somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসহাবে উখদূদের ঘটনা

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০০৫; আল মুসনাদুল জামে, হাদীস ৫৪০৫ অবলম্বনে ঘটনাটি নিম্নরূপঃ

"এক বাদশাহর একজন যাদুকর ছিল। যাদুতে সে খুবই পারদর্শী। যাদুকর বৃদ্ধ হলে পরে বাদশাহকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি, কখন মরে যাই তার ঠিক নাই, সুতরাং আমাকে একটা ছেলে এনে দাও। আমি তাকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিয়ে যাই।

বাদশাহ তার নিকট একটি বালক পাঠিয়ে দিল। যাদুকর সেই বালকটিকে যাদু শিখাতে লাগল। বালকটি যে পথে যাদুকরের নিকট আসত, সে পথে ছিল এক মুসলমান আলেমের দরবার। তিনি সেখানে ইবাদত করতেন। কখনো লোকদের ওয়াজ নসিহত করতেন। বালকটি সেখানে বসে আলেমের কথা শুনতো আর খুবই প্রভাবিত হত। যখনই সে ঐ পথে যাদুকরের নিকট যেত আলেমের নিকট বসত। কথা শুনত। এতে যাদুকরের নিকট যেতে তার দেরি হত। আর যাদুকর তাকে প্রহার করত।

এভাবেই চলছিল বালকের দিনকাল। একদিকে দ্বীনের আলো গ্রহণ করছে। অন্যদিকে শিখছে যাদুবিদ্যা।

একদিন বালকটি পথ চলছে। দেখল, বৃহদাকার এক প্রাণী পথ আগলে বসে আছে। মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে। বালকটি মনে মনে বলল, আজ দেখে নেব, আলেম শ্রেষ্ঠ না যাদুকর শ্রেষ্ঠ। সে একটি পাথর হাতে নিয়ে বলল, হে আল্লাহ! যদি আপনার নিকট যাদুকরের কাজের চেয়ে আলেমের কাজ প্রিয় হয় তাহলে এ পাথরের আঘাতে প্রাণীটিকে মেরে ফেলুন। এ বলে সে পাথরটি নিক্ষেপ করল। আর অমনিই প্রাণীটি মারা গেল। মানুষের পথ উন্মুক্ত হল। লোকজন চলাচল শুরু করল।

বালকটি আলেমের নিকট পৌঁছে এ ঘটনা শোনাল। আলেম তাকে বললেন, আজ থেকে তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ হয়ে গেছ। তুমি যে স্তরে পৌঁছেছ তা আমি বুঝতে পেরেছি। তবে, অচিরেই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। পরীক্ষার সম্মুখীন হলে আমার কথা প্রকাশ করে দিও না যেন।

তারপর থেকে বালকটি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে ভাল করতে লাগল। মানুষকে সকল ধরনের রোগ থেকে সুস্থ করতে লাগল। এদিকে বাদশাহর এক সঙ্গী ছিল অন্ধ। বালকের এ খবর তার নিকট পৌঁছল। সে অনেক উপঢৌকন নিয়ে বালকের নিকট আসল। সে বালকটিকে বলল, তুমি যদি আমায় সুস্থ করতে পার তবে এ যা দেখছ, সব তোমার। বালকটি বলল, আমি কাউকে সুস্থ করতে পারি না। আসলে সুস্থ করেন আল্লাহ তাআলা। যদি আপনি আল্লাহর উপর ঈমান আনেন আমি আল্লাহর নিকট আপনার জন্য দুআ করব। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দিবেন। বাদশাহর সেই সঙ্গী আল্লাহর উপর ঈমান আনলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ করে দিলেন।

