somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মাহংকারী সাকা এখন ফক-ফকা

৩০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর (নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বুধবার সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে এই আপীলের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই আপীল বিভাগের আইনজীবী, সাংবাদিক আর বিচারপ্রার্থীরা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা আসামি সাকার রায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আপীল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। ৭ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হলো। ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হলো। মাত্র এক মিনিটেই সাকার রায় ঘোষণা শেষ করেন। রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রীমকোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় এ্যাটর্নি জেনারেল, প্রসিকিউটরবৃন্দ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। সাকার ফাঁসির রায় বহাল থাকায় এবার তাঁর দ- কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির অপেক্ষা শুরু হলো। রায় কার্যকর করতে আরও তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ। দ্বিতীয়ত রিভিউ আবেদন। আপীল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করলে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন। উল্লেখ্য, আপীল বিভাগে এটাই প্রথম বিএনপির কোন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদ- বহাল রাখা হলো।
এদিকে রায় ঘোষণার সময় সবার আগে এসে প্রথম বেঞ্চে আসন নেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার পাশে বিএনপিপন্থী অন্য কোন আইনজীবীকে দেখা যায়নি। পরে শুধু এসেছেন সাকা চৌধুরীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও তানভীর আহমেদ আল আমীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি প্রমাণিত হয়। ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে সাকাকে মৃত্যুদন্ড-াদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আপীল বিভাগ তা বহাল রাখেন। ৭ নম্বর অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন আপীল বিভাগ। ২ ও ৪ নং সাকাকে ট্রাইব্যুনাল ২০ বছরের কারাদ- প্রদান করেন। সেটা আপীল বিভাগ বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাকাকে ৫ বছর করে কারাদ- প্রদান করা হয়। আপীল বিভাগ সেটাও বহাল রেখেছেন। এদিকে সাকার মৃত্যুদ- আপীলেও বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আইনমন্ত্রী। তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রত্যাশিত এ রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছে জাতি। এ রায় পুরো সমাজের জন্য স্বস্তির বলেও মন্তব্য করেছেন।
আপীলেও সালাউদ্দিনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশিত ছিল জানিয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, “আপীলে মৃত্যুদ- বহাল থাকবে এটি অবশ্যই অত্যন্ত প্রত্যাশিত ছিল। এরকম অপরাধে আগে যত মামলা হয়েছে তারমধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী সাকা। আপীল বিভাগের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, প্রত্যাশা অনুয়ায়ী রায় হয়েছে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, যেহেতু আপীল বিভাগের রায়, আমরা অবশ্যই এ রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে রিভিউ করব। আমরা আশা করব, রিভিউয়ে আমরা বহালকৃত সাজা থেকে মুক্তি পাব। তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তারা এই রায়ে হতাশ হয়েছেন।” মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-ে দ-িত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) ফাঁসির আদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। আর একাত্তরে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের লোকজনও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। রিভিউয়েও সাকা চৌধুরীর মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে এটি হবে আপীল বিভাগের পঞ্চম রায়। এর আগে আরও চারটি মামলার আপীল নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা (মৃত্যুদ- কার্যকর), নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (আমৃত্যু কারাদ-) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ- কার্যকর) ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ- বহাল)। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত না হওয়ায় রিভিউ নিষ্পত্তি হয়নি। আর আপীলে থাকা অবস্থাতেই জামায়াত সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বর্তমানে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলীসহ আরও ৮টি মামলা আপীল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর যে সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো, ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নং অভিযোগ। এছাড়াও প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষী না দেয়াতে যে অভিযোগগুলো নিয়ে আদালত কিছু বলেনি সেগুলো হলো, ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ নং অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাকা চৌধুরী ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবার সুপ্রীমকোর্টে আপীল দায়ের করেন।
প্রত্যাশিত রায় ॥ সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় প্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ রায়ই প্রত্যাশা করেছিলাম। এ সাজা না হলে প্রচ- হতাশ হতাম। রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাকা চৌধুরী বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ৯টি অভিযোগে তাকে মৃত্যদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। আর সুপ্রীমকোর্ট শুধু একটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে বাকি ৮টি অভিযোগে তার দ- বহাল রেখেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, তিনি (সাকা চৌধুরী) দেশে ছিলেন না, এমন বক্তব্য গ্রহণ করেননি সর্বোচ্চ আদালত।
রিভিউ করব ॥ চূড়ান্ত রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরপরই রিভিউ করবেন বলে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বাবা নির্দোষ ছিলেন তা ঠিকই একদিন প্রমাণিত হবেই। খন্দকার মাহবুব রায়ের পর নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু আপীল বিভাগের রায়, আমরা অবশ্যই এ রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে রিভিউ করব। আমরা আশা করব, রিভিউয়ে আমরা বহালকৃত সাজা থেকে মুক্তি পাব। তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তারা এই রায়ে হতাশ হয়েছেন।
