somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাডারলেস

২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রামের নাম মল্লিকপুর। বাস্তবের মানচিত্রে তা করে না বিরাজ। তবু, মল্লিকপুর; গ্রাম। সত্য। এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক স্বচ্ছ তোয়া বিল। বিলে ফুটে আছে লাল শাপলার দল। ফিরে ফিরে আসে সেই গ্রাম। বুকের ভেতর। স্বপ্নের ভেতর।

গত একমাসে অন্তত ৯বার এই গ্রাম স্বপ্নে দেখার কথা আমাকে বলেছিল বাসু দা। সম্পর্কের হিসেবে বাসু দেব আমার ড্রাইভার। আজ ৯ বছর হলো বাসু দা আমার বাড়িতেই থাকতো। আমাকে অফিসে নিয়ে যেতো। আমার ছেলে রোদ্দুরকে স্কুলে, কলেজে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিতো। আমার হাজব্যান্ড পল্লবকে নিয়ে যেতো লং ড্রাইভে। পল্লব যতই একা লং ড্রাইভে যেতে চাক, কোনো দিনই তাকে যেতে দেয়নি। পল্লব বেশি অনুরোধ করলে বাসু দা ভয় দেখিয়ে বলতো, ‘দিদিমণিরে কিন্তু কইয়া দিবো!’

অথচ আমি বাসু দা-কে কোনোদিন বলিনি যে, পল্লব ড্রাইভিং করতে-করতে মাঝে-মাঝে আনমনা হয়ে যায়; ওকে কোনো দিন একা লং ড্রাইভে যেতে দিও না। বাসু দা নিজেই খেয়াল করেছে। একদিন বাসু দা-কে পাশের সিটে বসিয়ে ড্রাইভিং করতে গিয়ে বিরাট এক বিপদ থেকে বেঁচে গিয়ে বুঝেছে, ‘দাদাবাবু যতই ভালো ড্রাইভ করুক, তারে ড্রাইভিং সিটে দেওন যাইবো না’।

সেইদিন আমি গাড়িতে ছিলাম না। বাসু দা নিজেই এসে আমাকে বলেছে, ‘দিদিমণি, শোনো আইজ কী হইছে . .. ’ বলে সে নিজেই ভয়ার্ত বর্ণনা দিয়েছে। বলেছে, ‘তুমি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দাও, দাদাবাবুর একা লং ড্রাইভে যাওয়া বন্ধ’।

সেই থেকে আমার নাম নিয়ে বাসু দা-ই পল্লবকে ভয় দেখায়। কেবল গাড়ি চালানো নয়। আমাদের সংসারে গুরুজনের মতনই ছিল বাসু দা।

সেই বাসু দা গত একমাসে অন্তত নয় বার আমাকে বলেছে মল্লিকপুরের আজব স্বপ্নটার কথা। প্রথমে একদিন সকালে আমাকে একটা কনফারেন্সে নিয়ে যেতে যেতে বললো, ‘দিদিমণি, আইজ জানি কিমুন একটা আচানক স্বপ্ন দেখলাম।’ এইটুকু বলে কয়েক সেকেণ্ড নীরব থেকে বলেছে, ‘স্বপ্নটা মনে হইলো যেনো স্বপ্ন না; যেনো বাস্তব। গ্রামটা এমুন সুন্দর! বিশেষ করে, গ্রামের পাশে যে বিলটা দেখলাম কিমুন সুন্দর শাপলা ফুলে ভরা! আর কিমুন করে জানি, আমি স্বপ্নের ভিতরে এই গ্রামের নামটা জানলাম মল্লিকপুর। দিদি, বলতো স্বপ্নও এম্নে মানুষের মনের মধ্যে লাইগ্যা থাকতে পারে!’

তারপরের দিন আমাকে অফিসে নিতে পথে আবারো একই কথা! ‘দিদিমণি! আইজো না সেই মল্লিকপুরের স্বপ্নটা দেখলাম। দেখলাম, শাপলা বিলের লাল ফুলগুলো কেম্নে জানি আচানক সব কালা হইয়া গেলো! মনে হইলো, কেউ উপরে থেইক্যা বিলে আগুন ঢাইল্যা দিয়া ফুলগুলারে পুড়াইয়া দিছে! ইশ! এইটুকু দেইখ্যা না আমি স্বপ্নের ভেতরে এতো কানছি, দিদিমণি! আমার জানি কিমুন লাগতাছে। মনটা জানি কিমুন অবশ অবশ লাগে, দিদিমণি! তোমার কোনোদিন হইছে এইরকম?’