বাদশাহর সেই সঙ্গী সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেন। পূর্বের মতো বাদশাহর দরবারে বসলেন। বাদশাহ বলল, তোমার দৃষ্টি শক্তি কে ফিরিয়ে দিল? সে বলল, আমার প্রতিপালক। বাদশাহ বলল, আমি ছাড়া তোমার অন্য প্রতিপালক আছে? সে বলল, আমার এবং আপনার প্রতিপালক হলেন আল্লাহ। এতে বাদশাহ চটে গেল। তাকে বন্দি করে নির্যাতন শুরু করল। একপর্যায়ে সে বালকটির কথা বলে দিল। বালকটিকে ডেকে আনা হল। বাদশাহ বালকটিকে বলল, হে বৎস! আমি জানলাম তুমি নাকি যাদু করে অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে তোল। আরো বিভিন্ন রোগ ভাল কর। বালকটি বলল, আমি কাউকে সুস্থ করতে পারি না। আসলে সুস্থ করেন আল্লাহ তাআলা। এতে বাদশাহ বালকটির উপরও চটে গেল । সে তাকে বন্দি করে নির্যাতন শুরু করল। একপর্যায়ে বালকটিও আলেমের কথা বলে দিল।

বাদশাহ আলেমকে ডেকে পাঠাল। আলেমকে আনা হল। আলেমকে বলা হল, আপনি আপনার ধর্ম ত্যাগ করুন। ধর্ম থেকে ফিরে আসুন। আলেম তা অস্বীকার করলেন। তারপর বাদশাহর আদেশে একটি করাত আনা হল। আলেমের মাথায় করাত রেখে তাকে দ্বিখন্ডিত করা হল। তারপর বাদশাহর সঙ্গীকে আনা হল। তাকেও বলা হল, তুমি তোমার ধর্ম ত্যাগ কর। ধর্ম থেকে ফিরে আস। সে-ও ধর্ম ত্যাগ করতে অস্বীকার করল। তাকেও সেই করাত দ্বারা দ্বিখন্ডিত করা হল।

অবশেষে বালকটিকে আনা হল। তাকেও ধর্ম ত্যাগের কথা বলা হল। বালকটি অস্বীকার করল। বাদশাহ তাকে তার কয়েকজন লোকের হাতে দিয়ে বলল, তাকে নিয়ে ঐ পাহাড়ে যাও। যখন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছবে, তাকে ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলবে। যদি সে ধর্ম ত্যাগ করে তবে তো ভাল। আর যদি অস্বীকার করে তবে তাকে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ফেলে দেবে। তারা বালকটিকে নিয়ে পাহাড়ে আরোহন করল। বালকটি দোয়া করল, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে চান আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করুন। তখনই পাহাড়টি কাঁপতে লাগল। বালকটিকে যারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল সকলেই পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেল। বালকটি বাদশাহর নিকট ফিরে আসল।

বাদশাহ বালকটিকে দেখে আশ্চর্য হল। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করল, তোমাকে যারা নিয়ে গেল, তারা কোথায়? বালকটি বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর বাদশাহ বালকটিকে আরেক দল লোকের হাতে তুলে দিয়ে বলল, একে একটি বড় নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে যাবে। যদি সে তার ধর্ম পরিত্যাগ করে তবে তো ভাল। নচেৎ তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে আসবে। তারা বালকটিকে নিয়ে মাঝ নদীতে গেল। তখন বালকটি আল্লাহর নিকট দুআ করল, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে চান আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করুন। এতে নৌকা একেবারে কাত হয়ে গেল। তারা সবাই ডুবে গেল। আর বালকটি সুস্থ দেহে ফিরে আসল।

বালকটি বাদশাহর কাছে আসলে বাদশাহ বলল, তোমাকে যারা নিয়ে গেল তারা কোথায়? বালকটি বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর বালকটি বাদশাহকে বলল, আপনি যতই চেষ্টা করেন আমাকে হত্যা করতে পারবেন না। তবে আমি যেভাবে বলি যদি তা করতে পারেন, আমাকে হত্যা করতে পারবেন। বাদশাহ বলল, তা কীভাবে? সে বলল, খোলা ময়দানে সকল মানুষকে একত্রিত করুন। তারপর আমাকে একটি খেজুর ডালে বাধুন। আর আমার তূনীর থেকে একটি তীর নিয়ে ‘‘বালকটির রব আল্লাহর নামে’’ বলে তীরটি আমার দিকে নিক্ষেপ করুন। এতে আমার মৃত্যু হবে।

