somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নব্য সভ্যতার অবদান ও তার উল্টো দিক!

২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং কেমন জানি ভাবনাগুলো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। যেসব আমার ভাবনার বিষয় না তাও কেন জানি ভাবতে খুব ইচ্ছে করে। জানি আমার কিছুই করার নেই তারপরও ভাবি। বেশি ভাবি আমাদের এ নব্য ও আধুনিক সভ্যতা নিয়ে। কত কিছু যে এ সভ্যতার অবদান তা লিখে হয়তো প্রকাশ করা সম্ভব না। কিন্তু আমার ভাবনা বা লেখার বিষয় এ নব্য সভ্যতার অবদান নিয়ে নয়। এ সভ্যতার উল্টো দিক নিয়ে। আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে আমাদের কাছ থেকে কি কি কেড়ে নিয়েছে তা সম্পর্কে।

মা-বাবা, ভাইবোন নিয়ে আমরা বসবাস করে আসছি পৃথিবীর সূচনা থেকে। মানুষ কাছের থেকে দূরে চলে যায় এটা স্বাভাবিক। নব্য সভ্যতা সবাইকে এখন কাছে কাছে রাখছে। কিন্তু এর উল্টো দিক আমরা কখনও দেখেছি? মা-বাবা বৃদ্ধ হওয়ার পর নব্য সভ্যতা তাদেরকে একটা আশ্রমে রেখে আসে, যার একটা আদুরে নাম আছে! বৃদ্ধাশ্রম!

ভাই-বোনদেরকে পরস্পর ভালবাসা মানুষের অনন্য ভালবাসা। কিন্তু আমাদের এই আধুনিকতা সেই ভালবাসাকে সন্দেহের চরম পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ভাইয়ের পরিবারের প্রতি বোনের পরিবারের উক্তি-কটূক্তি, নিন্দা। সর্বশেষ ভাইয়ের পরকিয়া কেস, বোনের পরকিয়া কেস। ভাইয়ের পালিয়ে বিয়ে, বোনের পালিয়ে বিয়ে যেন দুজনকে যোজন যোজন দূরে রেখে দিয়েছে।

যোগাযোগ মাধ্যম আমাদেরকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে। যেন কখনই ছিঁড়ে যাওয়ার নয়। কিন্তু আসলেই কি তাই?
একসাথে অনেকদিন পর বন্ধুরা বসেছে একটু আড্ডা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আড্ডাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সবাই সবার সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে ব্যস্ত। হায়রে সামাজিক যোগাযোগ! তুই আমারে পুরাই অসামাজিক করে দিলি?

ছাত্র, ছাত্রী-শিক্ষক সম্পর্ক নাকি সন্তান ও পিতামাতার সম্পর্কের মত। এটা আমরা সবাই জানি। এবং আমাদের সমাজে তা দেখেও এসেছি। কিন্তু আজ! কি দেখছি! কি হচ্ছে? আমাকে, আমার বোনকে আমাদেরই শিক্ষক নিজের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করছেন। যা মানুষ কখনই ভাবেনি।

সর্বশেষ আরেকটি বিষয় হলো, এই সভ্যতা আমাকে অমানুষ বানিয়ে দিচ্ছে! যদি আমি বা আপনি কোন শহরে বাস করে থাকি তবে বিষয়টা ভালো করে বুঝতে পারবো। একজন চাকরিজীবী সকাল ৮ টায় কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় তাকে অমানুষ হতে হয়। এরপর বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে বাসায় ফেরার পথে তাকে অমানুষ হতে হয়। একটা ৬ বছরের বাচ্চার স্কুল সকাল ৭ টায়, কোচিং বিকাল ৫টায়, রাত ৮টায় হাউজ টিউটর! উফফফফ! কি জীবন! সে মানুষ না সেও অমানুষ।
আমার মা, সেও অমানুষ। তাকে সকালে সন্তানকে স্কুল, কলেজে পৌঁছে দিয়ে বাবাকে রেডি করে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়া উপযোগী করতে তাকে অমানুষ হতে হয়। মধবিত্ত পরিবার তো, প্রতি মাসে একটা টানা পড়েনে পড়ে অমানুষ হতে হয়। যা সবই এ নব্য সভ্যতার দান!
ওয়ারফেজের গান দিয়ে শেষে বলতে চাই,

জানালার বাহিরে দেখি, কত রং কত উত্সব,
পর্দার আড়াল থেকে, দেখি আমি সব।

আসতেও চাইনা আমি, বাহিরে মাঝে সবার,
নিজেকেও ভাবিনা আমি, তোমাদেরই আরেকজন।
বিক্ষোভের ভাষা হারিয়ে, উন্মাদ আমার মন,
সবই মিছে তোমার তামাশা, নিয়মের মুখোশ।

হে সমাজ আমি চাইনা তোমার আশ্রয়,
হে সমাজ আমি হয়েছি আজ নির্ভয়।
আমি দেখতে চাই আমার স্বকীয়তা, আমি থাকবো সবার ভিন্ন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×