রিভিউ টিকে না ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-ে দ-িত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) ফাঁসির আদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখায় জনগণ স্বস্তির নিঃস্বাস নিতে পেরেছে। আর একাত্তরে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের লোকজনও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। রিভিউয়েও সাকা চৌধুরীর মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, আপিলে ফাঁসি বহাল থাকায় রিভিউয়ের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর থেকে এই সময় পাবেন। তার পর শুনানি হবে। রিভিউ আবেদনে মুক্তি সম্ভব নয় জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে এ পর্যন্ত কোনরকম ব্যত্যয় ঘটেনি তাই, রিভিউ করে এই রায় থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
চেষ্টা ছিল যে মৃত্যুদ- বহাল থাকে ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে আপীল বিভাগে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছি তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তাতে যেন তার কনভিকশন হয়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল মৃত্যুদ- যেন বহাল থাকে। সর্বোচ্চ আদালতে সেটা বহাল থাকায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে তা দূরীভূত হয়েছে। আর যে মেঘ রয়েছে আগামী দিনে তা কেটে যাবে।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ॥ এদিকে ট্রাইব্যুনাল রায়ের তিনটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, (১) বিচারের প্রাথমিক পর্যায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালতের কোর্ট ডেকোরাম (শালীনতা) ভঙ্গ করে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। (২) ট্রাইব্যুনালের বিচারকগণ আদালতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজলাসে উপস্থিত সবাই দাঁড়ালেও তিনি বসে থাকতেন। অনেক সময় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি। (৩) ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের তিনি চেয়ারম্যান ও মেম্বার সাহেব বলে সম্বোধন করতেন। তিনি একজন পার্লামেন্টের সদস্য হয়েও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। ট্রাইব্যুনালকে নানাভাবে অবজ্ঞা করেছেন। এগুলো নিন্দনীয়। তবে এই পর্যবেক্ষণ রায়ের ক্ষেত্রে কোন প্রতিফলন ঘটাবে না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাকা চৌধুরী দেয়া ডকুমেন্ট এলিবাই (অন্যত্র থাকার অজুহাতে রেহাই পাওয়া) দেয়া প্রমাণ করে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। রায়ে বলা হয়েছে, সাকা চৌধুরী বিদেশে গেছেন এটা ঠিক নয়। মূলত: একাত্তরের ২০ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চন্দনপুর সাকার জীপে আক্রমণ করেছিল, তাতে তিনি আহত হন। সেই আক্রমণে গ্রেনেড হামলায় গাড়ির চালক নিহত হন। সাকা জখম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সেখানে যে ডাক্তার ডা. একেএম শফিউল্লাহ তাকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন সেই ডাক্তার ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষী দিয়েছেন। যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড চার্জ করেছিল তারাও ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষী দিয়েছেন।একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর (নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ বুধবার এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বুধবার সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে এই আপীলের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই আপীল বিভাগের আইনজীবী, সাংবাদিক আর বিচারপ্রার্থীরা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা আসামি সাকার রায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আপীল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। ৭ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হলো। ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হলো। মাত্র এক মিনিটেই সাকার রায় ঘোষণা শেষ করেন। রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রীমকোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় এ্যাটর্নি জেনারেল, প্রসিকিউটরবৃন্দ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। সাকার ফাঁসির রায় বহাল থাকায় এবার তাঁর দ- কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির অপেক্ষা শুরু হলো। রায় কার্যকর করতে আরও তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ। দ্বিতীয়ত রিভিউ আবেদন। আপীল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করলে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন। উল্লেখ্য, আপীল বিভাগে এটাই প্রথম বিএনপির কোন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদ- বহাল রাখা হলো।
এদিকে রায় ঘোষণার সময় সবার আগে এসে প্রথম বেঞ্চে আসন নেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার পাশে বিএনপিপন্থী অন্য কোন আইনজীবীকে দেখা যায়নি। পরে শুধু এসেছেন সাকা চৌধুরীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও তানভীর আহমেদ আল আমীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি প্রমাণিত হয়। ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে সাকাকে মৃত্যুদন্ড-াদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আপীল বিভাগ তা বহাল রাখেন। ৭ নম্বর অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন আপীল বিভাগ। ২ ও ৪ নং সাকাকে ট্রাইব্যুনাল ২০ বছরের কারাদ- প্রদান করেন। সেটা আপীল বিভাগ বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাকাকে ৫ বছর করে কারাদ- প্রদান করা হয়। আপীল বিভাগ সেটাও বহাল রেখেছেন। এদিকে সাকার মৃত্যুদ- আপীলেও বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আইনমন্ত্রী। তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রত্যাশিত এ রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছে জাতি। এ রায় পুরো সমাজের জন্য স্বস্তির বলেও মন্তব্য করেছেন।
