নাকি লাখ টাকায় আবার মিলবে আগুনে পোড়া দগ্ধ লাশ, লাশের স্তূপ....
পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজে সুযোগে অসংখ্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে পরিচয় ঘটেছে। আমার জীবনের ডায়েরীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে আছে এ অভিজ্ঞতা। যার কিছু আনন্দদায়ক আবার কিছুটা বেদনায়ও নীলাভ।
আমার অভিজ্ঞতার নানাবিধ ঘটনার থেকে একটা ঘটনা দৃশ্যপট আমাকে এখনও মাঝে মাঝে আমার অনুভূতিতে সাড়া ফেলে। আমি দুপুরে লাঞ্চ শেষে বাড়িতে অফিসে যাচ্ছি, আমাদের ডিপার্টমেন্ট তখন প্রথম ফ্লোরে মানে দ্বিতীয় তলায় ছিল। সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় যাবো এমন সময়ে খেয়াল করলাম সিঁড়িতে বসে একজন মেয়ে খাবার খাচ্ছে। আসলে দুপুরে সাধারনত যা খাওয়া হয় মেয়ে তা না খেয়ে খাচ্ছে টং দোকানের সিংগাড়া টাইপের মতোই দেখতে মিষ্টি জাতীয় একটা খাবার। সেটা আসলে খাবারের উপযোগী ছিল কী না সেটাই বড় প্রশ্ন নয়, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ পোশাক শ্রমিক এগুলোই খায়, ভালো মানের খাবার কিংবা ফ্রেস খাবার ওরা মাসে কয়দিনই বা খায়। ফ্লোরের ধূলাবালিতে বসেই ওরা যেটা খায় আমি সে জাতীয় খাবার কখনোই খাইনি। মহান আল্লাহ পাকের রহমত হয়তো বইছে আমার উপর। কিন্তু ঐ মেয়ের মুখের খাবার দেখে সত্যিই সেদিন হৃদয়ের গহীনে কান্নার সূর শুনতে পেয়েছিলাম, কিন্তু সেই কান্নায় কিছুই যায় আসে না, ওর মুখে তুলে তো দিতে পারবে না আমি যেটা খাই, হয়তো একদিন-দুইদিন কিংবা তিনদিন দিবো কিন্তু চারদিনের দিন কিংবা কয়জন শ্রমিকের মুখের দিতে পারবো আমার মনের মতো খাবার। এটা আমার চরম অসহায়ত্ব।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন আমাদের বাসায় বড় আপা আসবে বিধায় দুলাভাইয়ের জন্য রান্না করা হয়েছিল রোস্ট, খাসির গোশত ভুনা, কলিজা ভুনা, পোলাও, দধি আরো কত কী। দুপুরের ভুড়িভোজ হয়েছিল জোশ, বলা বাহুল্য আমি একটু ভোজনবিলাসী। আমার খাবারের সাথে ঐ মেয়ের খাবারের তুলনাটা মাথায় আসাতেই মনটা মলিন হয়ে গিয়েছিল। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমাদের দুজনের রিজিকের হেরফের অনেক। হয়তো পড়াশুনা করায় আমি ভালো মাইনে পাই আর ঐ মেয়েটা হয়তো সামান্য বেতনে চালায় তার পুরো মাস, কোন মতে খেয়ে-পড়ে! সেদিন কেন জানি নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল। লজ্জায় মেয়েটার নামটাও জানা হয়নি। আসলে অপরাধ বোধটা জাগার মূল কারণ হলো, ওরা সুইং মেশিন চালায় বলেই তো পোশাক তৈরি হয়। র্গামেন্টসের প্রাণ ও মূল চালিকাশক্তি তো ওরাই। অথচ আমরা ওদের ক্লান্ত দেহের গামের গন্ধটুকুও সহ্য করতে পারি না, পারি কী?
