somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রগতি বিশ্বাস
জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

শিশুরা কেন ধর্মের নামে ঘৃণা শিখছে?

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত শুক্রবার, অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর ২০২৪ (বা ২০২৬), আমি একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম। মসজিদে ঢোকামাত্রই শুনি—ইমাম সাহেব মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাঁর আলোচনায় বলছেন, “আপনারা কোনোভাবেই কোনো হিন্দুকে ‘শারদীয় শুভেচ্ছা’ বলবেন না এবং কোনোভাবেই পূজার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন না বা চাঁদা দেবেন না। মনে রাখবেন, কোনোভাবেই মূর্তিপূজারিরা আপনাদের বন্ধু হতে পারে না।” এরপর তিনি কোরআনের এই আয়াতটি পাঠ করে শোনালেন:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَهُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡكُمۡ فَاِنَّهٗ مِنۡهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۵۱﴾

(সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৫১)

“হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।”


কথাগুলো শুনে আমার মনে হলো, কোরআনে তো শান্তির অনেক বাণী আছে—তিনি সেসবও শোনাতে পারতেন।

যাই হোক, বক্তব্য শুনতে শুনতেই হঠাৎ প্রায় ৫ বছর বয়সী একটি শিশু দুষ্টুমি করতে করতে আমার গায়ে ঢলে পড়ল। আমি তাকে আদর করতে লাগলাম। কিন্তু হঠাৎ সে আমাকে বলে উঠল, “এত বড় চুল রেখেছ, আবার নামাজ পড়তে এসেছ কেন?” আমি ভালোবেসে হেসে বিষয়টি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম। পাশ থেকে তার বাবা বাচ্চার এমন আচরণ দেখে বেশ বিব্রত হলেন এবং তাকে থামালেন।

কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখলাম, বাচ্চাটি পেছনের কাতারের একজনের মাথা থেকে টুপি খুলে নিল। এবারও তার বাবা তাকে নিরস্ত করলেন।

এরপর হুজুর সবাইকে সুন্নত নামাজ পড়ার আহ্বান জানালেন। সুন্নত নামাজ চলাকালীন দেখলাম, শিশুটি সামনের কাতারে গিয়ে রীতিমতো নাচতে শুরু করেছে। কখনো কারও কাপড় ধরে টানছে, এভাবে চারপাশের মুসল্লিদের বিরতিহীনভাবে ডিস্টার্ব করে যাচ্ছে।

সুন্নত নামাজ শেষে হুজুর খুতবা শুরু করলেন। তখন শিশুটি হুজুরকে নিয়ে কিছু একটা মন্তব্য করল। সে ঠিক কী বলেছিল তা আমি স্পষ্ট শুনতে পাইনি, তবে তার বাবার উত্তরটি শুনতে পেলাম। বাবা বলছেন, “হুজুর সম্পর্কে খারাপ কথা বললে আল্লাহ গুনাহ দেন, উনারা ইসলামের কথা বলেন।”

এবার শিশুটি যা বলল, তা শুনে আমার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সে বলল, “বাবা, আমি ইসলামের জন্য জীবন দেব, তাহলে আমার অনেক সওয়াব হবে।” এরপরই শিশুটি আবার চারপাশের মানুষকে প্রচণ্ড ডিস্টার্ব করতে লাগল।

এভাবেই হুজুরের ফরজ নামাজ শুরু করার সময় চলে এল এবং যথারীতি জামাতে নামাজ শুরু হলো। শিশুটি তার বাবার পাশ থেকে সরে গিয়ে ঠিক আমার সামনে এসে দাঁড়াল। কিন্তু সে ১০ সেকেন্ডের বেশি শান্ত থাকতে পারল না। ফরজ নামাজ চলাকালেই সে এবার 'লুঙ্গি ড্যান্স' দিতে শুরু করল এবং চারপাশের মানুষকে বিরক্ত করতে লাগল, এমনকি যারা নামাজে ছিল তাদের মাথার টুপিও খুলে নিতে লাগল।

অবশেষে এক দমবন্ধ করা অস্বস্তি আর বিস্ময় নিয়ে ফরজ নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলাম। তবে মনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল—যে শিশুটি ইসলামের জন্য জিহাদ করা আর জীবন দেওয়ার কথা শিখল, সে কেন শিখল না যে নামাজ সুশৃঙ্খলভাবে পড়তে হয়? সে কেন শিখল না যে বড়দের সম্মান করতে হয়? আর সে কেন শিখল না যে, ধর্মে শান্তির যেসব বার্তা রয়েছে, তা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হয়?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×