somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কান্না

০৬ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেশে একটা সস্তা ডায়লগ আছে, সন্তান না কাঁদলে নাকি ‘মা’ ও দুধ দেয় না। মা কে নিয়ে এই জঘন্য প্রবাদটা দেশের বেশিরভাগ মানুষেই বিশ্বাস করে। আসল ঘটনা হল, মা তার সন্তানকে না চাইতেই শুধু দুধ কেন প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেয়। তবে হ্যাঁ, অনেক সময় তাকে সন্তানের মঙ্গলের জন্য অন্যান্ন কাজের চাপে ব্যস্ত থাকলে, সন্তান কেঁদেঊঠে তাকে মনে করিয়ে দেয়। মায়েরা তাই সজাগ থাকে যেন কাঁদার আগেই যেন সন্তানের খাবার-টুকু মুখে তুলে দেয়া যায়। তাই মা সম্পর্কে এই প্রবাদের কোন ভিত্তি নাই। বরং আমরাই ওরকম। কেউ চিৎকার করে না কাঁদলে আমরা সাধারণত কিছু দেই না।


কিছু উদাহরন দেই,

প্রথমে ছোটখাটো কান্নাকাটির উদারনঃ

মহাখালীর মোড়ে প্রায় এক ডজন হুজুর (চেহারায়) , বিভিন্ন কাল্পনিক মসজিদের নামে চাঁদা তুলে ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়ে ফেলছে, অথচ সত্যিকারের ধর্মপ্রাণ বহু হুজুর বিনা বেতনে মসজিদ গুলোতে কাজ করছে, তাদের কান্না না থাকায় আমরা কিছু দিচ্ছি না।

গুলশান মোড়ে টাইম শিডিউল কিনে প্রফেশনাল ভিক্ষুকরা বিপুল কালেকশন করছে অথচ সত্যিকারে দুস্থ ও অক্ষমেরা গ্রামাঞ্চলে অসহায় অবস্থায় পড়ে আছে।


মাঝারী লেভেলের কান্নাকাটি:


রানা প্লাজার দুর্গতদের কান্নাকাটি দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ সাভারে হাজির হল, কোটি কোটি টাকা কালেকশন হল, এখন আহাজারি কম শোনা যাচ্ছে বলে কিন্তু পুনর্বাসনের টাকা আদৌ কেউ পেল কি না, সেই নিয়ে আমাদের কারো মাথা ব্যথা নাই।


এই অবস্থা শুধু ভবন ধসের ক্ষেত্রে না, সব লঞ্চ/ বাস/ট্রেন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই। একেকটা দুর্ঘটনায় যখন সারি সারি লাশ দেখা যায়, স্বজনদের কান্নাকাটিতে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে যায়, তখন হ্যান করতে হবে ত্যান করতে হবে বলে রব ওঠে। বাস্তব সত্যি হচ্ছে কোন দুর্ঘটনার জন্য কারো শাস্তি হয় না, কোন নতুন নিয়ম হয় না বা কেউ ক্ষতি পূরণ পায় না, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না, কারণ তখন তো আর কান্না কানে আসছে না।


বড় অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ের কান্নাকাটি:


কোন কোন সময় পুরো দেশ কাঁদে। কান্না থেমে গেলে সেটাও ভুলে যাই। যেমন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের এই জাতির কান্না খুব দ্রুতই ভুলে গেছি। স্বৈরাচারের নিপীড়ন ভুলে তাকে এখন স্নেহের চোখেই দেখি। শেয়ার বাজারে ধ্বসের কিছুদিন পরেই খল-নায়কদের হাতে দেশের টাকা-পয়সার দায়িত্ব দিয়ে দেই।

আমাদের হৃদয় পাষাণের মত, চোখের জলে কিছুক্ষণের জন্য ভিজে যায় মাত্র। পাষাণের উপর জল খুব দ্রুতই শুকায়।






সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৫৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×