মাহমুদুর রহমান একজন সত্, সাহসী, নির্ভীক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি সত্যকে তুলে ধরার জন্য কোনো সময়ে পিছপা হননি। আমরা জানি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একটি অন্যটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এজন্য প্রয়োজন সত্, সাহসী ও স্বাধীন সাংবাদিকতা। দেশপ্রেমিক মাহমুদুর রহমান সে কাজই করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এ আপসহীন মানুষটির প্রতি যে নির্যাতন ও অবিচার করা হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রবিরোধী এবং আইনের শাসন পরিপন্থী।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় কয়েকজন সাহসী মানুষ সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের নানা অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন, কথা বলেছেন বিভিন্ন সভা-সেমিনার কিংবা টকশোতে। দেশকে বিরাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে আতাউস সামাদ, ফরহাদ মজহার, আসাফউদেদৗলা, মাহমুদুর রহমান ও নুরুল কবির অন্যতম। ভাবতে অবাক লাগে, আজ সেই মাহমুদুর রহমানের ওপরই চরম নির্যাতন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।
আমার জীবনে অনেক মানুষের সঙ্গে মেশার ও জানার সুযোগ হয়েছে। দেশ ও জাতির সঙ্কট মুহূর্তে তাদের ভূমিকাও দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। কিন্তু মাহমুদুর রহমান ব্যতিক্রম। তার মতো নির্ভীক ও সাহসী কলমসৈনিক আমি আর দেখিনি। দেশের প্রতি তার প্রত্যয়, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিসীম গুরুত্বের দাবিদার। এ ধরনের দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি অবিচার ও অন্যায় আচরণ গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকের প্রতি হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে সরকারের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে, কমে যাবে জনসমর্থন।
একথা সত্য, একটা দেশে কতটা গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে তা বোঝার অন্যতম মাপকাঠি হলো সেই দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন কতটুকু তা জানা। বলা যায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যেমন মানুষের কোনো বাকস্বাধীনতা ছিল না, এখনও সে অবস্থা বিরাজমান। সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললেই তার ওপর নির্যাতন নেমে আসছে। এ ধরনের ঘটনা কোনো সভ্য, স্বাধীন দেশে কল্পনাও করা যায় না। বর্তমানে আমাদের দেশে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে বলে আমার মনে হয় না।
সংবাদপত্র নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নাগরিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনকারী সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় অস্বস্তিবোধ করে, স্বাধীন সংবাদপত্র দলনে উদ্যত হয়। এজন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাকে মূলত নাগরিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বলা যায়। আমরা দেশের মিডিয়ার ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের ভুক্তভোগী। যারা এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেন তারা আসলে নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখার লড়াই চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের সবক’টি গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে নাগরিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ আছে। সংবিধান মানলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না। আর সংবিধান না মানা দণ্ডনীয় অপরাধ। সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিও এ ধরনের অপরাধ করে রেহাই পাবেন না।
সরকারি হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান ও যমুনা টিভি। গত ১ জুন সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সরকার আমার দেশ বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যাসিবাদী কায়দায় আমার দেশ অফিসে ঢুকে সাংবাদিক-কর্মচারীদের মারধর করে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একটি পত্রিকার সম্পাদককে পত্রিকা অফিস থেকে এভাবে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না। আর তার ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা তো কখনোই সমর্থন পেতে পারে না।
আদালতের রায়ে দু’মাস পর আমার দেশ প্রকাশিত হলেও মাহমুদুর রহমানকে আজও জেল থেকে ছাড়া হয়নি। তার কী অপরাধ? তার অপরাধ—তিনি সংবাদপত্রে লেখালেখি করেন। তিনি কেন রিমান্ড, মানবাধিকার, দুর্নীতি-অনিয়ম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থগুলো নিযে লেখেন, সেটাই তার অপরাধ। আমরা জানি, দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। তাকে বর্বর কায়দায় গ্রেফতারের পর ১২ দিন রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। রিমান্ডের পৈশাচিক কাহিনীর কিছুটা তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে বর্ণনা করেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৭টি মামলা দেয়া হয়েছে। এভাবে একটার পর একটা মামলা দায়ের করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আর এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই যে করা হচ্ছে তা একজন সাধারণ মানুষেরও বোঝার বাকি থাকে না।
সরকারের এমন ফ্যাসিবাদী মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানাই। সঙ্গে সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
লেখক : ড. আ.ফ.ম. ইউসুফ হায়দার
সাবেক প্রো-ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের প্রতি মাহমুদুর রহমানের ভালোবাসা অপরিসীম
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।