somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলুন শ্রমিকের পাশে দাড়াই

১৩ ই মে, ২০১৩ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের উপমহাদেশ বা ইউরোপ-আমেরিকা বলে কোন কথা নেই। গোটা পৃথিবীই এখন সামন্তবাদীদের দখলে। মানুষের যেমন শ্রেনী বিভাজন হয়েছে ঠিক তেমনি তাদের কাজও বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত হয়েছে। যারা শ্রমিক শ্রেনীর তার মজুরী(ওয়েজ) পাচ্ছেন আর যারা সাহেব সুবা তারা বেতন(সেলারী) পাচ্ছেন। পশ্চিমারা অবশ্য ভদ্রভাবে বিষয়টাতে একটা শৈল্পিক মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছেন। তারা বলছেন হোয়াইট কলার জব আর ব্লু কলার জব। খুভ সাভাবিক ভাবেই হোয়াইট কলাররা বেতন পাচ্ছেন। আর ব্লু কলারধারীরা ‍মজুরী পাচ্ছেন। এখন কথা হল এই হোয়াইট আর ব্লু কে নির্ধারন করেছেন? বিষয়টা নিঃসন্দেহে অনেক গভীরের । তবে সোজা দাগে শ্রমিকরা মজুরী পান তাদের ঘন্টা প্রতি কাজের বিনিময়ে। আর যারা শ্রমিক নন তারা বেতন পান মাসিক,বাৎসরিক/পাক্ষিক ভিত্তিতে। প্রশ্ন আসতে পারে যারা শ্রম দেন তারাইত শ্রমিক? কেউ হয়তো কায়িক পরিশ্রম করেন অথবা কেউ মগজ খাটান। তারপরও এত বিভাজন কেন? বিষয়টা খোদ কার্ল মার্কসও সমাধান দিতে পারেন না। আমরা মানুষরাই কিন্তু মানুষদের শোষন করছি, অবহেলা করছি,অপমান করছি। কেন করছি এর উত্তর মানুষকেই দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমিকদরে ত্রাহি দশা। এদের সামাজিক কোন মূল্য নেই, রাষ্ট্রে এরা অবহেলিত এমনকি নূন্যতম মজুরী বলে যে একটা বস্তু আছে সেখোক থেকেও তারা বঞ্চিত। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১২২ ধারায় বলা হয়েছে, “ কোন মজুরী কাল এক মাসের উধে হবে না। আবার ১২৩ ধারায় বলা হয়েছে ”কোন শ্রমিকের যে মজুরীকাল সম্পকে তাহার মজুরী প্রদেয় হয় সেই কাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাহার মজুরী পরিশোধ করিতে হইবে”। এইবার বুঝেন!! সেদিনও দেখলাম সাভার রানা প্লাজার সামনে ৪ মাসের বেতন নিতে শ্রমিকের লম্বা লাইন !!! আমি বাংলাদেশে শ্রমিকদরে অধিকার নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা যে কত খারাপা তা কল্পনাও করা যায় না। আমাদের এই হতদরিদ্র শ্রমিকরা সব দিক থেকেই বঞ্চিত। সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সব ক্ষেত্রেই এরা চরম বৈষম্যের শিকার। এর জন্য যে আমরা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষরাই দায়ী তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। চলুন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাই। শ্রমিকদরে প্রতি শ্রদ্ধা করতে শিখি। তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য সামাজিক বিপ্লব ঘটাই। কাজটা কি খুব কঠিন? শুধু প্রয়োজন আত্বসচেতনতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার মনোবৃত্তি চর্চা। আপনার আদর মাখা হাতটা মানুষের জন্য বাড়িয়ে দিন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×