somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রগতি বিশ্বাস
জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

হাসিনার পতনের পর— প্রতিশ্রুতির বাংলাদেশ কেন বিপদের দ্বারপ্রান্তে?

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(((কমিটির সভাপতি ইউনূসকে ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে প্রতীকী সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে তার নির্বাচন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন সন্ত্রাসী হামলার পর পশ্চিমা বিশ্বে "ইসলামকে দানবীয় করে তোলার ব্যাপক প্রবণতা" মোকাবেলা করবে। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয় যে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন ইউনূসের পক্ষে তদবির করেছিলেন।))

https://www.japantimes.co.jp/ থেকে অনুদিত :


বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় দেশ, এখন বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, যাকে অনেকে "লৌহমহিলা" হিসেবে অভিহিত করতেন, দেশটি গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবনের পরিবর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন এবং ইসলামী সহিংসতার ঊর্ধ্বগতিতে নিমজ্জিত। অর্থনীতি ধসে পড়ছে, উগ্রপন্থী শক্তি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে ঢাকা।




আশা থেকে হতাশার দিকে হাসিনার পতনের পর অনেকে আশা করেছিলেন, তার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর গণতন্ত্র ফিরে আসবে। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকে তার পতনের কারণ হিসেবে দেখা হলেও, এই আখ্যান সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে উপেক্ষা করে। সেনাবাহিনী, যারা দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে হতাশ ছিল, তাকে ভারতে নির্বাসনে বাধ্য করে। এছাড়া, ইসলামী শক্তিগুলো, যারা বিক্ষোভে পেশীশক্তি যুগিয়েছিল, হাসিনার ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের প্রান্তিকতা থেকে মুক্তির সুযোগ হিসেবে এই পতনকে গ্রহণ করেছিল।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন বারবার স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে, সাংবিধানিক বৈধতা ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আক্রমণ শুরু করেছে। প্রধান বিচারপতি ও পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়েছে, এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথিকৃৎ আওয়ামী লীগকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের তীব্রতা বাড়িয়েছে। হাসিনার সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, শিল্পী ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চলছে। ফেব্রুয়ারি থেকে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিকদের উপর হত্যা, অপহরণ ও ভুয়া অভিযোগের ঘটনা বেড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে নির্যাতন এখন সাধারণ।

ইসলামপন্থী চরমপন্থীদের পুনর্বাসন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সরকার জিহাদি গোষ্ঠীগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং কুখ্যাত ইসলামপন্থী নেতাদের মুক্তি দিয়েছে। কিছু চরমপন্থী এখন মন্ত্রী বা সরকারি পদে রয়েছেন, এবং তাদের সমর্থকরা বিরোধীদের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসিত করছে। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু, উপজাতীয় সম্প্রদায় এবং ধর্মদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা দায়মুক্তির সাথে আক্রমণের শিকার। "অশালীন" পোশাক পরা নারীরা জনসমক্ষে হয়রানি ও লাঞ্ছনার মুখোমুখি। তালেবান-ধাঁচের নৈতিক পুলিশিংয়ের সংস্কৃতি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সংকট অর্থনীতি ধসের মুখে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে, বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে, এবং মুদ্রাস্ফীতি ১২ বছরের সর্বোচ্চে। শেয়ার বাজার পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে, এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে। চাকরি হ্রাস ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মৌলবাদ ও সামাজিক অস্থিরতার জন্য উর্বর ভূমি তৈরি করছে।

আঞ্চলিক প্রভাব একসময় ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতীক বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের মতো সামরিক-অনুমোদিত অকার্যকরতার দিকে ঝুঁকছে। এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষ করে ভারতে, যেখানে বাংলাদেশের সীমান্ত তিন দিকে ঘিরে রয়েছে। হাসিনার শাসনামলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব ছিল, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন ও আঞ্চলিক সংযোগে। তার পতন ভারতের কৌশলগত স্বার্থে আঘাত হানছে। ভারত এখন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করছে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা সরকার পরিবর্তনকে সমর্থন করেছিল, এখনও এর পূর্ণ প্রভাব উপলব্ধি করেনি।

উপসংহার বাংলাদেশ যদি এই গতিপথে চলতে থাকে, তবে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের পতনের দিকে আর উপেক্ষা না করা।

শেয়ার করুন/সংরক্ষণ করুন সূত্র: এএফপি-জিআইজিআই

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫০
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×