somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণতন্ত্রের স্বাধীনতা আর আপনাদের গণতন্ত্র

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গণতন্ত্র, খায় না মাথায় দেয় সেটা আমি এখনোবুঝি না, এই সরল চোখে যা দেখি তারই প্রেক্ষিতে কিছু বাঁকা প্রশ্ন মনের মধ্যে জেগে ওঠেঃ গণতন্ত্রটা আসলে কী? কাদের জন্য এটা? এর মূল্য কত? জীবনের থেকেও এর মূল্য বেশি? যে মানুষটা দিন আনে দিন খায় তার এক বেলা খাবারের থেকেও বেশি? যে বোনটা তার বাবার অপারেশনের টাকার জন্য আমাদের মুখের দিকে এক বুক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে তার প্রয়োজনের থেকেও বেশি?
নাহ,সেটাই হয়তো বেশি দামি, যে নরম তুলতুলে গদিতে বসে আপনারা এয়ার কন্ডিশনের ঠান্ডা বাতাস খান। ঐ যে এ্যাডে বলে না, “জিনিস যেইটা ভালো দাম তার একটু বেশিই”।
গণতন্ত্র আজ ইট আর বালু ভর্তি ট্রাকের ব্যারিকেডে বন্দী নাকি হাজারো পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবদ্ধ আমি জানি না।গণতন্ত্রের জন্য আজ থেকে নাকি গাড়ির চাকা ঘুড়বে না।সে অনুসারে গণতন্ত্রের মানে দাঁড়ায় আজ থেকে গরীবের পেট অবরোধ পালন করবে,খাবার চাইবে না,ক্ষুধায় যন্ত্রণা দিবে না(!),কারো অসুখ হলে হাসপাতালে যেতে হবে না। চুলোয় যাও তুমি,তোমাকে দিয়ে কি হবে? আমাদের নাকি গণতন্ত্র চাই। শুনেছি গণতন্ত্র আজ থেকে নাকি টিয়ারশেল আর রাবার বুলেটে বিদ্ধ হবে আর ইট কিংবা পেট্রোল বোমায় দগ্ধ মানুষ রূপী মাংসের পিন্ডে রূপ নিবে। গণতন্ত্র নাকি আজ থেকে চেঁচিয়ে উঠছে পুলিশের নির্বিচার লাঠি চার্জে। আহ! গণতন্ত্র।

সুখবর!,গণতন্ত্র নাকি জীবিত আছে এত কিছুর পরেও। এই মাত্র টিভিতে শুনে এলাম,মন্ত্রী মশাই বললেন গণতন্ত্র নাকি বিশেষ পরিচর্যায় জীবিত আছে। গত বছর ৫জানুয়ারী উনারা তাকে বাঁচিয়েছেন। আমরা অশেষ কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে। গণতন্ত্র এখন কাঁচের দেয়ালে সুরক্ষিত। গণতন্ত্র সুরক্ষিত করা হয়েছে নতুন পে-স্কেলে। গণতন্ত্র আজ খুব শক্তিশালী আপনাদের রাজপথে শক্ত প্রতিরোধে। গণতন্ত্র আজ দুর্দান্ত গতি পেয়েছে জিহাদ,বিশ্বজিৎ,সাগর-রুনির অজস্র লাশের সারি পেরিয়ে। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে সামরিক-বেসামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। কেবল আমাদের জন্যই নাকি গণতন্ত্র বাঁচাতে এত আয়োজন।
তবে শুনুন, আপনাদের গণতন্ত্র যখন আপনাদের একই নাশতার টেবিলে গরম গরম পরোটার বুকে ওমলেট ডিমের ফেটে পরা কুসুমের মত লুটোপুটি খায় আর ধূমায়মান কফিতে চুমুক দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে তখন আমদের গণতন্ত্র গরম ভাতের টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মস্থলে ছুটে যায় অথবা চোখ মুছতে মুছতে ক্লাসে যায়। আপনাদের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় আপনার বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে বেয়াই সম্পর্ক পাতিয়ে আর আমাদের গণতন্ত্র এখনো পুলিশের হাতে মার খায় আবার কখনো পিকেটারের ছোঁড়া কক্টেল কিংবা বোমার বিষ্ফোরনে দগ্ধ হয়।একজন রিক্সাওয়ালার গণতন্ত্র সারাদিন পরিশ্রমের পর তার পেটে,রাজনীতির মাঠে নয়।

আমাদের কাছে গণতন্র ৪বছরের অনার্স ৬বছরে শেষ নয়।আমার কাছে গণতন্ত্রের মানে খুব শীঘ্রই ‘বাপের হোটেলের’ কাস্টমার থেকে মালিক হব,আমি সেই হোটেল চালাব।
আমি গণতন্ত্র বুঝি না, আমি স্বাধীনতা বুঝি, যা ৪৩ বছর আগে অনেক রক্ত বেঁচে কিনেছিলাম।দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ করে ৩০লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা এনেছিল কি আপনাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ক্ষমতার কাড়াকাড়ি করার জন্য? নাকি আপনাদের স্বাধীন ভাবে হরতাল অবরোধ দেওয়ার জন্য? এই যদি করবেন তাহলে পাকিস্তানই তো ভাল ছিল,এত কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করার কোন মানে হয়? ও বুঝেছি, আপনাদের ভাগে কম পরতো,তাই না? মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়ে গেলেন,আর আমরা এখনো গণতন্ত্রের জন্য গলা ফাটাচ্ছি।৪৩ বছরের একটি শিশু সুবৃহৎ উরু যুগলের চিপায় মুক্তির জন্যে আর্তনাদ আর পদাঘাত করে চলেছে,জরায়ু থেকে মাথা বের করে ক্রমাগত চিৎকার করছে মুক্তির জন্য। কিন্তু দুই বৃহৎ উরুর চাপে সে আর মুক্তি পাচ্ছে না।সে কেঁদেই যাচ্ছে আর আপনারা যেন ততোই প্রসবানন্দে উল্লাসিত হচ্ছেন।
আমি শুধু স্বাধীনতা চাই,গণতন্ত্র আপনারা নিয়ে ফ্রাই করে খান না কারি করে খান আমাদের কিছুই যায় আসে না।গণতন্ত্র অনেক বড় ব্যাপার স্যাপার, ওসব আমার ধাতে সয় না। আমি স্বাধীনতা চাই দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্য কাজ করে ঘরে ফেরার,আমি স্বাধীনতা চাই সেই ছোট বোনের বাবার চিকিৎসার জন্য রাস্তায় নামতে,ক্লাসে যেতে। আবার প্রশ্ন মাথায় ঘুড়ছে,
আচ্ছা, গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা নাকি স্বাধীনতার জন্য গণতন্ত্র?
গণতন্ত্র আমাদের জন্য নাকি আপনাদের জন্য?

(06-01-2015)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×