somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্ক, ওয়াশিংটন, ডি.সি.

০৩ রা আগস্ট, ২০২৩ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে আমরা ওয়াশিংটন, ডিসির রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্কে বেড়াতে যাবো। এই পার্কটি ওয়াশিংটন, ডিসিতে হলেও পর্যটকদের কাছে কম পরিচিত একটা জায়গা। যদিও ওয়াশিংটন, ডিসি ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এবং লিঙ্কন মেমোরিয়ালের মতো আইকনিক ল্যান্ডমার্কের জন্য বিখ্যাত কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ এবং মনোরম দ্বীপ পার্কটি শহরের কোলাহল থেকে ভিন্ন ধরণের একটা স্থান৷

আইল্যান্ডে কি ভাবে যাবেন:



ভার্জিনিয়া এবং ওয়াশিংটন, ডি.সির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত পোটোম্যাক নদীর মধ্যে এই দ্বীপ পার্কটি অবস্থিত। দ্বীপ হলেও রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্কটিতে নানাভাবে সহজেই এবং সুবিধাজনকভাবে প্রবেশ করা যায়। ভার্জিনিয়া থেকে একটি সুন্দর ফুট ব্রিজ দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করেছে। এই ফুট ব্রিজ পার হয়ে দ্বীপে প্রবেশ করতে হয়।

দ্বীপ পার্কের পরিকল্পনা এবং নকশা:



দ্বীপটি প্রকৃতি দ্বারা বেষ্টিত একটি শান্ত মরূদ্যানের মত। পার্কটি ১৯৬৭ সালে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে সম্মান জানাতে উৎসর্গ করা হয়েছিল। এই পার্কে নীল এস্টার্ন দ্বারা ডিজাইন করা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের ১৭ ফুট উঁচু একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য আছে।

প্রকৃতির সাথে মিল রেখে পার্কটিকে এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে চারিদিকে ঘন জঙ্গল, জঙ্গলের ভিতর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ কখনো নদীর তীর ঘেঁষে আবার কখনো গহীন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলে গেছে। এছাড়াও আছে বোর্ডওয়াক। এতে আপনি জলাভূমির মধ্যে দিয়েও হাঁটতে পারবেন। হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং বন্যপ্রাণী।

প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী:



রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্ক প্রকৃতি প্রেমী এবং পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। আপনি বনপথ দিয়ে ঘুরাঘুরি করার সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি যেমন হেরন, পেঁচা, কাঠঠোকরা আরো নানান ধরণের পাখি দেখতে পাবেন। বনফুল সহ যত্ন করে লাগানো নানান ফুল এবং প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া নানান দেশীয় গাছ সহ বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ দেখতে পাবেন। বৈচিত্র্যময় গাছগুলি সারা বছর ধরে রঙের একটি শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যের জন্ম দেয়।

পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হল পূর্ব দিকের জলাভূমি এলাকা। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরণের জলজ উদ্ভিদ এবং এমনকি কচ্ছপগুলিকে ভাসমান গাছের কাণ্ডে বসে সূর্যস্নান করতে দেখবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে এই দ্বীপ পার্কটি একটি আদর্শ পিকনিকের স্থান হিসাবে বিবেচিত হয়। অনেকই আসে শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে রিলাক্স করতে এবং প্রকৃতির মাঝে বসে বই পড়তে।

ট্রেইল এবং হাইকিং:



শুধুমাত্র ভ্রমণ পিপাসী বা অবসর সময়ে হাটাহাটি বা ফিটনেসের জন্য জগিং যাই হউক না কেন রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্ক একটা আদর্শ জায়গা। পার্কের ভিতরের মূল পথটি উডস ট্রেইল নামে পরিচিত। ফুট ব্রিজটি পার হয়ে দ্বীপে ঢুকার পর উডস ট্রেইল ধরে হাঁটতে থাকলে আপনাকে একেবারে দ্বীপের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে যাবে।

আর আপনি যদি দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তাহলে মূল পথ থেকে বেরিয়ে এসে আপল্যান্ড ট্রেইলটি ধরে অগ্রসর হতে পারেন। এই ট্রেইল দিয়ে হাঁটলে আপনি পোটোম্যাক নদী এবং আশেপাশের ল্যান্ডস্কেপের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পাবেন। এখন থেকে শহরের স্কাইলাইনের অত্যাশ্চর্য দৃশ্যগুলি দেখতে পাবেন৷

মনকে শান্ত করুন, শিথিলায়ন করুন:



রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্ক শুধুমাত্র প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপন করার জায়গা নয় বরং মনকে শান্ত করার একটা জায়গা। চার একর জায়গায় সোয়াম্প ট্রেইল, শান্ত মেমোরিয়াল প্লাজা, ক্যাসকেডিং জলপ্রপাত, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের বিশাল আকৃতির ভাস্কর্য সব মিলিয়ে প্রকৃতির সাথে মনকে শান্ত এবং শিথিল করার জন্য একটা উপযুক্ত স্থান।

কিছু টিপস:



১. দ্বীপটিতে ভ্রমণের সাথে সাথে একটি পিকনিকের পরিকল্পনা করুন: বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে পিকনিক করার জন্য সাথে খাবার নিয়ে আসুন। পিকনিক উপভোগ করার জন্য একটি ছায়াময় স্থান খুঁজে বের করুন।



২. আরামদায়ক জুতা পরে আসবেন: বিভিন্ন ট্রেইল এবং পথ ঘুরে দেখার সময় হাঁটার জন্য উপযোগী আরামদায়ক জুতা পরুন।



৩. বাইনোকুলার এবং ক্যামেরা: পাখি এবং বন্যপ্রাণী ভাল ভাবে দেখার জন্য এবং ছবি তুলার জন্য দূরবীন এবং ক্যামেরা সাথে নিয়ে আসুন।

৪. ঋতু পরিবর্তন: একেক ঋতুতে দ্বীপটি দেখতে একেক রকম। তাই দ্বীপের পূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন ঋতুতে আসার কথা চিন্তা করুন।

৫. বন্যপ্রাণীকে সম্মান করুন: মনে রাখবেন যে পার্কটি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর জন্য একটি প্রাকৃতিক আবাসস্থল। তাই প্রাণী থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা এড়িয়ে চলুন।

শেষ কথা:



ওয়াশিংটন, ডিসিতে যখন আসবেন তখন এই দ্বীপ পার্কটি ভ্রমণ করতে ভুলবেন না। রুজভেল্ট আইল্যান্ড পার্কের নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করুন৷ প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপন করুন এবং একজন অসাধারণ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করুন যিনি আমেরিকার ইতিহাসে একটি অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছেন।

ছবি: মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২৩ রাত ১২:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×