somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র‍্যাব বাতিল করা না করা প্রসঙ্গে

১৩ ই মে, ২০১৪ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং অনেকেই র‍্যাব বাতিল করা না করা নিয়ে আলোচনা করছেন । টিভি টক শোতেও বিষয়টি প্রাধান্য থাকছে । আমার মতে র্যািব গঠন করা ছিল একটি সময়উপযোগী সিদ্ধান্ত । সেই সময় সাধারন আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল বিধায় র‍্যাব এর মত একটি এলিট ফোরস গঠন করা জরুরী ছিল । এই ধরনের ফোরস পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই দেখা যায় । সাধারন আইনে সন্ত্রাস দমন না করতে পারলে এলিট ফোরস বিশেষ ভুমিকা রাখে । সাধারন মানুষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিদের কাছে সেই সময় জিম্মি ছিল । মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন আছে , সেটা নিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান কাজ করবে – এটা তাদের দায়িত্ব । আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা বিধান করা । জনগণ র‍্যাব দ্বারা উপকৃত হয়েছিল ।
৮২ থেকে ৯০ এর শাসনামল , ৯১ থেকে ২০০১ এর দুই টার্মের শাসনামলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি কালো টাকা ২০০১ সালের পর থেকে সমাজের সকল স্তরে ব্যপক প্রভাব পরেছিল । কালো টাকা যেহেতু বৈধভাবে বিনিয়োগ সম্ভব নয় ফলে অবৈধ পথে বিনিয়গের জন্য সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে । সেটা চোরাচালানই হোক আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জমি দখলই হোক, সাথে বাজার দখল, ঘাট দখল, বাস স্ট্যান্ড দখল , টেন্ডারবাজী ইত্যাদি তো থাকছেই। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদেরও ঝুট কিনার নামে জোর করে ফ্যাক্টরি থেকে তৈরিকৃত পোশাক নিয়ে নিত । সমস্ত অবৈধ ব্যবসার শিকার হয় সাধারন জনগণ । যেহেতু কালো টাকা বা লুটেরাপুজি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি হয় ফলে এই লুটেরা পুঁজির বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব থাকে । সেই প্রভাবে আইনের ফাক দিয়ে এরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে । এ ছাড়া অস্র ও অর্থের জোরে এরা রাজনীতির উপরও প্রভাব তৈরি করে । মুলত সেই সন্ত্রাস মাস্তান বাহিনীকে নিয়ন্ত্রনের জন্যই র্যাতব এর মত একটি বাহিনী তৎকালীন সময়ে জরুরী হয়ে পড়েছিল । তখন র‍্যাব এর ভুমিকা দেশের অর্থনীতি ও সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছিল । সাধারন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পেয়েছিল । নিরাপদ বিনিয়গে উৎসাহী হয়েছিল । দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পরেছিল । সেই ইতিবাচক প্রভাবেই নিরাপদ জমি ক্রয় বিক্রয় ও বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছিল ।
সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে কালো টাকা অবৈধ বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ হওয়ার কারনে সেই টাকা নানা প্রক্রিয়ায় শিল্প ও বানিজ্যে খাতে ব্যপক বিনিয়োগ হয়েছিল । সেই ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকার কালো টাকা শিল্প বানিজ্যে বিনিয়োগে অফিসিয়ালি উৎসাহ না দিলেও কোন নিয়ন্ত্রণ করে নাই । সেই কারনে ব্যপক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে , ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছে , উন্নয়ন খাতে দরপত্র আহবান করে যে কাজ করা হয় তার প্রাথমিক পুঁজিটা আসে এই কালো টাকা থেকে । কারন কোন ঠিকাদার দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পর কাজ শুরু করার জন্য বাংলাদেশের কোন ব্যাংক ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট দেয় না । এই ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট এর উৎস হচ্ছে কালো টাকা । গার্মেন্টস পন্যের সরবরাহকারী হিসেবে আজ বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ এখন দুই নম্বরে – এই জায়গায় যাওয়ার জন্য মাফিয়া মুক্ত একটি পরিবেশ বিশেষ ভুমিকা রেখেছে । চাঁদাবাজি , মাস্তানি, জমিদখল , হত্যা, নির্যাতন , ধর্ষণ ইত্যাদি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে আইনের ফাক দিয়ে বেড়িয়ে আসলে সাধারন মানুষ আপনা থেকেই মাফিয়া চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে যায় । এমনকি পুলিশও অসহায় বোধ করে । কারন এই মাফিয়া চক্র রাজনীতিকে ব্যবহার করে আইনকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
