somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বন্ধু শফিক

২১ শে জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




(চার)

নতুন একটা ছবি এসেছে সাগরিকা হলে। ছবির নাম "শিমুল-পারুল" মাইকেল গত সপ্তাহে জালালকে নিয়ে দেখে এসেছে। সারাক্ষন গান গায় " ও বউ কথা কও, আমি কবে হইমু বাপ"। তবে দশ মিনিট পর ঢুকেছে তাই আবার দেখতে যাবে। এবার ঠিকই প্রথম থেকে দেখবে।

আমরা বললাম প্রথম থেকে দেখতে চাইলে টিকিট কেটে দেখতে হবে। অতো টাকা তো নাই আমাদের। মাইকেল বললো ঠিক আছে বাকি টাকা আমি যোগাড় করবো।
আমরা ঠিক করলাম শনিবার মর্নিংশো দেখতে যাবো স্কুল পালিয়ে। আর বই রেখে যাবো বাঁশ বাগানের ঝোপের ভিতর পলিথিনের ব্যাগে মুড়িয়ে।

আমরা রওনা হলাম সিনেমা দেখতে শনিবার সকালে। ছবি শুরুর অনেক আগে পোছালাম। মাইকেল আমাদের টিকিট কাউন্টার দেখাচ্ছে। একটা ছোট্ট লোহার গ্রীলের জানলা। নিচে একটা হাত ডোকার মতে ফুটো। ওখান দিয়ে হাত ঢুকিয়ে টাকা দিলে ভিতর দিলে ভিতর থেকে টিকেট মাষ্টার টিকেট দেয়।

আমি আর শফিক অবাক হয়ে দেখছি। হলের বারান্দায় অনেক ছবির পোস্টার লাগানো। কোনটার নিচে আবার লাল কালিতে লেখা "আসিতেছ" আবার একটা কাচের দরজা ওয়ালা বোর্ডের ভিতর মাঝারি সাইজের ছোট ছোট পোস্টার লাগানো। তার নিচে লেখা "চলিতেছে"। আমি আর শফিক এগুলোর আগা মাথা কিছু বুজলাম না।

মাইকেল টিকেট কেটে আনলো। আমরা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছি। বড়রা কেউ কেউ আমাদের টিটকারি মারছে- "এইটুক বান্দর পোলাপান এই বয়সেই সিনামার দরজা চিনিছিস, তোগের ভবিষ্যত তো অন্ধকার, টাকা পাইছিস কনে? মাইকেলও ছেড়ে কথা বলার ছেলে না। মুখের উপর উত্তর - আমরা সিনেমা দেখি আর যাই করি তোমার বাপের কি?

আমরা হলে ডুকলাম। দুই চারটা বাতি জলছে। ঢুকেই শুনি মাইকের মতো আওয়াজে হিন্দি গান বাজছে। "ক্যায়সে বানি-ক্যায়সে বানি"। কিন্তু কোথাও কোন মাইক তো দেখি না আওয়াজ কোত্থেকে আসে। পরে মাইকেল জানালো ওই যে সামনে সাধা একটা কাপড় দেখছিস ওটার পেছনে মাইক আছে। সাদা কাপড় কেন এরকম টান টান করে লাগিয়ে রাখছে? শফিক আমাকে জিজ্ঞেস করলো। আমিতো জানিনা। মাইকেল জানে। মাইকেল জানালো ওটাই নাকি পর্দা। ওখানে ছবি দেখানো হবে। আমাদের আর তর সইছে না। কখন শুরু হবে ছবি।

হঠাৎ সব বাতি নিভে গেলো। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশ। আমরা কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। শফিক আমার হাত চেপে ধরলে বললো -"আমার ভয় লাগতিছে" আধা মিনিট পর হঠাৎ জাতীয় পতাকা দেখলাম সেই সাদা পর্দার উপর। সাথে সাথে মাইকেল দাড়িয়ে হাত উচুকরে হাত নাড়তে লাগলো আমরাও ওর দেখা দেখি দাড়ালাম, হাত নাড়লাম।

তারপর কি জেনো এলো আশপাশের বড়রা বলা বলি করলো ১৫রিল, ১৬ রিল। রিলটা আবার কি? আগা মাথা কিছু বুঝলাম না। মাইকেলও না। তার পর ছবি শুরু হলো। আমদের মনের ভিতর ভিষন রকম উত্তেজনা কাজ করছে। মনে মনে অপেক্ষা করছি মাইকেলের গাওয়া ও বউ কথা কও গান কখন আসবে। গানতো হইলো ভাপাপিঠার গান। মাইকেলকে জিগ্যেস করলাম তোর সেই গান কই? ও বললো- আর এট্টু পর।

ছবির বিরতিতে আমরা চিনা বাদাম, কুলফি মালাই সবই খেলাম। মাইকেলকে আবার জিজ্ঞেস করলাম " দোস্ত এতো টাকা কনে পালি? ও জানলো গতকাল ওর বাবার পকেট থেকে ১০ টাকার একটা নোট মেরে দিয়েছে। শফিকের এ কথা শুনে আমরা একজন আরেক জনের দিকে মুখ চাওয়া-চায়ি করলাম।

সিনেমা দেখে গ্রামে ফিরলাম বিকেল চারটায়। সোজা গিয়ে বাশবাগানে। কিন্তু হায় হায় - আমাদের বইয়ের ব্যাগ কই?

(চলবে.........)

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪৩
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×