বাদশাহ সকল মানুষকে এক বিস্তীর্ণ ময়দানে একত্রিত করল। এবং বালকটিকে একটি খেজুর ডালে বাধল। তারপর বালকটির তূনীর থেকে একটি তীর নিয়ে ‘‘বালকটির রব আল্লাহর নামে’’ বলে তার দিকে নিক্ষেপ করল। তীরটি তার চোখ ও কানের মধ্যবর্তী স্থানে বিঁধল। সে তার হাতটি তীর বিধার স্থানে রাখল এবং মৃত্যুবরণ করল। এ দৃশ্য দেখে লোকেরা বলতে লাগল, আমরাও বালকটির রব আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। আমরাও বালকটির রব আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।

এ ঘটনা দেখে বাদশাহর লোকজন তার নিকট গিয়ে বলল, আপনি যেই আশঙ্কা করেছিলেন তাই ঘটল। সব লোক বালকটির রবের উপর ঈমান এনেছে। পরে বাদশাহ গলির প্রবেশপথগুলোতে বড় বড় গর্ত খননের আদেশ দিল। গর্ত খনন করা হল। এবং তাতে অগ্নি প্রজ্বলিত করা হল। তারপর বাদশাহ হুকুম দিল, যারা আল্লাহর ওপর ঈমান ত্যাগ করবে না তাদেরকে এ আগুনে নিক্ষেপ কর। আগুনে পুড়িয়ে মার। অথবা যে ধর্ম ত্যাগ করবে না সে যেন আগুনে ঝাঁপ দেয়। বাদশাহর লোকেরা তাই করল। একে একে আল্লাহ্-বিশ্বাসী বান্দারা আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছিল। আর শাহাদাতের সুধা পান করছিল। আর অগ্নিকুন্ডের অধিপতিরা তা দেখছিল। এক মহিলার পালা এলো। তার কোলে ছিল দুধের শিশু। শিশুর মায়ায় সে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেরি করছিল। তখন তার কোলের শিশুটি মুখ খুলল। সে বলল, মা তুমি ধৈর্য ধর। তুমি সত্যের পথেই আছ। "

আজ তারা দুনিয়ায় নেই। সেই বিশ্বাসী মুমিন বান্দারাও নেই, যারা ঈমানের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়েছে। অগ্নিকুন্ডের অধিপতিরাও নেই, যারা শুধু আল্লাহর উপর ঈমান আনার কারণে মুমিনদেরকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করেছিল। আর যারা পাশে বসে তাদের মৃত্যু-যন্ত্রণা অবলোকন করেছে, তারা কেউ আজ নেই। কিন্তু এদের সবার পরিণতি কি এক?

নির্যাতিত-নিপীড়িত বিশ্বাসী মুমিনের পরকাল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শান্তি, সম্মান ও সুখের। আর অগ্নিকুন্ডের অত্যাচারী অধিপতিরা দুঃসহ অনন্ত আগুনে পুড়ে মরছে। তাই তারা আজ ইতিহাস হয়ে আছে। হয়ে আছে ইতিহাসের শিক্ষা।

মুমিন পুরুষ ও মুমিন স্ত্রীলোকদের মনে রাখা উচিত, নিশ্চয়ই আমাদের নামাজ, আমাদের কুরবানি (আল্লাহ রাহে কষ্ট সহ্য), আমাদের জীবন ও আমাদের মৃত্যু একমাত্র আল্লাহর জন্য।ঘটনাটি আসহাবে উখদূদের ঘটনা হিসেবে প্রসিদ্ধ।

সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০০৫; আল মুসনাদুল জামে, হাদীস ৫৪০৫ অবলম্বনে ঘটনাটি নিম্নরূপঃ

"এক বাদশাহর একজন যাদুকর ছিল। যাদুতে সে খুবই পারদর্শী। যাদুকর বৃদ্ধ হলে পরে বাদশাহকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি, কখন মরে যাই তার ঠিক নাই, সুতরাং আমাকে একটা ছেলে এনে দাও। আমি তাকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিয়ে যাই।

বাদশাহ তার নিকট একটি বালক পাঠিয়ে দিল। যাদুকর সেই বালকটিকে যাদু শিখাতে লাগল। বালকটি যে পথে যাদুকরের নিকট আসত, সে পথে ছিল এক মুসলমান আলেমের দরবার। তিনি সেখানে ইবাদত করতেন। কখনো লোকদের ওয়াজ নসিহত করতেন। বালকটি সেখানে বসে আলেমের কথা শুনতো আর খুবই প্রভাবিত হত। যখনই সে ঐ পথে যাদুকরের নিকট যেত আলেমের নিকট বসত। কথা শুনত। এতে যাদুকরের নিকট যেতে তার দেরি হত। আর যাদুকর তাকে প্রহার করত।

এভাবেই চলছিল বালকের দিনকাল। একদিকে দ্বীনের আলো গ্রহণ করছে। অন্যদিকে শিখছে যাদুবিদ্যা।

একদিন বালকটি পথ চলছে। দেখল, বৃহদাকার এক প্রাণী পথ আগলে বসে আছে। মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে। বালকটি মনে মনে বলল, আজ দেখে নেব, আলেম শ্রেষ্ঠ না যাদুকর শ্রেষ্ঠ। সে একটি পাথর হাতে নিয়ে বলল, হে আল্লাহ! যদি আপনার নিকট যাদুকরের কাজের চেয়ে আলেমের কাজ প্রিয় হয় তাহলে এ পাথরের আঘাতে প্রাণীটিকে মেরে ফেলুন। এ বলে সে পাথরটি নিক্ষেপ করল। আর অমনিই প্রাণীটি মারা গেল। মানুষের পথ উন্মুক্ত হল। লোকজন চলাচল শুরু করল।

বালকটি আলেমের নিকট পৌঁছে এ ঘটনা শোনাল। আলেম তাকে বললেন, আজ থেকে তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ হয়ে গেছ। তুমি যে স্তরে পৌঁছেছ তা আমি বুঝতে পেরেছি। তবে, অচিরেই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। পরীক্ষার সম্মুখীন হলে আমার কথা প্রকাশ করে দিও না যেন।

তারপর থেকে বালকটি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে ভাল করতে লাগল। মানুষকে সকল ধরনের রোগ থেকে সুস্থ করতে লাগল। এদিকে বাদশাহর এক সঙ্গী ছিল অন্ধ। বালকের এ খবর তার নিকট পৌঁছল। সে অনেক উপঢৌকন নিয়ে বালকের নিকট আসল। সে বালকটিকে বলল, তুমি যদি আমায় সুস্থ করতে পার তবে এ যা দেখছ, সব তোমার। বালকটি বলল, আমি কাউকে সুস্থ করতে পারি না। আসলে সুস্থ করেন আল্লাহ তাআলা। যদি আপনি আল্লাহর উপর ঈমান আনেন আমি আল্লাহর নিকট আপনার জন্য দুআ করব। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দিবেন। বাদশাহর সেই সঙ্গী আল্লাহর উপর ঈমান আনলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ করে দিলেন।

