইদ দুনিয়া বি ইম্রিল্লাহিল মালিক, লেখকঃ কালদা বিন জায়েদ বিন বারাকা)

১৯৯০ সালের ২ রা আগস্ট ইরাক কুয়েত (তাছাড়া কুয়েতি দিনার পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান নোট) দখল করে নেয় এবং ১৯ তম প্রদেশ হিসাবে ঘোষণা করে। ইরাক যুক্তি হিসাবে দেখায়, “Kuwait was a natural part of Iraq carved off as a result of British imperialism”।

একই দিন সর্ব পশ্চিমের সুদূরবর্তী সমুদ্র উপকূলবর্তী ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থানরত তৎকালীন কুয়েতি রাষ্ট্রদূত শেখ সাউদ নাসির আল সাবাহ মিডিয়াকে জানায়ঃ “We have appealed to all our friends around the world, including the USA, to come to our aid and assistance; we would like to have military assistance in order to survive.”

নানা ঘটনার পরিক্রমা পেরিয়ে ১৯৯১ সালের ১৭ই জানুয়ারি বোমারু বিমানের মাধ্যমে বাগদাদ নগরীর উপর বোমা বর্ষণের মাধ্যমে শুরু হয় ইরাককে কুয়েত ছাড়ার জন্য বল প্রয়োগ। ৩৪ টি দেশের পদাতিক বাহিনীর অংশগ্রহণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী গঠন করা হয়। দেশসমূহঃ আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, গ্রীস, ইতালি, কুয়েত, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নাইজার, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পর্তুগাল, কাতার, দক্ষিন কোরিয়া, সৌদি আরব, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, সিরিয়া, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজে। ১৫ ই ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে পদাতিক আক্রমণ।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে জোটের নেতৃত্বদানকারী সর্ব পশ্চিমের সুদূরবর্তী সমুদ্র উপকূলবর্তী ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসক নেতা জর্জ বুশ কুয়েতকে মুক্ত ঘোষণা করে এবং ‘আল সাবাহ’ রাজ পরিবারকে সিংহাসন ফিরিয়ে দেয়। আর ইরাকের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দ্বার উন্মুক্ত হয়।

ইমাম মাহাদির আত্মপ্রকাশের পরে এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের রাজ বংশের আমিরের কার্যকলাপ, তার শেষ পরিণতি এবং এই ভূখণ্ডের রঙ্গিন জাতীয়তাবাদের পতাকা ছেড়ে ইমাম মাহদির ‘খেলাফতের কালো কালিমা খচিত সাদা পতাকা’ কিংবা ‘সাদা কালিমা খচিত কালো সামরিক পতাকা’ অধীনে আসার ঘটনা এখন সময়ের ব্যাপার।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার যুদ্ধে ISIS (Islamic State of Iraq & Sham) এর মুজাহিদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা ও অগ্রসরতা দেখে কুয়েত আবার ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫,০০০ মার্কিন সৈন্য নিজ দেশে ঘাঁটি করার অনুমতি দেয় এবং বর্তমানে অবস্থান করছে।

২০১৪ এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ISIS ইরাকের আরও ৫ টি শহর ফাল্লুজা, রাওয়া, রামাদি, হিত ও মসুল - এ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে। বোঝাই যাচ্ছে, এই মুহূর্তে কোন রাজ পরিবারের ঘুম এখন হারাম !!!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×