ইদানিং অনেকেই র্যাব বাতিল করা না করা নিয়ে আলোচনা করছেন । টিভি টক শোতেও বিষয়টি প্রাধান্য থাকছে । আমার মতে র্যািব গঠন করা ছিল একটি সময়উপযোগী সিদ্ধান্ত । সেই সময় সাধারন আইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল বিধায় র্যাব এর মত একটি এলিট ফোরস গঠন করা জরুরী ছিল । এই ধরনের ফোরস পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই দেখা যায় । সাধারন আইনে সন্ত্রাস দমন না করতে পারলে এলিট ফোরস বিশেষ ভুমিকা রাখে । সাধারন মানুষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিদের কাছে সেই সময় জিম্মি ছিল । মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন আছে , সেটা নিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান কাজ করবে – এটা তাদের দায়িত্ব । আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা বিধান করা । জনগণ র্যাব দ্বারা উপকৃত হয়েছিল ।
৮২ থেকে ৯০ এর শাসনামল , ৯১ থেকে ২০০১ এর দুই টার্মের শাসনামলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি কালো টাকা ২০০১ সালের পর থেকে সমাজের সকল স্তরে ব্যপক প্রভাব পরেছিল । কালো টাকা যেহেতু বৈধভাবে বিনিয়োগ সম্ভব নয় ফলে অবৈধ পথে বিনিয়গের জন্য সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে । সেটা চোরাচালানই হোক আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জমি দখলই হোক, সাথে বাজার দখল, ঘাট দখল, বাস স্ট্যান্ড দখল , টেন্ডারবাজী ইত্যাদি তো থাকছেই। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদেরও ঝুট কিনার নামে জোর করে ফ্যাক্টরি থেকে তৈরিকৃত পোশাক নিয়ে নিত । সমস্ত অবৈধ ব্যবসার শিকার হয় সাধারন জনগণ । যেহেতু কালো টাকা বা লুটেরাপুজি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি হয় ফলে এই লুটেরা পুঁজির বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব থাকে । সেই প্রভাবে আইনের ফাক দিয়ে এরা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে । এ ছাড়া অস্র ও অর্থের জোরে এরা রাজনীতির উপরও প্রভাব তৈরি করে । মুলত সেই সন্ত্রাস মাস্তান বাহিনীকে নিয়ন্ত্রনের জন্যই র্যাতব এর মত একটি বাহিনী তৎকালীন সময়ে জরুরী হয়ে পড়েছিল । তখন র্যাব এর ভুমিকা দেশের অর্থনীতি ও সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছিল । সাধারন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পেয়েছিল । নিরাপদ বিনিয়গে উৎসাহী হয়েছিল । দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পরেছিল । সেই ইতিবাচক প্রভাবেই নিরাপদ জমি ক্রয় বিক্রয় ও বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছিল ।
সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে কালো টাকা অবৈধ বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ হওয়ার কারনে সেই টাকা নানা প্রক্রিয়ায় শিল্প ও বানিজ্যে খাতে ব্যপক বিনিয়োগ হয়েছিল । সেই ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকার কালো টাকা শিল্প বানিজ্যে বিনিয়োগে অফিসিয়ালি উৎসাহ না দিলেও কোন নিয়ন্ত্রণ করে নাই । সেই কারনে ব্যপক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে , ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছে , উন্নয়ন খাতে দরপত্র আহবান করে যে কাজ করা হয় তার প্রাথমিক পুঁজিটা আসে এই কালো টাকা থেকে । কারন কোন ঠিকাদার দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পর কাজ শুরু করার জন্য বাংলাদেশের কোন ব্যাংক ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট দেয় না । এই ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সাপোর্ট এর উৎস হচ্ছে কালো টাকা । গার্মেন্টস পন্যের সরবরাহকারী হিসেবে আজ বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ এখন দুই নম্বরে – এই জায়গায় যাওয়ার জন্য মাফিয়া মুক্ত একটি পরিবেশ বিশেষ ভুমিকা রেখেছে । চাঁদাবাজি , মাস্তানি, জমিদখল , হত্যা, নির্যাতন , ধর্ষণ ইত্যাদি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে আইনের ফাক দিয়ে বেড়িয়ে আসলে সাধারন মানুষ আপনা থেকেই মাফিয়া চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে যায় । এমনকি পুলিশও অসহায় বোধ করে । কারন এই মাফিয়া চক্র রাজনীতিকে ব্যবহার করে আইনকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
