somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারিয়ে যাওয়া সময়টার গল্প!

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
দুটো অনুভবঃ
১।


আমার সন্তানের বয়স মাত্র তিন ! আর এই তিন বছর বয়সেই তার মা রীতিমত তাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে, কারন হাতে নাকি একদম সময় নেই। ঢাকা শহর বলে কথা, পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে ভালো স্কুলে বাচ্চাকে ভর্তি করানো যাবেনা। সন্তানের সুশিক্ষা নিয়ে আমার স্ত্রী যে পরিমান পেরেশান, আমার পুরো শিক্ষাজীবনে হয়তোবা আমার মা এতটা টেনশন করেন নাই।
যাক সে কথা, চলেন এখন আমরা নারায়নগন্জ- চাষাড়াতে যে রেল স্টেশন রয়েছে সেখানে বিকাল ৫ টা ৩২ এর ঢাকাগামী ট্রেনটা ধরব। ট্রেন কেন? কারন বাসে গেলে আপনাকে মিরপুর পৌছাতে সময় লাগবে পাক্কা ৫ ঘন্টা! ৪ ঘন্টা জ্যামে বসে থাকার চেয়ে ২৫ মিনিট ট্রেনে দাড়িয়ে যাওয়াই উত্তম নয় কি! স্টেশন থেকে একটু সামনের দিকে এগিয়ে যান, যেন ট্রেনের সামনের বগি গুলোতে উঠতে পারেন কারন সামনের বগিতে ভীর একটু কম হয়। কপাল ভালো হলে, হালকা ঠেক দিয়ে দাড়ানোর জায়গাও পেয়ে যেতে পারেন। ওটা কিছু নয়, ছোটলোকেদের স্কুল! রেলটাকে শালারা বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। রেলের জায়গা তো অনেক আগেই দখল করেছে, এখন স্টেশনটা দখল করে স্কুল বানাইছে। স্কুলের নাম দিছে আবার 'সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানবিক শিক্ষায় লাল সবুজের পতাকা'। শুভ চন্দ্র না কি নাম বানচোদের সে দখল নিয়া স্কুল বানাইছে। ফইন্নি স্কুলে মাগনা পাঠ। দেখছেন! পিন্দনের কাপড় দিয়া গতর ঠিক মতন ঢাকতে পারে না বেডিরা, তারা ABCD বই হাতে কইরা দলে দলে তাগো বাচ্চা স্কুলে দিতে আইছে। জজ-বেরিস্টার বানাইবো একেকটারে। চলেন, চলেন টেরেন আইছে। আরে জলদি উঠেন! ঐ মিয়া ধাক্কান ক্যান!
২।


আইয়ে ইমলি কা আচার খাইয়ে! বড়ই কা আচার খাইয়ে! আচার ওয়ালার হঠাৎ বাংলা হতে হিন্দিতে পরিবর্তিত আহ্বানে ফিরে তাকাতে রীতিমত বাধ্য হলাম। আমি কথা বলছি জাফলং এর নদীর পাড় এর নো ম্যানস ল্যান্ডের সেই জায়গাটা যেখানে শুধু একটা দড়ি ফেলে দিয়ে দিব্যি দুটা দেশকে ভাগ করে ফেলা হয়েছে। আর সেই দড়ির উপরে তথা আচারের ঝাপির দুটো পায়া ইন্ডিয়াতে রেখে এবং দুটো পায়া আর নিজেকে কৌশলে স্বদেশে রেখে আমাদের আচারওয়ালা মামা সেখানে একটা গ্লোবাল মার্কেট বানিয়ে ফেলেছে। ছবিতে আচারওয়ালার সামনের মানুষেরা ভারতীয় এবং সে সহ আমরা তার পেছনের মানুষেরা বাংলাদেশী। এটাকে একভাবে মিলন মেলা বললেও খারাপ শোনাবেনা। যাই হোক, ভারতীয় দিদি ও তার সাংগপাংগদের হিন্দি মিন্দি বলে খুব তেল তোয়াজ করে, পেছনে দাড়িয়ে থাকা স্বদেশী ক্রেতাদের বিন্দুমাত্র বেইল না দিয়ে চতুর আচার ওয়ালা যখন তাদের আচারের ঝাপির কাছে টেনে নিয়ে আসলেন তখন তাদের চোখে মুখে ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবোধের স্পষ্ট অহংকার এবং তার প্রকাশ। আচার খেতে খেতে বাংলাদেশী পশ্চাদপদ-অনগ্রসর জাতীর জন্য অনেক হা-হুতাশ ও করলেন। আচারওয়ালা মামা তাদের সাথে সমব্যাথি হয়ে সমুদয় দোষ এই অশিক্ষিত-কুশিক্ষিত বাঙ্গালী জাতির উপ্রে চাপিয়ে দিয়ে তিন কৌটা আচারের দাম যখন তিনশত রুপি ধরিয়ে দিলেন তখন তারা আর কোন রা কাড়ে নাই। শুধু মমতা কুলকারনির মত দেখতে মাইয়াটা বলেছিল-ইতনাসা আচার তিনশ রুপিয়া? প্রতি উত্তরে আচারওয়ালা বলেছিল- ইমলি কা আচার হ্যায় ম্যাডাম! খাট্টা তো লাগেগাই।

