

ভেবেছি বই বের করা হবে না বুঝি! প্রত্যেক বছর-ই এমন আফসোস জাগে। কয়েকবছর ধরে লেখালেখি করেও বই বের করার কথা মনে হলে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু সহপাঠী বন্ধুদের বই দেখলে মনের ভিতরটা কেমন যেন কামড় দিয়ে উঠে! উহ, এই বইমেলায় আমারও যদি একটি বই বের হত! উফ কতই না আনন্দ হত, কত-ই না ভালো লাগতো! আবার অনেকে দেখি লেখালেখি শুরু করে বই বের করে দেয়। বইয়ের এড ছড়িয়ে দেয় ফেইসবুক, অনলাইন সহ বিভিন্ন ব্লগে। পাঠক হিসেবে যদিও এটি আমার জন্য অনেক বড় সু-খবর, কিন্তু লেখক হিসেবে নিজের জন্য একটু অভিমান! তবুও প্রায় সবার বই পড়ে নিজেকে কিছুটা আনন্দ দিই। সবার দু’একটা ছবি তুলে ফেইসবুকে দিই। আবার মাঝেমাঝে ভাবি, হায় রে আমার তো পাঠক-ই নেই! যে অভাগার লেখা পড়ে ফেইসবুকে দুএকটা কমেন্ট পড়ে না, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফিরেও তাকায় না; সেখানে প্রকাশনার সামনে তো বিশাল অংকের পাবলিসিটি ভুলেও তাকাবে না! তাকালেও চোখ সরিয়ে ফেলবে! আবার ভাবি- আ রে সকলে তো দেখি প্রচ্ছেদ ও নাম দেখে বই কিনে, কিন্তু ভিতরে কি আছে সেটা দেখে না! এই ক্ষেত্রে আমার বইয়ের প্রচ্ছেদটি যদি সুন্দর না হয়, তখন কি হবে? আর প্রথমত অনেক আশা-বরষা নিয়ে প্রকাশনা বই বের করে, সম্পাদক টুকরো টুকরো করে বানান দেখে, শব্দের উচ্চারণ দেখে, কত ভুলত্রুটি ঠিক করে দেয়; সবার টার্গেট একটাই থাকে- বইটি এবার মার্কেট পাবে, কিন্তু সে লেখকের যখন পাঠক না থাকে তখন প্রকাশনা, সম্পাদক সহ সবার মন খারাপ হয়ে যায়! দীর্ঘদিন পর্যন্ত এমন চিন্তা ভাবনা বেড়ে-ই চলছে। তবুও নিরাশ হইনি।
এইতো কিছুদিন আগে স্বনামধন্য কবি ও কথাসাহিত্যিক জসীম উদ্দীন মুহম্মদ স্যারের ডাক পড়েছে। যিনি শিল্প ও সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক। বোদ্ধা কবি হিসাবে সমধিক পরিচিত। তাঁর সম্পাদিত ম্যাগাজিন ‘ত্রৈমাসিক আরশি’। এছাড়াও তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদ, পাদদেশ সাহিত্য পরিষদ এবং ছোটদের সাহিত্য কাগজের উপদেষ্টা। তিনি শিল্প ও সাহিত্যে অবদানের জন্য গল্প ও কবিতা বিভাগে ৪১ টি পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থঃ খুঁজে চলেছি যারে ( কাব্য), ভালোবাসার নির্বাচিত কবিতা ( কাব্য), শেষপত্র (পত্রকাব্য), ডাম্বুলার প্রেম (গল্প সংকলন)। সম্পাদিত গ্রন্থ কবিতা উল্লেখ্য ( কাব্য, নগ্নপদ ছায়া (কাব্য) এবং আরশি যৌথকাব্য সংকলন-০১ (কাব্য) । এছাড়াও প্রকাশিত অনেক যৌথকাব্য রয়েছে। প্রকাশিত্য গ্রন্থ " যে বসন্তে ফুল ফুটেনি" (উপন্যাস) এবং শব্দ পোড়া গন্ধ (কাব্য)।
কথা বলতে বলতে হটাৎ তিনি বললেন- আরশি যৌথকাব্য সংকলন-০১ ও নগ্নপদ ছায়া কাব্য দুটিতে তোমার লেখা চাই! যেখানে প্রথমটিতে বাছাইকৃত ১৫ কবির সেরা লেখা এবং দ্বিতীয়টিতে বাছাইকৃত ৯ কবির সেরা লেখা। দুটি-ই প্রকাশিত হবে “হরিৎপত্র প্রকাশনা” হতে।
স্যারের এমন ডাক শুনে আমি বিস্মিত হলাম! এই প্রথম কোন সম্পাদক তাঁর প্রকাশিত যৌথকাব্যে আমার লেখা চেয়েছেন। যতটা না বিস্মিত হলাম, তাঁর চেয়ে বেশি আনন্দিত হলাম। আর এতে কি বলে স্যারকে ধন্যবাদ দিবো তাঁর ভাষা আমার কাছে জানা ছিল না, তবুও স্যারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা থাকলো। যেহেতু বই দুটির সম্পাদক- জসীম উদ্দীন মুহম্মদ স্যার, সেহেতু নিঃসন্দেহে আমি বলতে পারি বইগুলো সকল শিশুকিশোর, পাঠক, লেখক, কবি সহ যারা কাউকে গিফট করবেন সবার বেশ মন কাড়বে এবং সবার কাছে চমতকার বই বলে মনে হবে আমার বিশ্বাস।
সকলকে আমন্ত্রিত অমর একুশে বইমেলার-
## বাংলা একডেমি চত্বরের ৫ নম্বর স্টল- হরিৎপত্র প্রকাশনে
## এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৭৮ নম্বর স্টল- অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনে।
১. ১৫ কবির আরশি যৌথকাব্য সংকলন-০১
২. ০৯ কবির নগ্নপদ ছায়া
সম্পাদনায়ঃ জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
প্রকাশনাঃ হরিৎপত্র প্রকাশন।।
শেষ করছি আমার কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়ে- সবাই ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা রইল।।
** ** **
খুব একটা আসো না তুমি এ হৃদয়ে যুক্ত থাকা পশমি মেঘের দ্বীপপুঞ্জে
তবে আজও সন্ধ্যের বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে দেখি,
কসমিক শূন্যতার সিঁড়ি বেয়ে ঢলে পড়েছে মায়োপিয়া;
কিন্তু বহুদিন সযত্নে আগলে রাখা ভালোবাসার বর্ণমালায়
অবাধ্য জোছনায় ভিজে উঠেছে ফোঁটা ফোঁটা অরুণপলক অশ্রু।
এই যে মনের ছাই চাঁপা আগুন নিয়ে চাঁদটা আজও ক্লান্ত পথিক,
তার নিলীন অশ্রুগুলো বৃষ্টিতে ভেজা সান্ধ্য প্রেম সংগীত!
** ** **
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



