গণতন্ত্র, খায় না মাথায় দেয় সেটা আমি এখনোবুঝি না, এই সরল চোখে যা দেখি তারই প্রেক্ষিতে কিছু বাঁকা প্রশ্ন মনের মধ্যে জেগে ওঠেঃ গণতন্ত্রটা আসলে কী? কাদের জন্য এটা? এর মূল্য কত? জীবনের থেকেও এর মূল্য বেশি? যে মানুষটা দিন আনে দিন খায় তার এক বেলা খাবারের থেকেও বেশি? যে বোনটা তার বাবার অপারেশনের টাকার জন্য আমাদের মুখের দিকে এক বুক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে তার প্রয়োজনের থেকেও বেশি?
নাহ,সেটাই হয়তো বেশি দামি, যে নরম তুলতুলে গদিতে বসে আপনারা এয়ার কন্ডিশনের ঠান্ডা বাতাস খান। ঐ যে এ্যাডে বলে না, “জিনিস যেইটা ভালো দাম তার একটু বেশিই”।
গণতন্ত্র আজ ইট আর বালু ভর্তি ট্রাকের ব্যারিকেডে বন্দী নাকি হাজারো পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবদ্ধ আমি জানি না।গণতন্ত্রের জন্য আজ থেকে নাকি গাড়ির চাকা ঘুড়বে না।সে অনুসারে গণতন্ত্রের মানে দাঁড়ায় আজ থেকে গরীবের পেট অবরোধ পালন করবে,খাবার চাইবে না,ক্ষুধায় যন্ত্রণা দিবে না(!),কারো অসুখ হলে হাসপাতালে যেতে হবে না। চুলোয় যাও তুমি,তোমাকে দিয়ে কি হবে? আমাদের নাকি গণতন্ত্র চাই। শুনেছি গণতন্ত্র আজ থেকে নাকি টিয়ারশেল আর রাবার বুলেটে বিদ্ধ হবে আর ইট কিংবা পেট্রোল বোমায় দগ্ধ মানুষ রূপী মাংসের পিন্ডে রূপ নিবে। গণতন্ত্র নাকি আজ থেকে চেঁচিয়ে উঠছে পুলিশের নির্বিচার লাঠি চার্জে। আহ! গণতন্ত্র।
সুখবর!,গণতন্ত্র নাকি জীবিত আছে এত কিছুর পরেও। এই মাত্র টিভিতে শুনে এলাম,মন্ত্রী মশাই বললেন গণতন্ত্র নাকি বিশেষ পরিচর্যায় জীবিত আছে। গত বছর ৫জানুয়ারী উনারা তাকে বাঁচিয়েছেন। আমরা অশেষ কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে। গণতন্ত্র এখন কাঁচের দেয়ালে সুরক্ষিত। গণতন্ত্র সুরক্ষিত করা হয়েছে নতুন পে-স্কেলে। গণতন্ত্র আজ খুব শক্তিশালী আপনাদের রাজপথে শক্ত প্রতিরোধে। গণতন্ত্র আজ দুর্দান্ত গতি পেয়েছে জিহাদ,বিশ্বজিৎ,সাগর-রুনির অজস্র লাশের সারি পেরিয়ে। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে সামরিক-বেসামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। কেবল আমাদের জন্যই নাকি গণতন্ত্র বাঁচাতে এত আয়োজন।
তবে শুনুন, আপনাদের গণতন্ত্র যখন আপনাদের একই নাশতার টেবিলে গরম গরম পরোটার বুকে ওমলেট ডিমের ফেটে পরা কুসুমের মত লুটোপুটি খায় আর ধূমায়মান কফিতে চুমুক দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে তখন আমদের গণতন্ত্র গরম ভাতের টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মস্থলে ছুটে যায় অথবা চোখ মুছতে মুছতে ক্লাসে যায়। আপনাদের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় আপনার বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে বেয়াই সম্পর্ক পাতিয়ে আর আমাদের গণতন্ত্র এখনো পুলিশের হাতে মার খায় আবার কখনো পিকেটারের ছোঁড়া কক্টেল কিংবা বোমার বিষ্ফোরনে দগ্ধ হয়।একজন রিক্সাওয়ালার গণতন্ত্র সারাদিন পরিশ্রমের পর তার পেটে,রাজনীতির মাঠে নয়।
আমাদের কাছে গণতন্র ৪বছরের অনার্স ৬বছরে শেষ নয়।আমার কাছে গণতন্ত্রের মানে খুব শীঘ্রই ‘বাপের হোটেলের’ কাস্টমার থেকে মালিক হব,আমি সেই হোটেল চালাব।
আমি গণতন্ত্র বুঝি না, আমি স্বাধীনতা বুঝি, যা ৪৩ বছর আগে অনেক রক্ত বেঁচে কিনেছিলাম।দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ করে ৩০লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা এনেছিল কি আপনাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ক্ষমতার কাড়াকাড়ি করার জন্য? নাকি আপনাদের স্বাধীন ভাবে হরতাল অবরোধ দেওয়ার জন্য? এই যদি করবেন তাহলে পাকিস্তানই তো ভাল ছিল,এত কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করার কোন মানে হয়? ও বুঝেছি, আপনাদের ভাগে কম পরতো,তাই না? মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়ে গেলেন,আর আমরা এখনো গণতন্ত্রের জন্য গলা ফাটাচ্ছি।৪৩ বছরের একটি শিশু সুবৃহৎ উরু যুগলের চিপায় মুক্তির জন্যে আর্তনাদ আর পদাঘাত করে চলেছে,জরায়ু থেকে মাথা বের করে ক্রমাগত চিৎকার করছে মুক্তির জন্য। কিন্তু দুই বৃহৎ উরুর চাপে সে আর মুক্তি পাচ্ছে না।সে কেঁদেই যাচ্ছে আর আপনারা যেন ততোই প্রসবানন্দে উল্লাসিত হচ্ছেন।
আমি শুধু স্বাধীনতা চাই,গণতন্ত্র আপনারা নিয়ে ফ্রাই করে খান না কারি করে খান আমাদের কিছুই যায় আসে না।গণতন্ত্র অনেক বড় ব্যাপার স্যাপার, ওসব আমার ধাতে সয় না। আমি স্বাধীনতা চাই দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্য কাজ করে ঘরে ফেরার,আমি স্বাধীনতা চাই সেই ছোট বোনের বাবার চিকিৎসার জন্য রাস্তায় নামতে,ক্লাসে যেতে। আবার প্রশ্ন মাথায় ঘুড়ছে,
আচ্ছা, গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা নাকি স্বাধীনতার জন্য গণতন্ত্র?
গণতন্ত্র আমাদের জন্য নাকি আপনাদের জন্য?
(06-01-2015)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