আরেকটা ঘটনা, এটা গ্রীষ্মকালে প্রায়ই হয়। কোন না কোন ফ্লোরে মেয়ে কিংবা মহিলা শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। বিশাল ফ্লোরে হাজার খানের পোশাক শ্রমিক একত্রে কাজ করে যদিও আমাদের প্রতিষ্ঠানের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য পযার্প্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তা সত্বেও কিছু কিছু মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এদের সবারই কংকালসার দেহ, রক্তশূণ্যতার অভাব চরমে, চরম অপুষ্টির শিকার। এ ভাঙ্গাচেরা দেহখানা নিয়েই চলে ওদের কর্মজীবন। সারাদিন প্ররিশ্রম করে সন্ধ্যায় গিয়ে শুরু হয় ভাত আর আলুর ভর্তা রান্নার আয়োজন। সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে পেরেই যেন ওরা মহাখুশি।
কয়েকদিন আগে সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে ছাই গেলো অসংখ্য পোশাক শ্রমিক। যে শ্রমিক পোশাক শিল্পের প্রাণ, তাদের জীবনের কোন নিরাপত্তাই নাই, যেন নেই স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার। যাদের শ্রমের বিনিময়ে ইটের পর ইট দিয়ে মজবুত ভীত হয় প্রতিষ্ঠানের, মালিক রাস্তায় হাকায় বাহারী গাড়ি আর নিমার্ণ করে বর্নীল প্রসাদ্। আর শ্রমিক শ্রমের বিনিময়ে পায় না দুবেলা ভালো মানের খাবার, পায়না বেচেঁ থাকার অধিকার।
আরেকটা ভয়াবহ ঘটনা, তখন আমি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলাম। জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের সময়ের রিপোর্টার ছিলাম। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল সান নিটিং এ ভয়াবহ আগুনের ঘটনা আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেছিলাম। আমার মনে আছে, মোবাইলের ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘটনাস্থলে গিয়ে এতটাই অসহায় ছিলাম যে আমার পক্ষে কিছুই করার ছিল না। শুধুমাত্র রাস্তায় নিরাপদ দূরত্বে দাড়িঁয়ে বাচাঁও-বাচাঁও চিৎকার শুনেছিলাম, যারা জানালার ধারে ছিল তাদের স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম, কিন্তু লোহার গ্রীল ভেঙ্গে তাদের বাহিরে বের হবার কোন সম্ভনাই দেথলাম্ না। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কোন ভাবেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না। সব পুড়েঁ ছাই। অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছিল সেটাই ছিল পোশাক শিল্পের আগুনের হতাহতের বড় ঘটনা কিন্তু সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এ ভয়াবহতাকেও হার মানিয়েছে।
প্রশ্ন একটাই, পোশাক শ্রমিকরা কেন বার বার পুড়েঁ কয়লা হয়? এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? নাকি লাখ টাকায় আবার মিলবে আগুনে পোড়া দগ্ধ লাশ, লাশের স্তূপ।
প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি....
প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি....
প্রিয় সহব্লগার,
আমার লেখা একটা পোস্টের তথ্য খুজতে অনেক দিন পর আজ আবার লগইন করলাম আমাদের প্রিয় সামুতে। লগইন করার পর প্রথমেই অভ্যাসবশত চোখ গেল প্রথম... ...বাকিটুকু পড়ুন
কমরেড তারেক রহমান , লাল সেলাম ।

ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই তিনি কাজ শুরু করেছেন। এই কথাটা তিনি নিজেই বলেছেন, গতকাল, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। আর এই কথাটা পড়ে আমার বুকের ভেতরে একটা উষ্ণতা অনুভব... ...বাকিটুকু পড়ুন
চাঁদের আলোয় পাহাড়ি রাস্তায়
বাইরে পা রাখতেই মুচমুচে চানাচুরের মতন শব্দ উঠল। কড়কড় করে ভেঙ্গে যাচ্ছে পায়ের নিচে বরফের আস্তরণ। এই ভেঙ্গে পরা অবস্থা মন্দ না। হাঁটার সময় মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জয়তু এ আই: পৃথিবী বদলে যাচ্ছে

An Outstanding Scientific Odyssey:
আমরা যারা ল্যাবে কাজ করি, তারা খুব ভাল ভাবেই জানি একটা জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ বা মানবজাতির জন্য উপকারী মেথড/ম্যাটেরিয়াল ডেভেলপ করতে কত বছর ধরে রিসার্চ, সাধনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন
উর্দু ভাষা ও তার উৎপত্তি
উর্দু ভাষার আসলে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র লিপি নেই। এটি মূলত আরবি ফারসি উৎসের লিপি ব্যবহার করে লেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দুর বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মুঘল সাম্রাজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।