
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বলেছে, “এসি বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল।” কিন্তু এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। কারণ সংশ্লিষ্ট কক্ষে স্প্লিট এসি ব্যবহৃত হচ্ছিল, আর স্প্লিট এসির কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থাকে না। এটি বাইরে থেকে নতুন বাতাস বা অক্সিজেন আনে না; বরং ঘরের ভেতরের বাতাসকে বারবার ঠান্ডা করে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে দেয়। অর্থাৎ, স্প্লিট এসি একটি রিসার্কুলেশন সিস্টেম, ভেন্টিলেশন সিস্টেম নয়।
ভেন্টিলেশন বলতে বোঝায় বাইরের তাজা বাতাস ঘরের ভেতরে আনা এবং ভেতরের দূষিত বা বাসি বাতাস বাইরে বের করে দেওয়া। হাসপাতালের নবজাতক কক্ষ, আইসিইউ বা অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল স্থানে সাধারণত ভেন্টিলেশন ও ফিল্টারযুক্ত সেন্ট্রাল এয়ার-হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাই কেবল স্প্লিট এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে—এমন দাবি প্রযুক্তিগতভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়। যদি কক্ষে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকে, তাহলে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়তে পারে; তবে সেটি স্প্লিট এসি চালু বা বন্ধ থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
এ কারণে তদন্ত কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্যমতে, কমিটিতে মূলত চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ছিলেন। অথচ যেখানে এসি, বায়ুপ্রবাহ ও অক্সিজেন ঘাটতির মতো বিষয়কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেখানে একজন এইচভিএসি (HVAC) বা মেকানিক্যাল প্রকৌশলী থাকলে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ আরও নির্ভুল হতে পারত। কোনো হাসপাতালের নবজাতক কক্ষ যদি প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নয়, অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত জরুরি। বিভিন্ন সম্ভাবনা—যেমন ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার ত্রুটি, অবকাঠামোগত সমস্যা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যর্থতা, ওষুধের মান, অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত কারণ—নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেজের মতো বিষয় নিয়ে নানা অনুমান থাকলেও, সেগুলোর পক্ষে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। আমরা এমন একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত চাই, যাতে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয়, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
এসিতে হয়ত গ্যাস লিক ছিল, আর এসির গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) বাতাসের চেয়ে ভারী ফলে এসির গ্যাস রুমের বায়ু্স্তরের নীচে জমা হওয়ায় অক্সিজেন/বাতাস উপরের স্তরে স্থানান্তরিত হয় বলে আমার ধারনা যার এফেক্টে নীচু বিছানায় শায়িত বাচ্চগুলো অক্সিজেনের অভাব অনুভব করে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আরেকটি কারণ হতে পারে ভেজাল ওষুধ। সঠিক তদন্ত করলেই আসল কারণ বের হবে।
আদ-দীনের সেই ওয়ার্ডের স্প্লিট এসি
সূত্র:
প্রথম আলো (৪ জুন ২০২৬)
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস (২ জুন ২০২৬)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



