এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপ চারিতায় এই প্রশ্নটা আসছে। প্রশ্নটা আসা স্বাভাবিক। বিশেষকরে আমেরিকানদের কাছে। আমেরিকাতে যারা বাস করে তাদের অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা করোনা ভাইরাসের থেকে বেশি।

আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এক রিপোর্টে বলেছে, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ মাত্র ৫ মাসে আমেরিকাতে ৪ কোটি ৯০ লক্ষ লোক ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে। এই আক্রান্তদের ২ কোটি ৩০ লক্ষ জন ডাক্তার দেখিয়েছেন, তারমধ্যে ৬ লক্ষ ২০ হাজার জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তারমধ্যে ৫২ হাজার মারা গেছে।
অপরদিকে এই লেখা যখন লিখছি তখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১,২১,৩১২ জন আর মারা গেছে ৪,৩৭৯ জন। (ফ্লুর হিসাবটা শুধু আমেরিকার আর করোনা ভাইরাসের হিসাবটা সারা বিশ্বের)
তাহলে ভয়টা কোথায়?
রোনাল্ড রেগান ইউ সি এল এ মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগের ডাক্তার অটো ইয়াং, এমডি, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, "আমার মনে হয়ে ভয়ের বড় কারণ অজানা ভয়। যে শত্রুকে আপনি চিনেন না, সেই শত্রু, যে শত্রুকে আপনি চিনেন তার চেয়ে বেশি ভীতিকর।"
ভ্যাকসিন নাই, ওষুধ নাই
মানুষ বহু শতাব্দী ধরে মৌসুমি ফ্লুর সাথে লড়াই করে আসছে, তাই বিজ্ঞানীরা শীতের মাসগুলিতে প্রচলিত ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যয়ন করার সুযোগ পেয়েছেন। এই গবেষণার ফলে ফ্লুর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে এবং অনেক উন্নত ওষুধ বের হয়েছে যা জনসংখ্যার বিশাল অংশকে ফ্লু আক্রান্ত হতে রক্ষা করে এবং যারা সংক্রামিত হয় তাদের ক্ষেত্রে এর তীব্রতা হ্রাস করে। এছাড়াও, এমন ওষুধ পাওয়া যায় যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাল করে এবং কখনও কখনও অসুস্থতার সময়কাল কমিয়ে দেয়।
এছাড়াও, ফ্লুতে আক্রান্ত হতে হতে মানুষের দেহে ফ্লুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। এর অর্থ ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত সবাই অসুস্থ হয় না।
তবে করোনাভাইরাসটি প্রায় তিন মাস ধরে অস্তিত্বশীল, তাই মানুষের মধ্যে কোনও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো জন্মায় নাই। তার উপর দুর্ভাগ্যক্রমে, এখনো করোনাভাইরাসে কোন ভ্যাকসিন বের হয় নাই। যদিও বেশ কয়েকটি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের কাজ চলছে, তবে কমপক্ষে ১৮ মাসের আগে কোনটাই বাজারে আসবে না।
এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য কোনও ওষুধ নির্দিষ্টভাবে তৈরি করা এখনো সম্ভব হয়নি , যদিও গবেষকরা বিদ্যমান এন্টিভাইরাল ওষুধগুলি পরীক্ষা করে দেখছেন যে এতে ভাল হয় কি না?
যেহেতু কোন ভ্যাকসিন এবং ওষুধ নাই তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রোগ প্রতিরোধের জন্য হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকা, জনসমাগম হয় এমন স্থান যেমন, মিটিং, অনুষ্ঠান, স্কুল ইত্যাদি বন্ধ রাখা ইত্যাদি ব্যবস্থার কথা বলছেন।
বিশেষজ্ঞরা এখনো করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন:
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরও একটি কারণ হ'ল করোনাভাইরাসটি কীভাবে সহজে ছড়িয়ে যায় সে সম্পর্কে তথ্যের অভাব। বিজ্ঞানীরা জানেন ইনফ্লুয়েঞ্জা কি ভাবে ছড়ায়। অর্থাৎ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বা কথা বললে ভাইরাসটি ৩ থেকে ৬ ফুট সীমার মধ্যে ব্যক্তিকে আক্রান্ত করে। করোনা ভাইরাসের এই বৈশিষ্ট্য ছাড়াও হাম এবং চিকেনপক্সের জীবাণুর মত বায়ুবাহিত। এটা বাতাসেও প্রবাহিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক অবিগ্যালি কার্লসন বলেছেন, "করোনা ভাইরাসের বাতাসে চলার বৈশিষ্ট্যটা ফ্লু ভাইরাস থেকে আলাদা। ফলে ৬ ফুটের বাইরের মানুষকেও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত করতে পারে।"
গবেষকরা বের করার চেষ্টা করছেন কোন জিনিসের উপর যেমন দরজার হাতল, লিফটের বোতাম ইত্যাদিতে এটা কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।
উচ্চ মৃত্যু হার:
করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ফ্লু থেকে বেশি। এখন মৃত্যুর হার অনেক বেশি দেখাচ্ছে প্রায় ৩.৬% তবে এটা ০.২% নেমে আসবে। তবুও এটা ফ্লু থেকে বেশি। গত ফ্লু সিজনে মৃত্যুর হার ছিল ০.১৪%
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভাল উপায়:
যেহেতু ভ্যাকসিন নাই, ওষুধ নাই তাই এখন পর্যন্ত সব চেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে, করোনা ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


