
ছেলেটি কানে হেডফোন লাগিয়ে লাল গেঞ্জি আর কালো প্যান্ট পরে ব্যাস্ত রোডে ধীর কদমে পথ চলে। নরম তুলতুলে দেহের সুন্দরী রমনীরাও তার পাশ দিয়ে হেটে আগে চলে যায়। আড় চোখে দেখে। রমনীদের সাবলীল চলার আদিমতা। কিন্তু ছেলেটি পারে না তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে।
কারণ আর কিছু নয়-শুধু পায়ের জুতা জোড়া। একটু দ্রুত হাটলে যদি ছিড়ে যায়! এমনই ভয়। আগে একবার ছিড়েছে ঠিক বাংলামটর ওভার ব্রীজে পার হয়ে হাতিরপুলে নামার পথে। ওখানে এক পরিচিত মুচি ছিলো। দুভার্গ্য বেটা আজ বসেনি।
ছোট খাটো একটা জবও করে ছেলেটি। আত্মসম্মান বলুন আর যায় বলুন জুতা জোড়া হাতে নিয়ে চলাতো সম্ভব নয়। তাই টেনে টেনে হাটা।
সন্ধ্যার পরের ব্যস্ত ঢাকা। কত সুন্দরীদের মেলা। জোড়ায় জোড়ায় তারা বড় বড় শপিং মল থেকে কেনাকেটা করে ফিরছে। কেউ বা স্বর্গীয় অপ্সরার রুপে সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। তাদের দুই একজন তাকিয়ে তাকে দেখছে কি সে জানে না। তবে এরকম পরিবেশে হাটা অনেক কষ্টকর। তবুও হাটতে হচ্ছে।
অবশেষে, হাতিরপুলের শেষ মাথায়, এ্যালিফ্যান্ট রোডের শুরুতে মিলল একটা মুচি। জুতা জোড়া পা থেকে খুলে মুচির সামনে দিয়ে বললো, কত নেবেন?
বললো পনের টাকা।
ছেলেটি বললো আপনার কাছে এই জুতা জোড়া পনের টাকায় বিক্রি করব। কিনবেন? মাত্র পনের টাকা। ছেলেটি জানত তার জুতা পনের টাকায়ও কেউ কিনবে না।
মুচি শুনে একটা হাঁসি দিলো।
আপনি তাহলে কেমন করে মেরামতে পনের টাকা চান?
মুচি বলল কিছু করার নেই, মামা পনের টাকায় দিতে হবে। বাধ্য হয়ে ছেলেটি তার পনের টাকা মূল্যের ছেড়া জুতা পনের টাকায় মেরামত করল।
সেই মহামান্য জুতা জোড়া পায়ে দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত এই পথে হাটতে হয়। তাই সে এতটা ধীর গতিতে পদ সঞ্চালন করে হাটে। পিছে ভয় যদি আবার ছিড়ে যায়। জুতা জোড়ার হাল এমন যে পায়ের গোড়ালি শহরের পিচ ঢালা পথের উষ্ণ অনুভূতি মস্তিষ্কের নিউরনের কাছে পৌঁছে দেয়।
এক জোড়া জুতার আর কত দাম?
এ রকম প্রশ্ন জানি পাঠককুলের মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে। কিন্তু ছেলেটির মত বাস্তবতার সম্মুখীন আপনারা মনে হয় কখনো হননি। তাই এই সব প্রশ্ন। যায় হোক এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেক বড় লেখা হয়ে যাবে। অন্য এক দিন ছেলেটির বাস্তবতার বাস্তব গল্প শেয়ার করার ইচ্ছা আপনাদের সামনে প্রকাশ করে রাখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