দুটো কবিতাঃ

১।
দূর্বিনীত তুই, সাপুড়ের ঝাঁপিতে বন্দি কুলীন!
আজন্ম এক পলায়ন ছোবল স্বপ্নে বিভোর।
আমি!
আমি-বুনো জাত কেউটে।
সদা সর্বত্র, প্রতিহিংসায় আমি উন্মত্ত্ব!
ছোবলে বাচি, আমি ছোবলে মরি......মারি।
আমি-বুনো জাত কেউটে!
ছোবলে আমার নেশা! ছোবল আমার বিষ্!

২।
নতুন দিনের বার্তা নিয়ে,
পরিত্যাক্ত নগরীটায়, রোজ যখন ফিরি!
ঘুম কাতুরে, অলস কাকেরা,
প্রভুহীন পথের কুকুরেরা,
আর নগর সন্তানেরা,
তখনো ঘুমে!
আমি প্রার্থনা করি!
আমি প্রতীক্ষা করি!
আমি পান করি!
নতুন একটা দিনের!
নতুন আরেকটা জীবনের।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহলে ন্যায় ও সত্যের জায়গাটি কোথায় বাংলাদেশে?

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:৪৩

তাহলে ন্যায় ও সত্যের জায়গাটি কোথায় বাংলাদেশে?
আইডি হ্যাক করে সাজানো মিথ্যা অভিযোগের একটি আয়োজন!
জালিয়াতি চিহ্নিত হল, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে। এ নিয়ে একটা জিডিও হলো।

সবকিছু জেনেশুনে প্রশাসনকে বলা হলো, যেহেতু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাঙের বিয়ে [শিশুতোষ ছড়া]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৬


কোলা ব্যাঙের বিয়ে হবে
চলছে আয়োজন ।
শত শত ব্যাঙ ব্যাঙাচি
পেলো নিমন্ত্রণ ।।

ব্যাঙ বাবাজী খুব তো রাজী ,
বসলো বিয়ের পিড়িতে
ব্যাঙের ভাইটি হোঁচট খেলো,
নামতে গিয়ে সিড়িতে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় অগ্রসর তরুণ প্রজন্মকে 'খোলাচিঠি'

লিখেছেন , ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:৫৮


প্রিয় অগ্রসর তরুণ প্রজন্ম,

তোমরা যারা ডিজিটাল যুগের অগ্রসর সমাজের প্রতিনিধি তাদের উদ্দেশ্যে দু'লাইন লিখছি। যুগের সাথে খাপ খাইয়ে ওঠতে অনেক কিছু আস্তাকুঁড়ে ফেলতে হয়। সেটা কেবলই যুগের দাবি, চেতনার চালবাজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকা পড়ে জেনেছি

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:২৮



খবরের কাগজে দেখলাম, বড় বড় করে লেখা ‘অভিযান চলবে, দলের লোকও রেহাই পাবে না। ভালো কথা, এরকমই হওয়া উচিত। অবশ্য শুধু বললে হবে না। ধরুন। এদের ধরুন। ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ভারত ভ্রমণের পর অপ-প্রচারণার ঝড়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১০



বাংলাদেশের প্রতিবেশী হচ্ছে ২টি মাত্র দেশ; এই ২টি দেশকে বাংগালীরা ভালো চোখে দেখছেন না, এবং এর পেছনে হাজার কারণ আছে। এই প্রতিবেশী ২ দেশ বাংলাদেশকে কিভাবে দেখে? ভারতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×