বাদশাহর সেই সঙ্গী সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেন। পূর্বের মতো বাদশাহর দরবারে বসলেন। বাদশাহ বলল, তোমার দৃষ্টি শক্তি কে ফিরিয়ে দিল? সে বলল, আমার প্রতিপালক। বাদশাহ বলল, আমি ছাড়া তোমার অন্য প্রতিপালক আছে? সে বলল, আমার এবং আপনার প্রতিপালক হলেন আল্লাহ। এতে বাদশাহ চটে গেল। তাকে বন্দি করে নির্যাতন শুরু করল। একপর্যায়ে সে বালকটির কথা বলে দিল। বালকটিকে ডেকে আনা হল। বাদশাহ বালকটিকে বলল, হে বৎস! আমি জানলাম তুমি নাকি যাদু করে অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে তোল। আরো বিভিন্ন রোগ ভাল কর। বালকটি বলল, আমি কাউকে সুস্থ করতে পারি না। আসলে সুস্থ করেন আল্লাহ তাআলা। এতে বাদশাহ বালকটির উপরও চটে গেল । সে তাকে বন্দি করে নির্যাতন শুরু করল। একপর্যায়ে বালকটিও আলেমের কথা বলে দিল।

বাদশাহ আলেমকে ডেকে পাঠাল। আলেমকে আনা হল। আলেমকে বলা হল, আপনি আপনার ধর্ম ত্যাগ করুন। ধর্ম থেকে ফিরে আসুন। আলেম তা অস্বীকার করলেন। তারপর বাদশাহর আদেশে একটি করাত আনা হল। আলেমের মাথায় করাত রেখে তাকে দ্বিখন্ডিত করা হল। তারপর বাদশাহর সঙ্গীকে আনা হল। তাকেও বলা হল, তুমি তোমার ধর্ম ত্যাগ কর। ধর্ম থেকে ফিরে আস। সে-ও ধর্ম ত্যাগ করতে অস্বীকার করল। তাকেও সেই করাত দ্বারা দ্বিখন্ডিত করা হল।

অবশেষে বালকটিকে আনা হল। তাকেও ধর্ম ত্যাগের কথা বলা হল। বালকটি অস্বীকার করল। বাদশাহ তাকে তার কয়েকজন লোকের হাতে দিয়ে বলল, তাকে নিয়ে ঐ পাহাড়ে যাও। যখন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছবে, তাকে ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলবে। যদি সে ধর্ম ত্যাগ করে তবে তো ভাল। আর যদি অস্বীকার করে তবে তাকে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ফেলে দেবে। তারা বালকটিকে নিয়ে পাহাড়ে আরোহন করল। বালকটি দোয়া করল, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে চান আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করুন। তখনই পাহাড়টি কাঁপতে লাগল। বালকটিকে যারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল সকলেই পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেল। বালকটি বাদশাহর নিকট ফিরে আসল।

বাদশাহ বালকটিকে দেখে আশ্চর্য হল। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করল, তোমাকে যারা নিয়ে গেল, তারা কোথায়? বালকটি বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর বাদশাহ বালকটিকে আরেক দল লোকের হাতে তুলে দিয়ে বলল, একে একটি বড় নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে যাবে। যদি সে তার ধর্ম পরিত্যাগ করে তবে তো ভাল। নচেৎ তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে আসবে। তারা বালকটিকে নিয়ে মাঝ নদীতে গেল। তখন বালকটি আল্লাহর নিকট দুআ করল, হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে চান আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করুন। এতে নৌকা একেবারে কাত হয়ে গেল। তারা সবাই ডুবে গেল। আর বালকটি সুস্থ দেহে ফিরে আসল।

