
মায়ের সংগে কথা বলতে গেলে বুকের মধ্যে ধড়ফড় করে ওঠে। মায়ের সারা শরীরে ব্যথা। কথা বলে ফোনে প্রচণ্ড রকম যণ্ত্রনা নিয়ে।
একসময় মায়ের সাথে এত সময় ধরে গল্প করতাম যে, কখন দুই জনে হাসতে হাসতে লুটে পড়তাম খেয়াল থাকত না। সাথে ছোট বোনটিও।
ছোট বোন আমাকে প্রশ্ন করত, ভাই আজকে কি দিয়ে ভাত খেয়েছিস?
-ডান হাত দিয়ে।
তখন ও বলত কুত্তা, আমি কি তোরে এই জিজ্ঞাসা করেছি। কি তরকারি দিয়ে খেয়েছিস?
-রান্না করা তরকারি দিয়ে।
আবার ক্ষেপে যেত। বলত, কাচা তরকারি দিয়ে কেউ খায় নাকি?
-হেসে দিতাম। বলতাম তুই কেমন আছিস?
-ভালো আছি।
-কি করছিস?
-তোর সাথে কথা বলতেছি।
-আরে না তাতো ঠিক আছে। কিন্তু তুই আসলে কি করতেছিস?
-আমি ঘরের মধ্য খাট আছে না?, তার ওপরে পাটি, তার ওপরে তোষক, তার ওপরে কাথা, তার ওপরে বিছানা চাদর –আমি সেই বিছানা চাদরের ওপর বসে তোর সাথে কথা বলছি।
এরপর দুই জনে মিলে অনেক হাসাহাসি করতাম। আম্মুও পাশে বসে উচ্ছস্বরে হাসত। আমি সব শুনে নিজেকে স্বর্গীয় মনে করতাম।
এরমাঝে অনেকদিন গেলো। বিয়ে করলাম। বাবা হলাম। ছোট বনের বয়স বাড়লো। আমি বেকারত্ব ঘুচানোর নাম নিয়ে ছোটখাটো একটি কাজ নিলাম।
এখন আম্মু অসুস্থ। ছোট বোনের হার্ট এ সামান্য সমস্যা । বাবার মাজায় বেদনা। মেয়ের অসুস্থতা। বউয়ের বাতুলতা। সময় আমাকে বড় বেইমান করে রেখেছে। কারো সাথে কথা বলতে পারি না।
আগে যখন কথা বলতাম তখন দায়িত্ব ছিল না। পড়া লেখা করতাম। ছাত্র। সেই রকম আনন্দ নিয়ে কথা বলতাম। এখন পারি না। কারণ সামান্য বেতন। নিঝে চলতে পারি না এই ঢাকার শহরে।
বাড়ির সবার কথা চিন্তা করলে মনে হয় আমি এতটা অকর্মণ্য। আমার মনে হয় বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই। মরে যাওয়ায় শ্রেয়। কিন্তু পারি না ।
একদিন সবাইকে নিয়ে এক সাথে বসে গল্প করবো। অনেক মজা করব। এমন একটা স্বপ্ন আমাকে সবসময় বাঁচিয়ে রাখে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



