
১. ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে নরম আলোটা কিছুক্ষণ উপভোগ করুন। সূর্যের নরম আলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে, এবং আপনার মেজাজ ফুরফুরে করবে। সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরণের ফলে কাজে মনোযোগ বেড়ে যাবে। মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণের ফলে আপনার দেহ ঘড়ি (circadian rhythm) ঠিকঠাক মত চলবে। সারাদিন মনের ফুর্তিতে কাজ করতে পারবেন এবং দিনের আলো নিভে গিয়ে রাতের আঁধার নেমে আসার সাথে সাথে ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসবে। আরো কিছু বাড়তি উপকার পাবেন যেমন, হতাশা এবং উদ্বেগ কমে যাবে এবং সেই সাথে ব্লাড প্রেশারও কমবে।

২. খুব ছোটো একটা ব্যায়াম করুন। মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়াম। মাত্র ৫ মিনিট হাঁটুন, সেই সাথে হাত দুটা কয়েকবার উপরে উঠান-নামান, তারপর কয়েকবার এক পায়ে দাঁড়ানোর ব্যাল্যান্স করুন, প্রথমে এক পা তারপর অপর পা। এই ছোট ছোট ব্যায়ামে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ হয়, ফলে মানসিক চাপ কমে যায়।

৩. আপনার ড্রয়ারটা একটু গুছান। খুব ছোট একটা কাজ কিন্তু মনে অনেক বড় প্রশান্তি নিয়ে আসে। বিশেষ করে যারা এক জায়গায় থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছেন, আর ভাল লাগছে না। খুব ছোট এই কাজটা করুন। দেখুন, আপনার ড্রয়ারটা ছোট ছোট কাগজ এবং নানা জিনিস দিয়ে ভরে আছে। বসে বসে এইগুলি গুছান। যা যা দরকার নেই ফেলে দিন। বাকিগুলি গুছিয়ে রাখুন। এইভাবে আপনার ক্লোজেট, আলমারি, বুকশেলফ ইত্যাদি গুছাতে পারেন। করে দেখুন খুব হালকা লাগবে। মনে হবে অনেক বড় বোঝা নেমে গেছে। মুক্ত বিহঙ্গের মত মনে হবে।

৪. অনেক দিন যোগাযোগ নাই এমন মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করুন। স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে একসাথে পড়েছেন, বা একসময় একসাথে কাজ করেছেন, বা আত্মীয় বা একসময় প্রতিবেশী ছিলেন কিন্তু অনেক দিন কোন যোগাযোগ নাই। জাস্ট তার ফোন নাম্বার যোগাড় করে ফোন করে খুঁজে খবর নেন।
৫. দলবদ্ধ ভাবে কিছু কাজ করুন। একক ভাবে একজনের সাথে মিশার চাইতে একটা দলের সাথে মিশা সুবিধাজনক। যেমন ধরুন, আপনি প্রতিদিন একজনের সাথে পার্কে হাঁটেন। সে যদি অসুস্থতা বা অন্যকোন কারণে আসতে না পারে তা হলে আপনার হাঁটাটাও ব্যাহত হবে। কিন্তু যদি একটা দলের সাথে প্রতিদিন হাঁটেন তা হলে দলের একজন-দুইজন না আসলেও আপনার হাঁটা ব্যাহত হবে না। আপনি কখন একাকীত্ব বোধ করবেন না। একত্রে একটা গ্ৰুপের সাথে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারেন।

৬. কম পক্ষে পাঁচ মিনিট মেডিটেশন করুন। উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ভাবনা, আশঙ্কা, সন্দেহ বা ভয় অথবা কোন নেগেটিভ চিন্তা যখন মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন মাত্র পাঁচ মিনিটের এই মেডিটেশন আপনারা মনকে আক্ষরিক অর্থেই পরিষ্কার করে দিবে। মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। মনের এই ব্যায়ামটি শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