বালকটি বাদশাহর কাছে আসলে বাদশাহ বলল, তোমাকে যারা নিয়ে গেল তারা কোথায়? বালকটি বলল, আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর বালকটি বাদশাহকে বলল, আপনি যতই চেষ্টা করেন আমাকে হত্যা করতে পারবেন না। তবে আমি যেভাবে বলি যদি তা করতে পারেন, আমাকে হত্যা করতে পারবেন। বাদশাহ বলল, তা কীভাবে? সে বলল, খোলা ময়দানে সকল মানুষকে একত্রিত করুন। তারপর আমাকে একটি খেজুর ডালে বাধুন। আর আমার তূনীর থেকে একটি তীর নিয়ে ‘‘বালকটির রব আল্লাহর নামে’’ বলে তীরটি আমার দিকে নিক্ষেপ করুন। এতে আমার মৃত্যু হবে।

বাদশাহ সকল মানুষকে এক বিস্তীর্ণ ময়দানে একত্রিত করল। এবং বালকটিকে একটি খেজুর ডালে বাধল। তারপর বালকটির তূনীর থেকে একটি তীর নিয়ে ‘‘বালকটির রব আল্লাহর নামে’’ বলে তার দিকে নিক্ষেপ করল। তীরটি তার চোখ ও কানের মধ্যবর্তী স্থানে বিঁধল। সে তার হাতটি তীর বিধার স্থানে রাখল এবং মৃত্যুবরণ করল। এ দৃশ্য দেখে লোকেরা বলতে লাগল, আমরাও বালকটির রব আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। আমরাও বালকটির রব আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।

এ ঘটনা দেখে বাদশাহর লোকজন তার নিকট গিয়ে বলল, আপনি যেই আশঙ্কা করেছিলেন তাই ঘটল। সব লোক বালকটির রবের উপর ঈমান এনেছে। পরে বাদশাহ গলির প্রবেশপথগুলোতে বড় বড় গর্ত খননের আদেশ দিল। গর্ত খনন করা হল। এবং তাতে অগ্নি প্রজ্বলিত করা হল। তারপর বাদশাহ হুকুম দিল, যারা আল্লাহর ওপর ঈমান ত্যাগ করবে না তাদেরকে এ আগুনে নিক্ষেপ কর। আগুনে পুড়িয়ে মার। অথবা যে ধর্ম ত্যাগ করবে না সে যেন আগুনে ঝাঁপ দেয়। বাদশাহর লোকেরা তাই করল। একে একে আল্লাহ্-বিশ্বাসী বান্দারা আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছিল। আর শাহাদাতের সুধা পান করছিল। আর অগ্নিকুন্ডের অধিপতিরা তা দেখছিল। এক মহিলার পালা এলো। তার কোলে ছিল দুধের শিশু। শিশুর মায়ায় সে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেরি করছিল। তখন তার কোলের শিশুটি মুখ খুলল। সে বলল, মা তুমি ধৈর্য ধর। তুমি সত্যের পথেই আছ। "

আজ তারা দুনিয়ায় নেই। সেই বিশ্বাসী মুমিন বান্দারাও নেই, যারা ঈমানের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়েছে। অগ্নিকুন্ডের অধিপতিরাও নেই, যারা শুধু আল্লাহর উপর ঈমান আনার কারণে মুমিনদেরকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করেছিল। আর যারা পাশে বসে তাদের মৃত্যু-যন্ত্রণা অবলোকন করেছে, তারা কেউ আজ নেই। কিন্তু এদের সবার পরিণতি কি এক?

নির্যাতিত-নিপীড়িত বিশ্বাসী মুমিনের পরকাল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শান্তি, সম্মান ও সুখের। আর অগ্নিকুন্ডের অত্যাচারী অধিপতিরা দুঃসহ অনন্ত আগুনে পুড়ে মরছে। তাই তারা আজ ইতিহাস হয়ে আছে। হয়ে আছে ইতিহাসের শিক্ষা।

মুমিন পুরুষ ও মুমিন স্ত্রীলোকদের মনে রাখা উচিত, নিশ্চয়ই আমাদের নামাজ, আমাদের কুরবানি (আল্লাহ রাহে কষ্ট সহ্য), আমাদের জীবন ও আমাদের মৃত্যু একমাত্র আল্লাহর জন্য।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×