আপীলেও সালাউদ্দিনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশিত ছিল জানিয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, “আপীলে মৃত্যুদ- বহাল থাকবে এটি অবশ্যই অত্যন্ত প্রত্যাশিত ছিল। এরকম অপরাধে আগে যত মামলা হয়েছে তারমধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী সাকা। আপীল বিভাগের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, প্রত্যাশা অনুয়ায়ী রায় হয়েছে। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, যেহেতু আপীল বিভাগের রায়, আমরা অবশ্যই এ রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে রিভিউ করব। আমরা আশা করব, রিভিউয়ে আমরা বহালকৃত সাজা থেকে মুক্তি পাব। তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তারা এই রায়ে হতাশ হয়েছেন।” মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-ে দ-িত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) ফাঁসির আদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে। আর একাত্তরে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের লোকজনও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। রিভিউয়েও সাকা চৌধুরীর মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে এটি হবে আপীল বিভাগের পঞ্চম রায়। এর আগে আরও চারটি মামলার আপীল নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা (মৃত্যুদ- কার্যকর), নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (আমৃত্যু কারাদ-) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ- কার্যকর) ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ- বহাল)। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত না হওয়ায় রিভিউ নিষ্পত্তি হয়নি। আর আপীলে থাকা অবস্থাতেই জামায়াত সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বর্তমানে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলীসহ আরও ৮টি মামলা আপীল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর যে সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো, ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নং অভিযোগ। এছাড়াও প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষী না দেয়াতে যে অভিযোগগুলো নিয়ে আদালত কিছু বলেনি সেগুলো হলো, ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ নং অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাকা চৌধুরী ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবার সুপ্রীমকোর্টে আপীল দায়ের করেন।
প্রত্যাশিত রায় ॥ সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় প্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ রায়ই প্রত্যাশা করেছিলাম। এ সাজা না হলে প্রচ- হতাশ হতাম। রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাকা চৌধুরী বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ৯টি অভিযোগে তাকে মৃত্যদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। আর সুপ্রীমকোর্ট শুধু একটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে বাকি ৮টি অভিযোগে তার দ- বহাল রেখেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, তিনি (সাকা চৌধুরী) দেশে ছিলেন না, এমন বক্তব্য গ্রহণ করেননি সর্বোচ্চ আদালত।
রিভিউ করব ॥ চূড়ান্ত রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরপরই রিভিউ করবেন বলে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বাবা নির্দোষ ছিলেন তা ঠিকই একদিন প্রমাণিত হবেই। খন্দকার মাহবুব রায়ের পর নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু আপীল বিভাগের রায়, আমরা অবশ্যই এ রায়ের অনুলিপি হাতে পেলে রিভিউ করব। আমরা আশা করব, রিভিউয়ে আমরা বহালকৃত সাজা থেকে মুক্তি পাব। তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তারা এই রায়ে হতাশ হয়েছেন।
রিভিউ টিকে না ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-ে দ-িত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) ফাঁসির আদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখায় জনগণ স্বস্তির নিঃস্বাস নিতে পেরেছে। আর একাত্তরে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের লোকজনও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। রিভিউয়েও সাকা চৌধুরীর মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, আপিলে ফাঁসি বহাল থাকায় রিভিউয়ের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর থেকে এই সময় পাবেন। তার পর শুনানি হবে। রিভিউ আবেদনে মুক্তি সম্ভব নয় জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে এ পর্যন্ত কোনরকম ব্যত্যয় ঘটেনি তাই, রিভিউ করে এই রায় থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
চেষ্টা ছিল যে মৃত্যুদ- বহাল থাকে ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে আপীল বিভাগে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছি তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তাতে যেন তার কনভিকশন হয়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল মৃত্যুদ- যেন বহাল থাকে। সর্বোচ্চ আদালতে সেটা বহাল থাকায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে তা দূরীভূত হয়েছে। আর যে মেঘ রয়েছে আগামী দিনে তা কেটে যাবে।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ॥ এদিকে ট্রাইব্যুনাল রায়ের তিনটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, (১) বিচারের প্রাথমিক পর্যায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালতের কোর্ট ডেকোরাম (শালীনতা) ভঙ্গ করে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। (২) ট্রাইব্যুনালের বিচারকগণ আদালতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজলাসে উপস্থিত সবাই দাঁড়ালেও তিনি বসে থাকতেন। অনেক সময় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি। (৩) ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের তিনি চেয়ারম্যান ও মেম্বার সাহেব বলে সম্বোধন করতেন। তিনি একজন পার্লামেন্টের সদস্য হয়েও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। ট্রাইব্যুনালকে নানাভাবে অবজ্ঞা করেছেন। এগুলো নিন্দনীয়। তবে এই পর্যবেক্ষণ রায়ের ক্ষেত্রে কোন প্রতিফলন ঘটাবে না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাকা চৌধুরী দেয়া ডকুমেন্ট এলিবাই (অন্যত্র থাকার অজুহাতে রেহাই পাওয়া) দেয়া প্রমাণ করে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। রায়ে বলা হয়েছে, সাকা চৌধুরী বিদেশে গেছেন এটা ঠিক নয়। মূলত: একাত্তরের ২০ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চন্দনপুর সাকার জীপে আক্রমণ করেছিল, তাতে তিনি আহত হন। সেই আক্রমণে গ্রেনেড হামলায় গাড়ির চালক নিহত হন। সাকা জখম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সেখানে যে ডাক্তার ডা. একেএম শফিউল্লাহ তাকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন সেই ডাক্তার ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষী দিয়েছেন। যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড চার্জ করেছিল তারাও ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষী দিয়েছেন।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৭:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮



ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×