somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাজায় ইস্রায়েলি হামলার কারন

০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এর অন্যতম নেতা ইয়াসির আরাফাত ছিলেন পিএলও ( Palestine Liberation Organization ) কতৃক সর্ব মহলের স্বীকৃত নেতা । পিএলও মুলত ১৯৬৪ সালে ১০টি ছোট বড় রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে গঠিত একটি ফ্রন্ট । এই ফ্রন্ট এর লক্ষ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা । বর্তমান স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই ১০০ দেশ কতৃক স্বীকৃতি লাভ করেছিল এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা লাভ করেছিল । সেই সাথে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অভজারভার হিসেবে সদস্য পদ পেয়েছিল । ইয়াসির আরাফাত ছিলেন একমাত্র নেতা যিনি রাষ্ট্র ছাড়া রাষ্ট্রপতির মর্যাদা নিয়ে বিদেশ সফর করতেন । আর এতসব সম্ভব হয়েছিল আরব রাষ্ট্রগুলির ফিলিস্তিন প্রস্নে একজোট হওয়া ।
নিম্নের সংগঠনগুলো নিয়ে পিএলও গঠিত হয়েছিল
১। ফাত্তাহ - সব চেয়ে বড় সেক্যুলার বাম পন্থী ন্যাশনালিস্ট ( ইয়াসির আরাফাত এই সগঠনের নেতা ছিলেন )
২। পপুলার ফ্রন্ট অব দি লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন - দ্বিতীয় বৃহত্তম সসস্র কম্যুনিস্ট সংগঠন
৩। ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ দা লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন - তৃতীয় বৃহত্তম সসস্র কমিউনিস্ট সংগঠন
৪। প্যালেস্টাইন পিপলস পার্টি - নিরস্র সাবেক রুশপন্থী কম্যুনিস্ট
৫। প্যালেস্টাইন লিবারেশন ফ্রন্ট - মুলত বর্তমান আবু আব্বাসের একটি বামপন্থী গ্রুপ
৬। আরব লিবারেশন ফ্রন্ট - ইরাকের সাবেক বাথ পার্টির সাথে সম্পর্কিত একটি গ্রুপ
৭। আসসিয়াকা - সিরিয়া সমর্থিত একটি গ্রুপ
৮। প্যালেস্টাইন ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন - একটি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক নিরস্র গ্রুপ
৯। প্যালেস্টাইন পপুলার স্ত্রাগল ফ্রন্ট - একটি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের গ্রুপ
১০। প্যালেস্টাইন আরব ফ্রন্ট - ফাত্তাহ সমর্থিত ও ইরাকের সাবেক বাথ পার্টির পৃষ্ঠপোষকতায় একটি ছোট গ্রুপ

উপরোক্ত রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর সমন্বয়ে গঠিত পিএলও ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করে ইসরাইলের সাথে ব্যপক গেরিলা যুদ্ধ । এই সময় ইসরাইলের বিমান ছিনতাই থেকে শুরু করে সমস্ত ধরনের গেরিলা আক্রমনের মাধ্যমে ইসরাইল - ফিলিস্তিন যুদ্ধ গোটা আরব বিশ্বকে ব্যাস্ত রাখে ।
১৯৮৭ সালে মার্কিনের সহায়তায় ইসরাইলের হাতে পিএলও ব্যপক সৈন্য নিহত ও বন্দি হলে প্রথম যুদ্ধ বিরতি শুরু হয় যা ইতিহাসে ১ম ইন্তিফাদা নামে পরিচিত । এরপর আর পিএলও খুব একটা মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি । তখনই আবির্ভাব হয় গাজা উপত্যকা থেকে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ছুন্নি ইসলাম পন্থী কাসেম ব্রিগেড যা পরবর্তীতে হামাস নামে পরিচিত হয় । এদের লক্ষ্য মুলত স্বাধীন প্যালেস্টাইন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা । পিএলও একটু বামপন্থী ঘেঁষা বিধায় মুসলিম ধর্মাবলী সকল প্যালেস্টাইন মুক্তিকামী মানুষ হামাসকে সমর্থন দেয়া শুরু করে এবং গাজা অঞ্চলে ব্যপক সমর্থন ও আধিপত্য বিস্তার করে । হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খালেদ মাসাল ( কাসেম ) ঘোষণা করে যে ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের আলোচনা হতে পারে । কিন্তু ইসরাইল হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকা ভুক্ত করে সাথে সাথে আমেরিকা , ব্রিটেন, ইউরোপ, কানাডা জাপান হামসকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে , মিসর ও জর্ডান ও এর সাথে সুর মিলায় । মুলত আরব বিশ্ব বিভক্ত হতে থাকে এই হামাসের উত্থানের পর থেকে । হামাসের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে অ্যামেরিকার উদ্যেগে ইস্রায়েল প্যালেস্টাইন ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরু হয় ১৯৯১ সালে স্পেনের মাদ্রিদে । মুলত ভঙ্গুর রাশিয়া এই শান্তি আলোচনায় বেশ অগ্রসর ভূমিকা রেখেছিল । ১ম শান্তি আলোচনায় প্যালেস্টাইন - জর্ডান যৌথভাবে ইস্রায়েল এর সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল পরেবার ১৯৯২ সালে রাশিয়ায় লেবানন ও সিরিয়াকে বাদ দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সকলেই আলোচনায় অংশ নেয় । ১৯৯৩ সালের নরওয়ের অসলোতে জাতিসঙ্ঘের ২৪২ ও ৩৩৮ ধারায় সসস্র আন্দোলন ত্যাগ করতে পিএলও অঙ্গীকারবদ্ধ হয় । এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৯৪ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিন অঞ্চল গঠিত হয় । মুলত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে গঠিত হয় এই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র । স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হলেও মুলত গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রনে থেকে যায় এবং ফাত্তাহ এর নেতৃত্বে পিএলও অবস্থান নেয় পশ্চিম তীরে । ২০০৪ সালে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু হলে ২০০৬ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এই নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করে । ফাত্তাহ এর সাথে হামাসের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয় এবং ২০০৭ সালে হামাস অফিশিয়ালি গাজার উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে । ২০১১ সালে ফাত্তাহ হামাস দুই পার্টি একটি রিকন্সিলেসন চুক্তিতে সই করে এবং জুন ২০১৪ সালে একটি যৌথ সরকার প্রতিষ্ঠা করে । সরকারে হামাসের যোগ দেয়ার পরই ইসরায়েল আবার গাজার উপর হামলা শুরু করে যা এখনও অব্যহত আছে ।
মুলত এই হোল গাযায় ইস্রায়েলি হামলার কারন ।
মার্কিন - ব্রিটিশ - ইসরাইল পররাষ্ট্রনীতিতে হামাস একটি ইসলামী জঙ্গি সংগঠন এবং নিষিদ্ধ , পশ্চিমা বিশ্ব তড়িঘড়ি করে পিএলও র মাধ্যমে ইসরাইলের একটি মীমাংসায় পৌঁছে মুলত হামাসের উত্থান ও রাতারাতি জন সমর্থনের কারনে । এটা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা সংগঠন । অনেকটা জামাতে ইসলামীর মত । পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীরা গাঁজায় হামলার নিন্দা জানায় কিন্তু হামাসকে সমর্থন করে না । আমি শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং যে কারনে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরে ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই সেই আলোকে বলার চেষ্টা করেছি । জনাব মাহবুব তার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করেছেন যা অবস্যই গুরুত্বপূর্ণ । রাজনীতি যেহেতু অর্থনীতির স্বার্থে পরিচালিত হয় কাজেই ইসরাইলের গাজা নীতি আর মার্কিনের প্যালেস্টাইন নীতির মধ্যে পার্থক্য আছে । গাঁজায় হামলার ব্যপারে খোদ পিলও বা ফত্তাহ গ্রুপের কোন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে তন্ন তন্ন করে খুজে পাইনি । আরববিশ্ব তার নিরবতা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে হামাস নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে দ্বন্দ্বে তারা যেতে রাজী নয় । ফলে গাঁজা আক্রমনের ভিতর দিয়ে পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতি ফিলিস্তিন জনগণকে বুঝাতে চায় যে হামাসকে বাদ দিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে হবে । এটা স্পষ্ট একটি রাজনৈতিক চাপ এবং দুঃখজনক হলেও সত্য এই রাজনৈতিক চাপ এর ফলে সাধারন মানুষ মরছে । অচিরেই তাদের স্বীকৃত রাজনৈতিক শক্তি ফাত্তাহকে দিয়ে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজনে যাওয়ার সম্ভাববনা আছে এবং ততক্ষন পর্যন্ত গাঁজায় হামলা থেমে থেমে অব্যহত থাকবে বলেই আমার ধারনা । আর এটা না করতে পারলে পশ্চিমাদের তেল - গ্যাস এর স্বার্থ এর সাথে সম্পর্কিত মার্কিন প্যালেস্টাইন নীতি ব্যর্থ হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:১৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×