তার দুই তিন দিন পরে রাতে আটটা-নয়টার দিকে আমাকে পুরান ঢাকার একটা অনুষ্ঠান থেকে বাসায় নিয়ে আসার সময় জ্যামে বসে থেকে বাসু দা বল্লো, ‘দিদি আমার না কয়দিন ধরে খুব কান্দন-কান্দন লাগে! কেন যে এমন লাগে আমি কিছু বুঝি না। মল্লিকপুরের ওই স্বপ্নটা দেহনের পর থেইক্যাই মনে হয় এমন লাগে।’

বাসু দা মানুষটা বড় আবেগী। আমি তার দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে থাকি। কিছু বলি না। বাসু দা একটু সময় নিয়ে আবার বলে, ‘জানো দিদি! আজ ভর দুপুরে, আমি রোদ্দুর বাবাকে ইউনিভার্সিটি থেকে আনতে যাওয়ার পর সে বললো তার আরো একঘন্টা দেরি হবে। আমি তখন ওইখানে সিটটা মেলাইয়া দিয়া ঘুমাইয়া গেছিলাম। কিন্তু ঘুমের মধ্যেও সেই স্বপ্নটা দেখলাম। মল্লিকপুর! দিদিমণি, আমার জীবনে এইরকম আর হয় নাই। এক স্বপ্ন এইরকম কয়েকদিন ধরে আমি আগে কোনো দিন দেখি নাই । ফিরে ফিরে এইরকম স্বপন কেউ দেখে!’

আমি তখন বাসু দা’র সাথে আমার দু’য়েকটা স্বপ্নের ঘটনার কথা বলি। ধারাবাহিক স্বপ্ন। একটা স্বপ্ন আমি একটানা কয়েক বছর দেখতাম। আরেকটা স্বপ্ন দেখেছি একটানা কয়েকমাস। তাকে বলি, ‘এই দুইটা স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরে আমি আমার বাস্তব জীবনে মিলাইতে পারছিলাম, বাসু দা’।

কিন্তু বাসুদার ওই মল্লিকপুর, বিল আর পোড়া শাপলার কথাটা আমি আর মন থেকে ভুলতে পারি না। তাই, ড্রিম অ্যানালাইসিসের নানান সাইটে আমি ঢুঁ মারতে থাকি। শাপলা দেখলে কী হয়— এর নানান অর্থ খুঁজে বের করেছি। কিন্তু পোড়া শাপলার কোনো ব্যাখা পাইনি। তবে, ছেঁড়া পদ্মের ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু বাসু দা তো ছেঁড়া পদ্ম দেখে নাই। আর বিভিন্ন সাইটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বপ্নের মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে স্বপ্নটা দেখে স্বপ্ন দেখার সময় তার অনুভূতিটা কী হয়—সেটা।

প্রায় মাসখানেক ধরে একটানা মল্লিকপুরের স্বপ্নটা শুনতে শুনতে একদিন বল্লাম, ‘বাসু দা তুমি বাড়ি যাও। কয়েকমাস হয় তুমি গ্রামের বাড়ি যাও না। বাপের ভিটা ঘুইরা আসো। বউ-ছেলে-মেয়েরে দেইখ্যা আসো।’

বাসুদা বলে, ‘যাবো দাঁড়াও। রোদ্দুর বাবার মিডটার্ম শেষ হইতে তো আর দু্‌ই দিন বাকি। পরীক্ষাটা শেষ হইলে গিয়া দেইখ্যা আসবো সবাইরে।

এর মধ্যে রোদ্দুরের পরীক্ষা শেষ হলো। তারপরে আরো সপ্তাহখানেক গেলো। বাড়ির লোকজনদের জন্য নানান কেনাকাটা করলো বাসু দা। আমি বৌদির জন্য দুইটা শাড়ী কিনে দিলাম। ইলিশের মৌসুমের শুরুতেই এক হালি ইলিশ কিনে রেখেছিলাম বাসু দা’র বাড়ির জন্য; সেগুলো দিলাম। তার বড় মেয়ের বড় নাতি এবার ৫ বছরে পূর্ণ করলো। তার জন্য রুপার একজোড়া নুপূর দিলাম।

যাবার দিন সকালে বিদায় নেওয়ার সময় বাসু দা বললো, ‘জানো দিদি, আজকেও দেখলাম। মল্লিকপুরের সেই গ্রামটা। পুড়ে যাওয়া সেই শাপলার বিলটা।’

আমি বল্লাম, ‘ভালো দেখছো। যাও। ফিরে আসার জন্য তাড়াহুড়া কইরো না। বৌদি যে কয়দিন চায় তুমি থাইক্যা আইসো। আমার জন্য চিন্তা কইরো না। তুমি তো বিশ্বস্ত লোকই বিকল্প দিয়া গেছো। নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও। আসার সময় বৌদির হাতের চ্যাপার ভর্তা নিয়া আইসো।

