আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল ঈদ। পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশের সব পেশার মানুষ বেতন, বোনাস পেলেও মিডিয়া'র অনেক হাউজ সাংবাদকিদের বেতন, বোনাস দেয়নি। এ দেশের সাংবাদিকদের কাছে ঈদ মানে আনন্দ না, কষ্টের বোঝা! কর্পোরেট মিডিয়া হাউজের মালিকেরা অন্য সেক্টরের কর্মীদের বেতন, বোনাস মাসের শুরুতে পরিশোধ করলেও মিডিয়া সেক্টরে এসে 'গরিব', বা 'দেউলিয়া' হয়ে যান! মাসের পর মাস বেতন না দেয়াটা মিডিয়া হাউজের একটা 'ফ্যাশন' হয়ে গেছে! তবে এর জন্য মালিকদের পাশাপাশি দায়িত্বশীল, সিনিয়র সাংবাদিকরাও সমানভাবে দায়ী। কারন, তারা জুনিয়রদেরকে অনেক সময় মানুষ মনে করেন না! তাদের কোনো আনন্দ, উৎসব থাকতে নেই!

১৯৭৫ সাল, বা এর পরবর্তী ঈদের কথা আজ খুব মনে পড়ছে। যদিও ওই সময় আমি দেখিনি এ পৃথিবীর আলো। তবে এখন ভাবছি, পিতা, মাতা, আত্নীয়, স্বজন, আর ছোট্ট রাসেলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার কষ্টের সেই ঈদের কথা। আমি বুঝি, ঈদ তখন তাদের জন্য আনন্দের বিপরীতে কষ্ট নিয়ে আসতো। সেই সময়কার ঈদ কখনোই তাদের জন্য আনন্দ নিয়ে আসতো না।
'৭৫ এর সেই শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে তাকে অনেক কঠিণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দেশের স্বার্থে আইনী ব্যবস্থা নিতে হয়েছে বেশকিছু 'পত্রিকা, টিভি'র বিরুদ্ধে। এর ফলে বেকার হয়েছেন অনেক সাংবাদিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার মতো ক্ষুদ্র এ 'লেখক'র লেখা পৌছাবে কি না জানি না। তারপরেও বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে ১৯৭৫ পরবর্তী ঈদ যেমন আনন্দের পরিবর্তে কষ্ট নিয়ে আসতো, রাসেল'র জন্য বুকের ভেতর যেমন হাহাকার করতো, ঠিক তেমনি এখনকার ঈদ ওই বেকার সাংবাদিকদের কাছে আনন্দের পরিবর্তে কষ্ট নিয়ে হাজির হয়। আমি দেখেছি, ওই সাংবাদিকরা যখন রাসেল'র সমবয়সী তাদের সন্তানদেরকে ঈদে নতুন জামা কিনে দিতে অক্ষম হন, ধারের জন্য হাত পাতেন অন্যের কাছে। তখন আমার মনে পড়ে '৭৫ পরবর্তী আপনার কষ্টের সেই ঈদের কথা। যখন নিজের মা, ভাই, বোন আর প্রিয়তমার চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হন, তখনো মনে পড়ে সেই ঈদের কথা। যদিও আমি আমার অফিস থেকে বেতন, বোনাস ঠিকমতোই পেয়েছি। আর বন্ধ হওয়া কোনো মিডিয়া হাউজে 'সৌভাগ্যবশত' আমি কখনো ছিলাম না। তারপরেও সেই সাংবাদিকদের সঙ্গে 'ঈদের কষ্ট' ভাগ করে নেয়ার জন্য এবারো আমি রাজধানীতেই আছি। যাইনি, যাবো না আমার মায়ের কোলে, সবুজ, শ্যামল গাঁয়...।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হয়তো জানেন না, যে মিডিয়া হাউজের বিরুদ্ধে আপনি ব্যবস্থা নিয়েছেন, ওই হাউজে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনেকেই ছিলেন। তাছাড়া, হাউজের অনেক বিষয়ে চাকরিজীবি সাংবাদিকদের কিছু করার থাকে না, বা তাদের কোনো 'কন্ট্রিবিউশন' থাকে না। 'অসহায়, দু:স্থ সাংবাদিক' নামধারী বিত্তবান 'ধান্দাবাজ'দেরকে 'শ্রাদ্ধ' না দিয়ে কোনো মিডিয়া বন্ধ হয়ে গেলে ওখানকার বেকার সাংবাদিকদের অন্ততো ছয় মাস বেতন দিলে, বা ঈদ, পূজার মতো সময়ে একমাসের বেতন, বোনাস দিলে কি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়ে যায়? রাসেল'র সমবয়সী শিশুদের অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে এ কাজটা কি শুরু করা যায় না?
আহসান কামরুল
১৭.০৭.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




