'ভি' চিহ্নকে 'বিজয় চিহ্ন' বলে ধরা হয়। বহু কাঙ্ক্ষিত বিজয় পাওয়ার পর সাধারণত এই চিহ্ন দেখানো হয়। এই চিহ্ন দেখানোর আগে আমাদের শিখতে হপে কখন এই চিহ্ন দেখাতে হয়। না বুঝে শুনে এই চিহ্ন দেখালে ইজ্জত খোয়া যেতে পারে এমনকি হতে পারেন মৃত্যুর সম্মুখীন। ইতিহাস আছে ভি দেখালেই ফাসি নিশ্চিত।
আমাদের দেশে ভি চিহ্ন মূলত আলোচনায় আসে যখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়ে 'বিজয়চিহ্ন' কাদের মোল্লা দেখান। এই ভি/বিজয় চিহ্ন সেই সময় হিট খায়। এ ছাড়াও পোলাপাইন এ প্লাস পাইলে ভি চিহ্ন দেখায় থাকে। অনেক রমণী গ্রুপ বেধে ছবি তোলার সময় হুদাই এই চিহ্ন দেখায়। এর কার অবশ্য জানা যায় নাই।
এ চিহ্ন দেখানোর সময় হাতের তালু থাকতে হপে সামনের দিকে। শান্তি এবং বন্ধুত্বের (সৌহার্দ্যের) প্রতীক হিসেবেও এ চিহ্ন দেখানো হয়। বাই চান্স আপনে যদি এর বিপরীত করেন তবে তার সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়ে যায়। হাতের তালু ভেতরের দিকে অর্থাৎ নিজের দিকে রেখে 'ভি' চিহ্ন দেখানো অবজ্ঞার প্রতীক, রাগ প্রকাশ, আদালতের প্রতি অবজ্ঞাজনক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আজ রোববার, ০২ নভেম্বর ২০১৪, ১৮ কার্তিক ১৪২১, ৮ মহররম ১৪৩৬ জনাব মীর কাসেম প্রিজন ভ্যান থেকে দুই হাতে ‘বিজয় চিহ্ন’দেখান। উনার এই ভি দেখানোর পদ্ধতি সংজ্ঞা অনুযায়ী সঠিক হলেও উনি বে জায়গায় এই আচরণ করে ফেলেছেন। কাদের সাহেব এই চিহ্ন প্রথমে দেখিয়েছিলেন মৃত্যু দন্ড না পেয়ে যাবজ্জীবন এর রায় পাবার পর। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি উনি প্রথমে কম শাস্তির রায় পেয়ে খুশী হয়ে এই চিহ্ন দেখান। মাগার জনাব মীর কাসেম কি বুঝে সঠিক বিজয় চিহ্ন দেখালেন তা বোঝা গেল না।
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ভি-চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয় ১৪১৫ সালে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষী যুদ্ধে। ওই সময় ফ্রান্সের সৈন্যরা ইংরেজ সৈন্যদের ধরে তাদের মধ্যমা ও তর্জনি কেটে দিতে শুরু করে। পরে ইংরেজরা নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে ওই দুটি আঙ্গুল উপরে তুলে ধরে ভি-চিহ্ন দেখাতে শুরু করে। তাঁরা ভি-চিহ্ন দেখানোর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে বোঝানোর চেষ্টা করত যে, এখনো তাদের আঙ্গুল রয়েছে, যা দিয়ে যুদ্ধে জয়ী হবেন তাঁরা।
তাই এই চিহ্ন দেখানোর আগে ভেবে চিন্তে দেখাতে হপে। তা না হলে কল্লা উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




