পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের ঔদাসীন্য
শেখ হাফিজুর রহমান | আপডেট: ০০:৩২, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ
এ নিয়ে কোনোই বিতর্ক নেই যে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে শিক্ষা। কিন্তু এ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নীতি, শিক্ষার প্রতি বিভিন্ন সরকারের মনোভাব, শিক্ষায় আর্থিক বরাদ্দের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে আমরা হতাশাব্যঞ্জক চিত্রই পাই। বিনা মূল্যে পুস্তক বিতরণ, প্রাথমিক শিক্ষায় নারীদের অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যে শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি ভালো বোঝেন, তা মনে হয়নি। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পুলিশ, র্যাব, সামরিক বাহিনী, প্রশাসনের আমলারাই বেশি ভোগ করেছেন। সাধারণ মানুষ, এমনকি রাষ্ট্রের ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হচ্ছে জিডিপির ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা কিনা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে কম। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ওই দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ভারত তার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চশিক্ষা খাতে আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে ১৩ শতাংশ।.......।
বিশ্বখ্যাত আরেক বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন উদ্বোধন করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। ঢাকায় একসময়ে গড়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী গবেষক দল, যারা মৌলিক পদার্থের প্রকৃতি সম্বন্ধে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিল। এসব গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কে এস কৃষ্ণান, এস আর খাস্তগীর, কাজী মোতাহার হোসেন ও আরও অনেকে। বিখ্যাত রোনাল্ড ফিশার ঢাকার বিমানবন্দরে নেমেই কাজী মোতাহার হোসেনের খোঁজ করতেন। এটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার শিক্ষকদের প্রকৃত পরিচয়, সত্যিকারের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের জন্যই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগন্নাথ হলে বসে লিখতে পেরেছিলেন: ‘এই কথাটি মনে রেখো, তোমাদের এই হাসি খেলায়...’ (অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব স্যুভেনির, ২০১২।) যে বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলে খ্যাত ছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ এশিয়ার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্বের প্রথম ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই কেন, সেই প্রশ্নটি করা কি অন্যায্য হবে? এ ব্যর্থতার দায় কি রাষ্ট্রের, না বিশ্ববিদ্যালয়ের, নাকি এটি আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা?
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষা কিসের ওপর দাঁড়াবে, কীভাবে মজবুত হবে টেকসই উন্নয়ন?
শেখ হাফিজুর রহমান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, অপরাধ বিশ্লেষক ও মানবাধিকার গবেষক।
বিষয়:
শিক্ষা শেখ হাফিজুর রহমান মতামত লেখকের কলাম
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


