somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রেইন ড্রেইন, ব্রেইন গেইন ও একজন ডঃ জামাল নজরুল ইসলাম স্যার

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠা ঠা করে হাসতে থাকা ক্রমবর্ধমান ঘন অন্ধকারের মাঝে, আলোকবর্তিকা হাতে দাড়িঁয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে আলো বিলিয়ে গেছেন ডঃ জামাল নজরুল ইসলাম স্যার। যেন আরেক নিঃসঙ্গ প্রমিথিউস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দেবদূত প্রতিম চেহারার অধিকারী স্থিতধী এ গুণী মানুষের সেমিনারে ছুটে যেতাম ব্যাপক মুগ্ধতা নিয়ে। এক পবিত্র ধ্রুপদী হাসিতে সব সময় উদ্ভাসিত থাকত স্যারের চেহারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের কাছাকাছি অবস্থিত ভৌত বিজ্ঞান গবেষণাগারে নীরবে
নিভৃতে বিজ্ঞান সাধনা করে গেছেন নিঃশেষিত জীবনী শক্তির শেষ বিন্দু অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত । যখন শুনতাম স্টিফেন হকিং তাঁর বাড়িতে এক সময় সকাল বিকাল আসা যাওয়া করতেন, প্রফেসর আবদুস সালাম স্যারের পারিবারিক বন্ধু আর অমর্ত্য সেন বাংলাদেশে আসলেই স্যারের বাড়িতে উঠেন তখন স্যারের প্রতি মুগ্ধতা আরও বেড়ে যেত। ডঃ জামাল নজরুল ইসলাম স্যার কেন ইউরোপের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার প্রস্তাব মাড়িয়ে এখানে পড়ে আছেন ?- এ প্রশ্ন প্রায়ই আমার মনে উকি-ঝুঁকি দিত তখন ।
ডঃ জামাল নজরুল ইসলামের জীবনে অর্জন অনেক। তার এসব অর্জন আন্তঃর্জাতিকতার মানদণ্ডে কালোত্তীর্ন। স্যারের এসব অর্জনের কথা অনেকেই জানেন না। সন্দেহ নেই নিতান্ত দেশপ্রেমের কারনেই স্যার দেশে ফিরে এসেছিলেন। এদেশের বিজ্ঞান চর্চায় আবদান রাখার মহান ব্রত নিয়েই কেমব্রিজের অধ্যাপনার চাকুরীটি ছেড়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। আর আমরা তাকে ফেলে রাখলাম লোক চক্ষুর অন্তরালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এককোণে। ডঃ জামাল নজরুলের মতো ব্যক্তিত্বকে ফোকাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সুযোগ ছিল আন্তঃর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফোকাসড (Focused) হওয়ার। সে সুযোগ কেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করল না? এদেশের শিক্ষা অথবা গবেষণা সংক্রান্ত কোন নীতিনির্ধারনী ফোরামে ডঃ জামাল নজরুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই।
দেশের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি একবার বলেছিলেন, ‘মেধা দেশে নর্দমায় পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার চেয়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া ভালো”। সন্দেহ নেই অনেক দুঃখ আর আক্ষেপ থেকে কথাটি বলেছেন তিনি। কথাটি কি একেবারে অমূলক?? দিনকে দিন প্রলম্বিত হচ্ছে ‘brain drain’ এর মিছিল। যে হারে মেধাবীরা বাইরে যাচ্ছেন তার খুব কমসংখ্যকই ফিরে আসছেন। প্রচলিত ‘brain drain’ কথাটির বিপরীতে ইন্ডিয়াতে নতুন একটি শব্দ চালু হয়েছে তা হলো ‘brain gain’। ইউরোপ, আমেরিকা ও আন্যান্য উন্নতদেশ থেকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি তে উন্নত জ্ঞান লাভ করে অনেক ইন্ডিয়ান দেশে ফিরে আসছেন।এ প্রবণতাকে তারা ব্রেইন গেইন বলে অভিহিত করছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঋদ্দ করে চলেছেন ইন্ডিয়ার উন্নয়নের গতির চাকা।বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য এ লিংকে যেতে পারেন (Click This Link)। এদের সবাই যে নিছক দেশ প্রেমের টানে দেশে ফিরে আসছেন তা কিন্ত নয়। প্রবাসীদেরকে দেশে ফিরে আসায় আশ্বস্ত করার মতো একটি Infrastructure ইন্ডিয়া তৈ্রি করতে পেরেছে যা আমরা পারিনি।
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করতে হলে ব্রেইন গেইনের জন্য প্রয়োজনীয় Infrastructure তৈরি করতে হবে। ব্রেইন গেইনের জন্য কি কি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন এ বিষয়ে সৃষ্টিশীল বিতর্কের এখনই উপযুক্ত সময়। ডঃ জামাল নজরুল ইসলামের মতো অবহেলার উদাহরণ ব্রেইন ড্রেইনকেই উৎসাহিত করবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:২৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ ডিসেকশন অব এ স্করপিয়ন

লিখেছেন আদম_, ২৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪২



একজন বৃ্শ্চিক জাতক গান ভালোবাসে- গান সব রাশির জাতকরাই ভালোবাসে, তবে বৃশ্চিকের চয়েসটা ভিন্ন। বৃশ্চিক ভালোবাসে কোয়ালিটি, জেনুইনটি, অথেনটিসিটি। আউল-ফাউল জিনিস বৃশ্চিককে গেলানো যাবেনা- বৃশ্চিক গলার্ধকরণ করেনা খেলোয়ার জাহান... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফামস স্ট্যাচু অফ দ্যা টাউন মিউজিসিয়ান অফ ব্রেমেন

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫৬



দুই বছর আগে গিয়েছিলাম, জার্মানির ব্রেমেন শহরে। সেখানে গিয়ে দেখা হয়েছিল ছোটবেলায় গল্পে শোনা চরিত্র গুলোর সাথে। গল্পের সেই চরিত্রগুলোকে কেউ সাজিয়ে রেখেছে এভাবে এই শহরে, যাওয়ার আগে জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজের মূর্খতা নাকি অহংকার?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন "নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যা গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০


গত রোজার ঈদে বাংলাদেশে একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম "বনলতা এক্সপ্রেস"। হুমায়ূন আহমেদের "কিছুক্ষণ" উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো মানুষরা অভিনয় করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা'র আন্তর্জাতিক খেলা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫২



শেখ হাসিনা- একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন খুব কম নেতাই আছেন, যাদের নাম উচ্চারিত হলে সমর্থন ও বিরোধিতা- উভয়ই এত প্রবলভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×