আমরা যারা মোটামুটি দেশের অর্থনীতির খবরাখবর নিয়ে একটু মাথা নষ্ট করি তারা কম বেশি দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়েও চিন্তা করি। কিন্তু কেউ কি কখন ঐ সব ব্যাংকে যারা দিনরাত পরিশ্রম করে সে সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের খবর রাখে তাদের মানসিক অবস্থার কোন খোজখবর নেয়।আজ আমি আমার এক বন্ধু ব্যাংকার এর মাধ্যমে ভিতর খবর জেনে রিতীমত অবাক হয়েছি।কিভাবে একজন অফিসারকে প্রতিনিয়ত ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগ বোকার মত সিদ্ধান্ত নিয়ে অফিসারদের মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে। বেসরকারী খাতের একটা মোটামুটি তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংক ট্রাষ্ট ব্যাংক বিগত বেশ ক বছর ধরে বেসরকারী ব্যাংক খাতে বেশ সুনাম নিয়ে কাজ করছে। এরকম একটা ব্যাংক কিভাবে তার অফিসারদের প্রতিনিয়ত ঠকায় তার একটা চিত্র তুলে ধরব। কিছুদিন আগে আমি আমার এক ব্যাংকার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম তার একটা প্রমোশন হয়েছে কিন্তু তাতে তার মন খুব খারাপ, কারণ জানতে চাওয়ার সে যা বলল তা শুনে আমি রিতীমত অবাক হলাম। সে বলল আমাদের ৮ মাসের জুনিয়ররা আমাদের চেয়ে ৬ মাসের সিনিয়র হয়েছে সেজন্য মন খারাপ। মোটামুটিভাবে প্রায় ১২৯ জন অফিসার এরকম একটা ভিকটিম কিন্তু ম্যানেজম্যান্ট কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। মাত্র ৫০/৬০ জন অফিসারকে এ ধরনের সুবিধা দিতে গিয়ে ১২৯ জন অফিসারের সাথেেএ অমানবিকতা খুব কষ্টের। বিষয়টা আমি বিস্তারিত জানার জন্য তাদের HR পলিসিটা বেশ কয়েকবার পড়লাম। সেখানে দেখা গেল তাদের প্রমোশন গ্রেড ২ ভাগে বিভক্ত অক্টোবর থেকে মার্চ এবং এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর। অন্যদিকে ঔ নির্দিষ্ট গ্রেডের জন্য ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর প্রোমোশন এর নিয়ম করা হয় ফলে যারা ২০১২ সালে জুন বা জুলাই মাসে চাকরিতে যোগদান করেছেন তারা ২০১৫ সালের ২য় স্লাবে বিবেচিত হচ্ছেন অন্যদিকে যারা ২০১৩ সালে জানুয়ারী সময়ে যোগদান করেছেন তারা ২০১৫ সালের ১ম স্লাবে বিবেচিত হচ্ছেন অর্থ্যাৎ ২০১২ সালে যোগদার করা সত্বেও যারা ২০১৩ সালে চাকরিতে যোগদান করতেছেন তারা সিনিয়র হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছেন যা চরম ভূল। বিষয়টা নিয়ে আমি কথা বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ গবেষক ড. গোলাম রব্বানী স্যারের সাথে তিনি সব কিছু শুনে এটা বোকামী এবং এখন এটা সংশোধন করে নতুন করে করার কথা বলেন তার মতে কর্মক্ষেত্রে সিনিয়ররা যদি জুনিয়র মর্যদায় চলে যায় তবে সে প্রতিষ্ঠানে ভারসম্য বিনষ্ট হয় এবং কর্মক্ষেত্রে চরম বিশৃক্খলা তৈরির আশংকা থাকে। এছাড়া BIBM এর কয়েকজন শিক্ষক এটাকে HR এর ব্যর্থতার কথা বললেন তাদের মতে আইন হলেও সেটা যদি প্রয়োগ করার সময় কোন ত্রুটি ধরা পড়ে তখন তা সংশোধন করা উচিত। কে জানে যারা সুবিধাপ্রাপ্ত হলো তারা কোন বিশেষ ব্যাক্তির আত্বীয় স্বজন কিনা। তা না হলে এমন একটা ঘটনা কিভাবে এত বড় প্রতিষ্ঠানে ঘটে সেটা বুঝতে পারছে না।এমনিতে ট্রাষ্ট ব্যাংকের বর্তমান HR অফিসারেরা খুব বেশি ভাল ব্যাকগ্রাউন্ডের নয় বলে জানতে পেরেছি। কেউ মার্কেটিং করতেন কেউ রহিমআফরোজ কেউ ওষধ কোম্পানীতে চাকরি করতেন এমনকি বেশিরভাগ HR এর অফিসারেরা ব্যাংকের নিজস্ব ট্রেনিং গুলোতে কোন মতে পাশ করে। এমন একটা ব্যাংকের HR এর অবস্থা এই হলে পুরো ব্যাংকের অবস্থাটা সহজে অনুমেয়।
২য় পর্বে ট্রাষ্ট ব্যাংকের ভিন্ন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
আগামীতে অন্য কোন ব্যাংকের এরকম নাড়ির খবর জানাব সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



