somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আধার আমি
আমি শেষ রাতের অবহেলিত চাঁদ। যাকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সমাজের বেশির ভাগ মানুষ দেখতে পারে না। ঘুমের দোহাইয়ে সবাই আমার সাথে প্রতারণা করে। আর আমি সমাজ জাগতে জাগতে তে-পান্তরে হারিয়ে যায়।

প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা এবং কিছু কথা...

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এ জনমে মিলন হবেনা তাই পর জনমে মিলনের আশায় আত্মহত্যা করলো প্রেমিকজুটি। নাম শারমিন এবং মমিন। দুই জনই নাসিং ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থী।

শারমিনের বাবা একজন রাজমিস্ত্রী। নাম চাঁন মিয়া। অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করে টাকা আয় করে মেয়েকে পড়াত। কিন্তু তার প্রতিদান এমনভাবে দিবে বাবা ভাবতে পারেনি।

বাবার ভাষায়, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়ালাম। এভাবে কষ্ট দিয়ে যাবে তা কখনোই ভাবিনি।’

মমিনের পড়ালেখার খরচ পাঠাতো বড় ভাই। নাম জালাল উদ্দিন। বড় ভাইয়ের কষ্ট এভাবে প্রকাশিত হলো: ‘মাসে মাসে পড়ার খরচ পাঠাতাম। এভাবে সে সর্বনাশ করবে তা টের পাইনি।’

ভালোবাসা স্বর্গীয় তবে, এই প্রেমিক জুটি সেটা পবিত্র রাখতে পারেনি। স্থানীয়দের ভাষায়:- প্রায় তিন মাস আগে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর কদমতলার মোড় এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন মমিন ও শারমিন। দুজনে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন।

শারমিন আর মমিন জানিনা কোন কারণে এমন জঘণ্য কাজ করেছে। তারা যদি নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে দুজনে এগিয়ে যেতো। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতো আরো সুন্দর করে জীবন গড়ার আমার মনে হয়না তাদের মিলনে কেউ বাঁধা হত।

তাদের পরিবারের সকলের আকুতিতে মনে হয়না পরিবার ভালোবাসার অবমাননা করত। পরিবার চেয়েছিল তাদের সন্তান যেনো মানুষের মত মানুষ হয়। তাদের এমন ইচ্ছা ছিলনা যে তারা প্রেম করুক আর তাদের স্বপ্ন নষ্ট করুক।

মমিন-শারমিন ইচ্ছা করলে পারতো ক্যারিয়ারকে গড়তে।

যায় হোক, তারা মৃত্যুর সময় দুজনেই দুটি চিরকুট রেখে গেছে। চিরকুট দুটি হলো:-

শারমিনের লেখা চিরকুট: ‘বাবা-মা আমায় তোমরা মাফ করে দিও। আমি মমিনকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। আমরা দুজনকে সারা জীবন পেতে চাই। আমি জানি তোমরা মেনে নিবেনা। এই দুনিয়ায় না পাই, পরের জনমে তো পাব। আমার ছোট বোনদের মানুষের মতো মানুষ করো। আমার জন্য দোয়া করিও। আমাদের কবর যেন একই কবরে হয়। মমিনকে ছেড়ে যেতে পারলাম না। ভালো থেকো মা-বাবা। ইতি তোমাদের বেয়াদব শারমিন।’



এটা পারিবারিক সীমাবদ্ধতা নাকি শারমিনের মানসিক সীমাবদ্ধতা? তার বাবার আকুতি বলে তাকে তার পরিবার অনেক ভালোবাসতো। হয়তো সাময়িক তারা চাঁপ দিচ্ছিলো যেনো মেয়ে বিগড়ে না যায়। আফসোস মা-বাবার চিন্তায় সত্য হলো।

মমিনের চিরকুট:- ‘আমরা দুজন দুজনকে সবচাইতে বেশি ভালবাসি। কিন্তু ভালবাসা এতো কষ্টের দুজন বুঝি নাই। একজনকে ছেড়ে অন্য জন্য কখনো থাকতে পারবো না, তাই দুজন চলে গেলাম সবাইকে ছেড়ে। আমাদের দুজনের শেষ ইচ্ছা, আমাদের যেনো একই জায়গায় কবর দেওয়া হয়। আর বাবা-মা তোমরা খুব ভালো থেকো। দোয়া করো। এ জনমে আমাদের মিলন হলো না, পরজনমে যেন মিলন হয়। আমাদের একই জায়গায় যেন কবর দেওয়া হয়। আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। ইতি শারমিন+মোমিন।’

মমিনের মা-বাবা আছে। অর্থ পাঠাতো ভাই জালাউদ্দিন। তার সীমাবদ্ধতা আমার বোধগম্য নয়, কিভাবে সে পরিবারের সবার চায়তে একটি মেয়েকে ভালোবাসে।

আমার বিশ্বাস তার মা-বাবা দুই জনেই বয়স্ক। পরিবারের হাল ধরে আছে বড় ভাই। কতটুকু ভালোবাসা থাকলে ভাই লেখাপড়ার খরচ দেয় যারা এমন সমস্যায় পড়েছে তারাই বুঝবে।

ভালোবাসা তার সব অন্ধ করে দিলো। এখন হয়তো মা-বাবা সন্তানের শোকে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হবে।

চিরকুটে তাদের একটা আশার কথা ছিলো। তাদের যেনো একই কবরে মাটি দেওয়া হয়। কিন্তু তা হয় কি করে?
আর তারা কার কাছে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করলো আমার মাথায় এলোনা। ভালোবাসলে মানুষের বোধশক্তি লোপ পায় এটাই তার প্রমাণ।

শারমিনের লাশ পবার শিতলায় এলাকায় এবং মমিনের লাশ মান্দা উপজেলার চকরধিনাথ গ্রামে শনিবার রাতেই দাফন হয়েছে।

যুগলের পরিচয়:
শারমিনের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার শিতলাই গ্রামে। তার বাবার নাম চান মিঞা। শারমিন নগরের ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আর আবদুল মমিন নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকরঘুনাথ গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে। তিনি নগরের ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল নার্সিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:২৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×