somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শবপ্রাঙ্গন থেকে সিধুলীর গোরস্থান- একটা ফটো অ্যালবাম

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন খবরে দেখি শোকের গ্রাম সিধুলীতে এক কবরস্থানে ১৪ জনের দাফন। গোরস্থানের ছবিটা সুপার-গ্লু সহযোগে আটকে গেল আমার মাথার বাজে ছবির অ্যালবামটায়।

এই অ্যালবামে আর কি কি আছে জানেন ভাই?
অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, মাঠে সারি করে ফেলে রাখা সব লাশ। ঐসব লাশের থেঁতলে যাওয়া শরীরের এখান ওখান থেকে গলে-পচে বেরুনো উৎকট গন্ধ। আর অপেক্ষায় বসে থাকা অদ্ভুত চেহারার কিছু মানুষ, হাতে সবার একটা একটা ছবি- কারও বাবার, কারও ভাইয়ের, কারও বোনের, কারও মায়ের। একটু পর পর পিক-আপ নিয়ে আসছে আরও লাশ, নতুন নতুন লাশ।
নতুন লাশ আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষগুলা। হাতে ছবি সবার, গভীর মনোযোগে খুঁটিনাটি মিলায়ে দেখে লাশের চেহারার সাথে। দুই এক মুহূর্ত কেমন জানি গুমোট বেঁধে আটকে যায় সময়, তারপর হঠাৎ কারও আকাশ ফাটানো মাতমে ধাক্কা খেয়ে চলা শুরু করে ঘড়ির কাঁটা।
হঠাৎ জানতে চায় মন, "মহামতি রানা কেমন আছেন?"
উত্তর আসেনা, ঠোঁটে একটা সিগারেট জ্বলে উঠে হতাশায়।

এই অ্যালবামে আরও আছে একবাস স্কুল-শিশুর একসাথে হারিয়ে যাওয়ার ছবি, হাসিমুখে মহাকালের কালো চাদরটা জড়িয়ে একসাথে ঘুমিয়ে পড়ার গল্প।

এই অ্যালবামে রেল লাইনের পাশে পড়ে থাকা একটা মানুষের ছবি আছে, যার প্রিয় মস্তিষ্কটা করোটি ভেঙ্গে বের হয়ে পড়ে ছিল তার থেক ফিট দশেক দূরে। আমি হেঁটে গেলাম, থকথকে মস্তিষ্ক ধরতে সায় দিলনা মন। করোটির ছড়ানো ছিটানো কয়েকটা অংশ খালি নিয়ে রেখে আসলাম মানুষটার মাথার পাশে। মরা মানুষটা মুচকি একটা কৃতজ্ঞতার হাসি ছুঁড়ে দিল আমার দিকে। আমার পক্ষে তখন আর দাঁড়ানো সম্ভব না সেখানে, উলটা ঘুরে হাঁটা দিলাম নতুন একটা বাজে ছবি মাথায় নিয়ে।

২০০৭ এ মনে আছে বাড্ডায় একটা বাচ্চাকে দেখেছিলাম ব্যস্ত রাস্তায় শুয়ে আছে, দশ-বার বছর হবে বয়স। কৌতূহলী মন ব্যস্ত রাস্তায় শুয়ে থাকার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখে ওটা শুধু একটা ধড়, মাথাটা শুয়ে আছে তার থেকে একটু দূরে। এদিকে অ্যালবামে জমা হয়ে যায় একটা রক্তাক্ত বিশ্রামের চিত্র। একই মানুষের ধড় আর মস্তক-কে এরূপ স্বতন্ত্র বিশ্রাম নিতে আগে দেখেনি এ চোখ।

যতগুলা এরকম ছবি জমা হতে থাকে অ্যালবামে, ততগুলা দরিদ্র মানুষ ট্যাগ হয়ে যায়। এই গরীবগুলা অশিক্ষিত, এই গরীবগুলা মূর্খ, লোভী ওরা। ঠিকমত রাস্তা পার হতে পারেনা, লঞ্চে ঠেলাঠেলি করে উঠে, মূর্খের মত রেললাইনে বসে থাকে ঝিম মেরে। ঝুঁকি জেনেও কাজে যায় রানা প্লাজার মত মৃত্যুকূপে।
হ্যাঁ, আমরা জানি! সবাই জানি, জানি ওরা অশিক্ষিত-মূর্খ। কিন্তু, ওরাও এদেশের মানুষ, সুবিধাবঞ্চিত অভাবী মানুষ। যারা পাঁচশো টাকা দিলেই ভোট দিয়ে দেয় অনায়াসে। বলেন, ঐ পাঁচশো টাকা ক্যামনেই বা মিলে আর! আমরা যারা সারাক্ষন ওদের মূর্খ-মুর্খ করি তারা গিয়ে তো কখনও ওদের হাতে একটা পাঁচশো টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে আসিনা! পাঁচ বছর পরপর যারা শপথ নিয়ে দেশ চালাতে আসে তাদের ঐ দেশ এসব মূর্খ মানুষ দিয়েই ভরা। এদেশ চালাতে গেলে তাই সুশীল চেতনার ধার ধারলে চলবেনা। লঞ্চে বেশি উঠতে চাইলে ধমক দিতে হবে। হাত ধরে টেনে নামাতে হবে লঞ্চ থেকে। ব্যস্ত রাস্তা পার হতে চাইলে কান ধরে সরিয়ে দিতে হবে। রেললাইনে বসে ঝিমালে এক বালতি পানি এনে মারতে হবে মুখে। তবু, মরতে দেওয়া যাবেনা এভাবে। এধরনের মৃত্যু আমাদের সবার ব্যর্থতা- নিজেদের, সরকারের। কীভাবে এত ছোট একটা দেশে প্রতিবছর গড়ে ৩০৩৭ জন মানুষ শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়? বাকিগুলা বাদ-ই দিলাম নাহয়.......

যাই হোক আমি আসল কথা থেকে সরে গেলাম,
এতসব উচ্চ-পর্যায়ের প্যাঁচাল পেড়ে লাভ হবেনা, কখনও হয়না। আমি শুধু নিজের এই ইনভেন্টরিটাকে শিফট+ডিলিট মারতে চাই মাথা থেকে। স্বীয় চেষ্টা তো জারি থাকবেই; সাথে ইয়ে বলতে চাইছিলাম আরকি, কেউ আমার জন্যে দু'মুঠো শুভকামনা তুলে রাখতে দ্বিধা-কার্পণ্য যেন না করেন!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×