somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রগতি বিশ্বাস
জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

মানুষ কি কখনও নিজের মালিক হবে?

০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যুগে যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রধান প্রতিবন্ধক ছিল হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা প্রথা ও রীতিনীতি। সামাজিক ও বিশ্বাসগত বিবর্তনের ধারায় এই শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা খুব কম মানুষই অর্জন করতে পেরেছিল। যারা পেরেছিলেন, তারা একেকজন 'হীরার টুকরো' হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন; কিন্তু যারা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছিলেন, তাদের কথা আমরা অজানাই রয়ে গেছি। সহস্র বছর পূর্ব থেকে বর্তমান শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।


এই দীর্ঘ সময়টি ছিল মূলত কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর পৈতৃক ধর্মীয় গোঁড়ামির কাল। এসবের প্রভাবে মানুষ যেমন প্রাণী হিসেবে অন্য প্রাণীকে ভালোবাসতে শেখেনি, তেমনি মানুষকেও ভালোবাসতে পারেনি। বরং বিশ্বাস ও সংস্কার এক ধরনের অদৃশ্য মায়াজাল তৈরি করেছিল। এই বিশ্বাসের চর্চাকারীদের নিকট সেই মায়াজালকে 'স্বর্গের সিঁড়ি' মনে হলেও, বাস্তবে তা তাদের প্রকৃত সংস্কৃতি ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে। বিনিময়ে বিশ্ব পেয়েছে কেবল বিভেদ, ঘৃণা আর বঞ্চনার ইতিহাস।

উপরিউক্ত বিষয়গুলো মানুষকে কখনও স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পারেনি, পারেনি মুক্তচিন্তার অমৃত আস্বাদ দিতে। এমনকি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকায় সাধারণ মানুষ 'বৌদ্ধিক চর্চা' বিষয়টাই বুঝতে পারেনি। মানুষ আজীবন দাসের মতো বেঁচে থেকেছে; কখনও নিজের চিন্তার মালিক হতে পারেনি। তারা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত পালের পশুর মতোই জীবন কাটিয়ে দিয়েছে।

চলমান শতকের প্রথম দশক থেকে এই পুরনো শেকলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'যান্ত্রিক অ্যালগরিদম'। এই অ্যালগরিদম মানুষকে ডিভাইসের দাসে পরিণত করেছে। যে মানুষ নিজেকে সৃষ্টির সেরা জীব মনে করে, সে আজ সামান্য একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্রীড়নক। এখন মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার আর পুরনো প্রভুদের পাশাপাশি এক নতুন শক্তিশালী প্রভু যোগ হয়েছে— অ্যালগরিদম।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে কেন করে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭



যাদের চরিত্র খারাপ তারাই দ্বিতীয় বিয়ে করে।
দ্বিতীয় বিয়ে করা অন্যায়। একজন নীতিবান মানুষ কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করে না। দ্বিতীয় বিয়ের ফল তো ভালো হয় না। আমাদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×