বাড়ি পৌঁছে বাসু দা খবর জানায়। বৌদির সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়। বৌদি বলে, ‘সবচে বেশি খুশী হইছি, নতুন শাঁখা জোড়া পাইয়া। এমন মোটা শাঁখা সারা ময়মনসিংহ জুইড়াও পাওয়া যাইতো না’।

ময়মনসিংহ শহরের পাশেই মালো পাড়ায় বাসু দা’রা থাকে। বাসু দা’র বাবা পেশায় মুচি ছিলেন। কিন্তু বাসু দা হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। ড্রাইভিং শিখেছে। বিভিন্ন অফিসের গাড়ি চালিয়েছে অনেক বছর। আর আমার সঙ্গে পরিচয় একটা ট্রিপে। পাঁচ দিনের জন্য আমি, রোদ্দুর, পল্লব আর আমার ও পল্লবের কমন ফ্রেন্ড আশফাককে নিয়ে গিয়েছিলাম বান্দরবান। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি কক্সবাজার ঘুরে পাঁচ দিনের ট্যুর ছয় দিনে শেষ করে আমরা ঢাকায় ফিরলাম। আর এই ছয় দিনে আমার সাথে বাসু দার এমনই ভালো সম্পর্ক হলো যে, বাসুদা-ই নিজে থেকে বললো, ‘দিদিমণি তোমার বাড়িতে ড্রাইভার লাগ্লে আমারে বইলো’।

ঘটনাচক্রে আমার তখনকার ড্রাইভারের যন্ত্রনায় আমি অতিষ্ঠ ছিলাম। দুইদিন পরে-পরে সে নোটিশ ছাড়া গায়েব হয়ে যেতো। সকালে ৮টায় আসার কথা থাকলে ৯টায় আসতো। এমনকি দুইবার রোদ্দুর-এর ক্লাসের প্রথম পিরিয়ড মিস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বহু খোঁজেও ভালো কোনো লোক না পেয়ে তাকে দিয়েই চলছিল। বাসু দা’র প্রস্তাবটা পেয়ে মনে হলো, বিরাট কোনো পূণ্যির গুণে এমন ভাগ্য হলো।

এরপর বাসু দা পাকাপাকিভাবে সব দায়িত্ব নিলো। সে তার মিরপুরের মেস ছেড়ে চলে আসলো ঝিগাতলায় আরেকটা নতুন মেসে। আমার বাসার কাছাকাছি সে থাকে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে তিনবেলা খাবারও খায় আমার বাসাতেই। ধীরে ধীরে বাসু দা ঘরের একজন হয়ে গেলো। এক টেবিলে খাই। এক সাথে বেড়াতে যাই। স্টোররুমটাকে স্টোর রুম হিসেবে ব্যাবহার না করে বাসু দা’র জন্য ধুয়ে মুছে রং করে সিঙ্গেল খাট পেতে দেয়া হলো। বাসু দা মেস থেকে উঠে এলো বাসায়। তার ঘরে শিব আর দূর্গার মূর্তি বসলো। আমাদের উত্তরের বারান্দায় আসলো বড় একটা তুলসী গাছ। আমাদের ঈদ আর বাসু দা’র পূজা এই ৯ বছরে সব মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলো।

বাসু দা খুব ভালো গীত গাইতো। তার দাদীর কাছে সে না-কি এইসব শিখেছিল। খুব মায়াময় গলায় মেয়েলি গীতগুলো সে গাইতে পারতো। আমার ছেলে রোদ্দুর যখন ফাইভে পড়ে তখন সে বাসু দা’র গীত খুব পছন্দ করতো। বাসু দা খুব রাঁধতে পারতো। মাঝে মধ্যে আমাকে চ্যাপার ভর্তা, চ্যাপার তরকারী রেঁধে খাওয়াতো। আমি খুব চেষ্টা করেও বাসু দা’র মতন রান্না শিখতে পারিনি। আর বাসু দা খুব পছন্দ করতো আমার হাতের বিফচিলি। এত মজা করে খেতো!

কিন্তু সেই বাসু দা বাড়িতে বেড়াতে যাবার আগে একটানা মাসখানেক খালি মল্লিকপুর নামের এক গ্রামের স্বপ্ন দেখলো। পোড়া এক শাপলা বিলের স্বপ্ন দেখলো। তারপর বাড়ি গিয়ে আর ফিরলো না!

