সময়টা বছর বিশেক আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে সহপাঠিদের তিন ভাগের দুই ভাগই মেয়ে। তারা সবাই সালোয়ার কামিজ পরে ক্লাশে আসে।
সময়টা এখন বা আরো চার পাঁচ বছর আগে থেকে, কলেজে আমার বিভাগের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ছাত্রীকে দেখি তারা বোরখা পরে বা হিজাব পরে। প্রথমে ভাবতাম বোরখা হয়তো এ অন্চলের মেয়েরা বেশি পরে। পরে জানলাম সারা বাংলাদেশেরই এটা কমন চিত্র।এটা নিঃসন্দেহে একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বাংলাদেশে।
উমেন চ্যাপ্টারে ফারহানা আনন্দময়ি নামে কেউ একজন হিজাব নিয়ে লিখতে যেয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন, এই হিজাব পরার কারনে আমরা দ্রূত মৌলবাদী রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছি। আর হিজাবটা বাঙ্গালী সংস্কৃতির পোষাক না বিধায় বাঙ্গালী সংস্কৃতিও হুমকির মুখে।
এ ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার জন্য এ লেখা।
আমার এক কলিগ বোরখা পরা এক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করছিলো, তুমি কেনো বোরখা পর? তার জবাব ছিলো কলেজে আসার সময় যে পোশাকটা পরা থাকে তার উপর বোরখা পরে আসলে, ভেতরের পোষাকটা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
আমার পরিচিত এক নারী হিজাব পরে, সে হিজাব পরার কারন হিসেবে বলে, হিজাব পরলে তার চুল ধূলা ময়লা থেকে মুক্ত থাকে।
তবে এ জাতীয় কারন যে যতই বলুক, আমি যেটুকু বুঝি তাতে বোরখা এবং হিজাব পরার মূলত দুইটি কারন,
১. পর্দা করা।
২. ফ্যাশন হিসেবে বোরখা এবং হিজাব পরা।
পোষাক যে যেটাই পরুক, এটা তার ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে কারোরই কিছু বলার নাই। তবে এটাকে যারা মৌলবাদী আগ্রাসন বা বাঙ্গালী সংস্কৃতি হুমকির মুখে বলছে তাদের সাথে আমার কিছুটা ভিন্ন মত আছে। বিশ বছর আগে আমার সহপাঠিরা যে সালোয়ার কামিজ পরতো সেটাও আমাদের পোষাক নয় কিন্তু সেটা নিয়ে কোন বিতর্ক হয় নি।
পোষাকের বিবর্তনটা অতীতেও ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। বর্তমানের বিবর্তন নিয়ে যারা অহেতুক আমরা মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছি টাইপের আশংকা করছেন, তারা ভূল আশংকা করছেন বলেই আমি মনে করি। পর্দার জন্য যারা বোরখা বা হিজাব পরছে তারা কেউই বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনীর সময়ের নারীদের মত না। তারা পর্দা করে সব ধরনের কাজ করছে, এটা আমরা সবাই দেখছি। আর যারা ফ্যাশনের জন্য পড়ছে তাদের ক্ষেত্রে বলার কিছুই নেই কারন ফ্যাশনটা পরিবর্তনশীল একটা ব্যাপার, সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



