somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদে মিলাদুন্নবী ( সাঃ )

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঈদে মিলাদুন্নবী ( সাঃ ) এর অর্থ হলো নবী ( সাঃ ) এর আগমনের দিনে খুশি উদযাপন করা । এটা হতে পারে টাকা খরচ করে মানুষকে খাওয়ানো অথবা পরিবারকে খাওয়ানো । হতে পারে কোরান হাদিসের আলোচনা করা , ছুটি কাটানো ইত্যাদি । আর যেহেতু নবী ( সাঃ ) একই দিনে ইনতেকাল করেছেন , সেজন্য দিনটাকে অবশ্যই ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা আরো সহজ । তাই এইদিন উপলক্ষে বেশি বেশি দরুদ পড়া , নফল নামাজ পড়া , রোজা রেখে নবী ( সাঃ ) এর উপর ছওয়াব রেছানী করা যায় এবং এর মাধ্যমে দিনটাকে ইসলামী সংস্কৃতির অনন্য দিন হিসেবে পালন করা যায় । কোন সন্দেহ নাই ।

রাসুল ( সাঃ ) এর জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন আসলেই কি একেবারে সাধারণ একটি দিন , নবী ( সাঃ ) কি একজন সাধারণ মানুষ ( নাউজুবিল্লাহ ) ছিলেন । তার পৃথিবীতে আগমনের দিনে মুমিনগন কি কোন আনন্দ করবে না । সত্যিকার অর্থে , নবী ( সাঃ ) এমন একটি হীরাখন্ড ছিলেন , যে হীরার মূল্য আল্লাহ ব্যাতীত সকল কিছুর চাইতেও অনেক বেশি । তাছাড়া নবীদের মৃত্যু সাধারণ মানুষের মত গভীর মৃত্যু না । তাহারা বিশেষ অবস্থায় কবরে জীবিত থাকেন , এমনকি তাদের দেহ পর্যন্ত কিছুমাত্র নষ্ট হয় না । এই কারণে নবী ( সাঃ ) এর মৃত্যুর চাইতে জন্মের গুরুত্ব বেশি । তাই এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে , ঈদে মিলাদুন্নবী ( সাঃ ) পালন করা একটা বিদআতে হাসানাহ এবং প্রচুর সওয়াবের কাজ ।

আলোচনা লম্বা করা যায় , কিন্তু আমি সংক্ষেপে বলছি । দ্বীনের মাঝে নতুন হাজার হাজার পদ্ধতি নতুনভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে । অধিকাংশ দল এই হাজার হাজার নতুন পদ্ধতিকে খোঁড়া যুক্তি দিয়ে এবং চরম হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলছে যে , এগুলো বিদাআত নয় । যেমন - মসজিদে চাকচিক্য , জামা - কাপড়ে চাকচিক্য , মাদ্রাসা সৃষ্টি ইত্যাদি । অপরদিকে সত্যিকারের সুফিগন যদি কোন আমলকে বিদআতে হাসানাহ বলেন , সেখানেই যত আপত্তি ।

সত্যিকারের সুফিগন যখন প্রত্যেক আমলের কোরান হাদিস থেকে দলিল দেন , তখন তারা বলে এগুলো তো বুখারীতে নাই , মুসলিমে নাই , আর কোরানের ব্যাপারে বলে - তোমরা কুরানের অর্থ জাননা । আসল সত্যি হলো সত্যিকারের সুফিগনই কোরানের আসল অর্থ জানেন । উদাহারণ হিসেবে বলা যায় , ইসলামিক সম্মেলন , টিভি নেটে বক্তৃতা , বই ছাপানো , অনেক ধরনের পোশাক , আচার অনুষ্ঠান এগুলোও তো বিদআত । কিন্তু তোমরা খোঁড়া যুক্তি দিয়ে এগুলো অস্বীকার করছ । তাছাড়া , আজকাল তো মাযহাব তরিকা মানা অধিকাংশ দলগুলোও ঈদে মিলাদুন্নবী ( সাঃ ) পালন করাকে বিদআত বলে চিৎকার করছে । এসব আলোচনা শুনলে সাধারণ মানুষ না হেসে পারবে না ।আসলে মাযহাব তরিকাই তো বিদআত , তাহলে মিলাদ ক্বিয়াম বিদআত হলে দোষ কি ?

আলোচনা লম্বা করা যায় , কিন্তু অত টাইপ করা সম্ভব না । আমি যেটা বলছি তা শোন - আগে নামাজ পড়া শিখ , নামাজে আল্লাহকে দেখা শিখ । তবেই বুঝতে পারবে কোনটা ইসলাম এবং কোনটা ইসলাম নয় । তুমি যদি চক্ষুষমান হও , অতঃপর যারা ঈদে মিলাদুন্নবী ( সাঃ ) পালন করে না , তুমি তাদের অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখতে পাবে এবং তারা তোমার সাথে নামাজ পড়লে তুমি চাক্ষুষ দেখবে যে , তাদের হৃদয় থেকে অন্ধকার তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করছে । তোমার নামাজে একনিষ্ঠতা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে ।

আরেকটা সাবধান বাণী করছি - অমুসলিমরা যেমন মুসলমান সহ্য করতে পারে না , তেমনি সকল ইসলামী দলেরা সত্যিকারের সুফিবাদ ইসলাম দেখতে পারে না । সকল মুসলমানদের মাঝে যেমন অসংখ্য দল আছে , তেমনি সুফিদের মাঝেও অসংখ্য দল আছে । যেসব সুফি ও তাদের ভক্তরা মানষের ভাল দেখলে জ্বলে পুড়ে মরে এবং মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে ও খারাপ বুদ্ধি দেয় , তারা শতভাগ মুনাফিক এবং চিরজাহান্নামী । কোন সন্দেহ নাই ।

বর্তমান সময়ে প্রায় সম্পূর্ণ দূর্বল মানুষের দুনিয়ায় আরেক ধরনের অনেক দল আছে , যারা ধর্মকে অসম্ভব কঠিন করে মানুষের সমনে উপস্থাপন করে , আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি , এরা কখনোই জান্নাতের গন্ধ পর্যন্ত পাবে না ।

অতএব , যারা মানবাধিকারকে পূর্ণভাবে মেনে চলে , মানুষকে খারাপ বুদ্ধি দেয় না , মানুষের খারাপ চায় না এবং ধর্মকে কঠিন করে উপস্থাপন করে না , তারাই সত্যিকারের সুফি এবং তাদেরকেই মেনে চল ।

( ডাঃ আকন্দ ) ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪২
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×