বর্তমানে দেশে যে পরিমান কালো টাকা তৈরি হয়েছে তা অবশ্যই শিল্প ও বানিজ্যে বিনিয়োগ প্রয়োজন । না হলে এই টাকা ইউরোপ, আমেরিকা নিয়ে গিয়ে তাদের উন্নয়নে ব্যবহার করবে । বিভিন্ন দেশ যে ইনভেস্টমেন্ট ইমিগ্রেসন ও সেকেন্ড হোম দেয় তা হচ্ছে অন্য দেশের কালো পুজি নিজ দেশে এনে শিল্প বানিজ্যে বিনিয়োগ করা – এটা অফিসিয়ালি । আন অফিসিয়ালি সুইস ব্যংক গুলো বসে আছে এই কালো পুঁজিকে এনে বিনিয়োগ করার জন্য । কাজেই অন্য দেশ যদি আমাদের কালো পুজি নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে তবে আমরা কেন জোর করে সেই টাকা বের করে দিব । কালো এবং সাদা উভয়ই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে পুঁজি । রাষ্ট্রের আয়কর বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাদা ও কালো পার্থক্য করা হয় । ফলে কালো হোক আর সাদা হোক , পুঁজি মানেই অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা। এক সময় ব্রিটিশরা তাদের জলদস্যুদের নাইট উপাধি দিয়েছিল , কারন অন্য দেশের জন্য সে দস্যু হলেও নিজ দেশের অর্থনীতিতে সম্পদ বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রেখেছিল ।
কথা হচ্ছে র্যাব নিয়ে । এই কালো টাকা শিল্প খাতে ব্যবহারে র্যাব'র বিশেষ ভুমিকা আছে । এতদিন র্যাব রাজনৈতিক নির্দেশেই সমাজের আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি করেছিল । রাষ্ট্রের সকল বাহিনীই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনে থেকে নির্দেশ পালন করে । রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশের বাইরে কোন বাহিনী কাজ করতে পারে না । আর রাজনীতি থেকে উতসরিত দুর্নীতি রাষ্ট্রের সকল জায়গাতেই আছে , বিশেষ বাহিনীতে থাকাটাও স্বাভাবিক । সেনাবাহিনী যে কোন সময় মিলিটারি শাসন দিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে , তাই বলে সেনা বাহিনী বাতিল করে দেয় না কেউ । বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে সেনা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় । এ ক্ষেত্রে র্যা ব নারায়নগঞ্জে যা করেছে তার জন্য র্যাবব বাতিল করে দেয়া উদ্যেস্য প্রণোদিত । র্যাব যাতে দুর্নীতি মুক্ত থেকে কাজ করতে পারে বরং তার ব্যবস্থা করা উচিৎ । পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট অনুযায়ী যারা র্যকবকে ব্যবহার করেছে তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চিহ্নিত মাফিয়া চক্র । যদি র্যাব বাতিল করা হয় তবে এই সব মাফিয়া চক্র এই সমাজে আর একটি মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে এবং ভারতের মত মাফিয়া রাজ্যে পরিনত করবে । মুলত রাজনীতি যেহেতু এখন মাফিয়াদের হাতে জিম্মি তাই মাফিয়াদের স্বার্থে রাজনীতি ব্যবহৃত হচ্ছে । মাফিয়াদের তৈরি কালো টাকা যাতে অবৈধ পথে বিনিয়োগ করা যায় তারই একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে র্যাব বাতিলের প্রস্তাব । যে সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা সাম্রাজ্যবাদের টাকায় এনজিও পরিচালনা করে ও দেশের দুর্নীতি বিরোধী শ্লোগান দেয় তারা মুলত চায় কালো পুঁজি এ দেশ থেকে বের হয়ে যাক, এটা তাদের মিশন । র্যাব উঠিয়ে দিলে মাফিয়াদের অত্যাচারে বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে সকল পুঁজিই দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাবে । সমস্ত শিল্প বাণিজ্য বন্ধ হয়ে হিরোইন , ফেনসিডিল, ইয়াবা , ডলার , গোল্ড , অস্র, এ সমস্ত ব্যবসার স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হবে । জঙ্গিবাদের উত্থান হবে । সম্ভাবনাময় Emerging Tiger বা Next Eleven খ্যাত বাংলাদেশ পরিনত হবে মাফিয়া ও জঙ্গিবাদের দেশে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