বাসু দা যেদিন গেলো, তার পরের রাতে মালো পাড়ায় হঠাত করেই আক্রমণ হয়েছে। কোন এক হিন্দু যুবক না-কি ক্বাবাশরিফের ছবির উপরে শিবলিঙ্গ বসিয়ে ফটোশপ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। তাই, উত্তেজিত মুসলমান তরূন ছেলে-পেলেরা রাতের বেলায় এসে বাড়িঘরে আক্রমণ করেছে। লাঠি-সোটা, লোহার রড, রামদা নিয়ে বাড়িঘর-তুলসিগাছ-মানুষ সব কুপিয়ে ফালা ফালা করে গেছে।

মালো পাড়ায় ঢোকার মুখেই একদম প্রথম ঘরটাই ছিল বাসু দা’র। ফলে, সবার রাগ ওইটাতেই আগে পড়েছে। সবগুলো কোপ ওইটাতে আগে পড়েছে। বাসুদার ছেলেটা মাথার মধ্যে কোপ খেয়েছিল। তার মগজ নাকি বের হয়ে গিয়েছিল পত্রিকায় পড়লাম। আর বৌদি-কে নাকি বেইজ্জতি করেছে। দাদার সামনেই। কয়েকজনে মিলে। বউদির বড় মেয়ের বড় নাতিটাও এসময় ঘরে ছিল; বেড়াতে এসেছিল। তাকেও নাকি বলাৎকার করেছে। এইসব দেখে সহ্য করতে না পেরে বাসু দা নাকি দা নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলো। এই কারণে বাসু দা-কে কুপিয়ে, পিটিয়ে মেরেছে।

মালো পাড়ায় আহত হয়েছিল আরো অনেকেই। কিন্তু আর কেউ নিহত হয়নি। নিহত হয়েছে খালি বাসু দা আর তার ছেলে। ঘটনার রাতে তারা বহু রাত অব্দি জেগে ছিল। এমনকি রাতে এগারোটার দিকে আমার সাথে ফোনে কথা-ও হয়েছে। বৌদি চ্যাপার ভর্তা বানিয়েছে আর হাঁসের মাংস রেঁধেছে। এটা দিয়ে খেতে বসায় আমাকে দাদার খুব মনে পড়ছিল। তাই, আমাকে ফোন করে বল্লো, ‘দিদি, তোমার প্রিয় খাবার চ্যাপার ভর্তা আর হাঁসের মাংস দিয়া খাই। আসার দিন তোমার জন্যও নিয়া আসবো।’

সেই ছিল বাসু দার সাথে আমার শেষ আলাপ। সকালে একটা গোল টেবিল বৈঠক ছিল। তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। সেদিন লেইট নাইটে টিভি দেখিনি। কিন্তু পল্লবের খুব সকালে ওঠার অভ্যাস। সে সকালে উঠে বিবিসি বাংলার সাড়ে ছয়টার খবর শোনে নিয়মিত। সেদিন খবর শুনতে শুনতে সকালে পৌনে সাতটায় কাঁদতে-কাঁদতে উদভ্রান্তের মতন আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেছে। কোনো কথা স্পষ্ট করে বলতে পারে নাই। শুধু বার বার বলেছে, ‘বাসু দা নাই। বাসু দা নাই। বাসু দা’র গ্রামে হামলা হইছে। তার ছেলে অনির্বাণ দেব-ও মারা গেছে’।

টিভি খুলে বিস্তারিত খবর দেখলাম। ময়মনসিংহ গেলাম। মৃতদেহ নিয়ে পুলিশের সাথে লম্বা সময় ধরে আলাপ চললো। আইনি প্রক্রিয়ায় না জড়িয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই জানিয়ে পুলিশের খাতায় আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে দুই দিন পর বাসু দা’র দেহ সৎকার হলো। সৎকারের পর দিদিকে আর তার নাতিকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা এলাম।

টিভিতে খবর দেখি। মালোপাড়া শান্ত হয়ে এসেছে। সেখানে আর কোনো উত্তেজনা বিরাজ করছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু আমার ঘরের ভেতর বৌদি আর তার ৫ বছরের নাতি হৈমন্তি। আর আমার মাথার ভেতর মল্লিকপুর।

সবুজ, শান্ত, সুন্দর মল্লিকপুর। মল্লিকপুরের ভেতর দিয়ে গেছে মেঠো পথ। সেই পথের শেষে লাল শাপলার বিল। কিন্তু বিলের ধারে যেতে যেতে, আচানক ফুলগুলো সব পুড়ে কালো। বিলভর্তি পোড়া শাপলা দেখে বাসু দা স্বপ্নের মধ্যে খুব কাঁদে। আর বাসু দা’র মল্লিকপুর বুকে নিয়ে আমার খুব অবশ অবশ লাগে।


২১.১১.১৬
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×