বর্তমানে দেশে যে পরিমান কালো টাকা তৈরি হয়েছে তা অবশ্যই শিল্প ও বানিজ্যে বিনিয়োগ প্রয়োজন । না হলে এই টাকা ইউরোপ, আমেরিকা নিয়ে গিয়ে তাদের উন্নয়নে ব্যবহার করবে । বিভিন্ন দেশ যে ইনভেস্টমেন্ট ইমিগ্রেসন ও সেকেন্ড হোম দেয় তা হচ্ছে অন্য দেশের কালো পুজি নিজ দেশে এনে শিল্প বানিজ্যে বিনিয়োগ করা – এটা অফিসিয়ালি । আন অফিসিয়ালি সুইস ব্যংক গুলো বসে আছে এই কালো পুঁজিকে এনে বিনিয়োগ করার জন্য । কাজেই অন্য দেশ যদি আমাদের কালো পুজি নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে তবে আমরা কেন জোর করে সেই টাকা বের করে দিব । কালো এবং সাদা উভয়ই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে পুঁজি । রাষ্ট্রের আয়কর বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাদা ও কালো পার্থক্য করা হয় । ফলে কালো হোক আর সাদা হোক , পুঁজি মানেই অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা। এক সময় ব্রিটিশরা তাদের জলদস্যুদের নাইট উপাধি দিয়েছিল , কারন অন্য দেশের জন্য সে দস্যু হলেও নিজ দেশের অর্থনীতিতে সম্পদ বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রেখেছিল ।
কথা হচ্ছে র‍্যাব নিয়ে । এই কালো টাকা শিল্প খাতে ব্যবহারে র‍্যাব'র বিশেষ ভুমিকা আছে । এতদিন র‍্যাব রাজনৈতিক নির্দেশেই সমাজের আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি করেছিল । রাষ্ট্রের সকল বাহিনীই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনে থেকে নির্দেশ পালন করে । রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশের বাইরে কোন বাহিনী কাজ করতে পারে না । আর রাজনীতি থেকে উতসরিত দুর্নীতি রাষ্ট্রের সকল জায়গাতেই আছে , বিশেষ বাহিনীতে থাকাটাও স্বাভাবিক । সেনাবাহিনী যে কোন সময় মিলিটারি শাসন দিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে , তাই বলে সেনা বাহিনী বাতিল করে দেয় না কেউ । বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে সেনা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় । এ ক্ষেত্রে র্যা ব নারায়নগঞ্জে যা করেছে তার জন্য র্যাবব বাতিল করে দেয়া উদ্যেস্য প্রণোদিত । র‍্যাব যাতে দুর্নীতি মুক্ত থেকে কাজ করতে পারে বরং তার ব্যবস্থা করা উচিৎ । পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট অনুযায়ী যারা র্যকবকে ব্যবহার করেছে তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চিহ্নিত মাফিয়া চক্র । যদি র‍্যাব বাতিল করা হয় তবে এই সব মাফিয়া চক্র এই সমাজে আর একটি মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে এবং ভারতের মত মাফিয়া রাজ্যে পরিনত করবে । মুলত রাজনীতি যেহেতু এখন মাফিয়াদের হাতে জিম্মি তাই মাফিয়াদের স্বার্থে রাজনীতি ব্যবহৃত হচ্ছে । মাফিয়াদের তৈরি কালো টাকা যাতে অবৈধ পথে বিনিয়োগ করা যায় তারই একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে র‍্যাব বাতিলের প্রস্তাব । যে সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা সাম্রাজ্যবাদের টাকায় এনজিও পরিচালনা করে ও দেশের দুর্নীতি বিরোধী শ্লোগান দেয় তারা মুলত চায় কালো পুঁজি এ দেশ থেকে বের হয়ে যাক, এটা তাদের মিশন । র‍্যাব উঠিয়ে দিলে মাফিয়াদের অত্যাচারে বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে সকল পুঁজিই দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাবে । সমস্ত শিল্প বাণিজ্য বন্ধ হয়ে হিরোইন , ফেনসিডিল, ইয়াবা , ডলার , গোল্ড , অস্র, এ সমস্ত ব্যবসার স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হবে । জঙ্গিবাদের উত্থান হবে । সম্ভাবনাময় Emerging Tiger বা Next Eleven খ্যাত বাংলাদেশ পরিনত হবে মাফিয়া ও জঙ্গিবাদের দেশে ।
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×