somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কারণে আমি শেষ পর্যন্ত খৃষ্টান হই নি

১২ ই মে, ২০১১ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাস টেনের মাঝামাঝি সময়ে কিশোর-তরুণদের সাধারণত বয়সগত যে সব সমস্যা হয়, আমি সে সব সমস্যা থেকে মোটামুটিভাবে মুক্ত ছিলাম। ভালো ছাত্র এবং দেখতে নাদুসনুদুস হওয়ার কারণে সমবয়সী মেয়েরা মনে মনে যে পছন্দ করতো তা অনেক সময় বুঝতে পারতাম।কিন্তু সে দিকে খুব একটা মনের আকর্ষণ ছিলো না। তবে একেবারে নিরস মনের মানুষও ছিলাম না। মেট্রিক পরীক্ষার তিন মাস আগে শেষ পর্যন্ত একই ক্লাসের একজনের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কও গড়ে ওঠেছিল। নানা কারণে তার সাথে আমার আর দাম্পত্য সম্পর্ক হয়ে উঠে নি। দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করার ইচ্ছা আমাদের দুজনেরই ছিল। তার ইচ্ছা আমার চেয়ে একটু বেশিই ছিল। তিনি এখন বাংলাদেশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা। পারিবারিক ভাবে আমাদের সাথে এখনো কালেভদ্রে যোগাযোগ হয়। যাই হোক এসব বিষয়ের চেয়ে আন্তর্জাতিক বিষয়াদীর খোঁজ খবর রাখা এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করাই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের কাজ ছিল। এ জন্য একবার তিন দিনের জন্য তাবলীগ জামাতে গিয়ে পরিবেশ ভালো না লাগার কারণে দেড় দিন পরেই বাড়ী ফিরেছিলাম। আমার বাবা আমাকে দেখেই মজা করে বলেছিলেন, দেড় দিনেই ওর চিল্লা শেষ হয়ে গেছে। একবার চরমোনাইয়ের পীর মরহুম ফজলুল করিম সাহেবের মুরিদ হয়েছিলাম। কিছু দিন ওনার লিল্লাহ বর্ডিং-এ দশ টাকা করে দানও করতাম। শিবিরের ছেলেদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল তবে শিবিরে ওভাবে কখনো যোগ দেই নি। আমার মানসিক এই অবস্থার মধ্যে আমাদের ভাড়াটিয়া হিসেবে আসলো ওয়ার্ল্ড ভিশনের একজন কর্মকর্তা। যিনি সম্ভবত হিন্দু থেকে কনর্ভাটেড খৃষ্টান। ভদ্র লোককে আমরা ডাকতাম দাদা আর তার স্ত্রীকে ডাকতাম বৌদি। বৌদি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। খুবই অমায়িক ব্যবহার ছিল তাদের। বৌদির ব্যবহারে খৃষ্টান ধর্মের প্রতি ক্রমেই আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম। বৌদির সাথে গল্প করতে বসলেই তিনি মুসলমানদের এবং মুসলিম সমাজের নানা দুর্বলতা অত্যন্ত সুন্দর করে বয়ান করতেন। মুসলিম পুরুষদের চার বিয়ে , মেয়েদের প্রতি নানা বৈষম্য তিনি এত সুন্দর করে উপস্থাপন করতেন যে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণা না এসে উপায় ছিল না। খৃষ্টান পরিবারের এত অমায়ীক আচরণ এবং মুসলমানদের সম্পর্কে নানা নেতিবাচক গল্প শুনে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রয়োজনে খ্রীষ্টান হয়ে যাবো। ইতিমধ্যে বৌদির সুবাদে অনেক খ্রীষ্টান পরিবার এবং স্থানীয় গির্জার সাথে সম্পর্ক হয়ে গেল। যাতায়াত এবং মেলা মেশা যতই বাড়তে লাগলো আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল সমস্যা সব জায়গায়ই আছে। ঝগড়া, হিংসা –বিদ্বেষ এগুলো থেকে খ্রীষ্টান পরিবারগুলো মুক্ত নয়। বাঙ্গালী খাসলত মুসলমানদের মধ্যে যেমন আছে দেশী খৃষ্টানদের মধ্যেও আছে। এসব ভাবতে ভাবতে একদিন গেলাম পাদ্রী মিশন হাসপাতালের সিষ্টারদের আস্তানায়, বৌদিই পাঠালেন তার এক বান্ধবী সিষ্টারের কাছে, বিদেশ থেকে আসা গুড়া দুধ আনতে। নিরব নিস্তব্ধ গাছ গাছালী ঘেরা সিষ্টারদের হোষ্টেলে ঢুকে কাউকে খুজে পাচ্ছিলাম না। সবাই বিশ্রাম নিচ্ছেন। পা টিপে টিপে বারান্দা দিয়ে এগুচ্ছিলাম। দোতলার সিড়িঁর ঠিক নীচে এক কোনায় একটি জানালা । জানালার একটি অংশ সামান্য খোলা। ভেতর থেকে মহিলাদের গোঙ্গানোর সামান্য শব্দ আমার কানে এলো। ফ্যানের বাতাসে জানালার পর্দার এক কোন সামান্য নড়ছিল। আমি মনে করলাম এখানে হয়তো কাউকে পাওয়া যাবে যার কাছে সিষ্টার ছবি কোথায় আছে তা জিজ্ঞেস করে নিব। জানালা দিয়ে ওকি দিতেই দেখি তিন সিষ্টার সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে যা করার করে যাচ্ছে। তাদের যিনি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে তারই মুখ থেকে সুখের গুঙ্গানি শব্দ আসছে। এক ঝলক দেখেই আমার মধ্যে ঘেন্ন চলে আসলো। মনে হতে লাগলো খ্রীষ্টান জগত কতো নোংরা । ঘরে ফিরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম । ফিরে আসলাম অন্ধকারের দোয়ার থেকে।
পবিত্রতার মোড়কে ঢাকা এসব নোংরামী এখন অবশ্য আর গোপন নেই। পোপ এবং চার্চের যৌন কেলেংকারীর একটির পর একটি ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর খৃষ্টান জগতেই এখন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। আমার জানা নেই আমার সেই বৌদি এখন কোথায় আছেন। এসব কেলেংকারীর ঘটনা জানার পর বৌদির অনুভতি জানতে আমার খুবই ইচ্ছে হয়।
যে ঘটনা পড়ে আজ আমি এই লেখা লিখতে বসলাম তার লিঙ্ক এখানে দেয়া হলো। এখানে ক্লিক করুন
২৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বুনো মহিষের পাল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৯



ঘনিয়ে এসেছে প্রস্থানকাল; অনেককিছুর মতো আমিও
হারিয়ে যাবো কালের গর্ভে বা কৃষ্ণচুড়ার লালে লালে।
মূলত হারিয়ে যাওয়ার জন্যই আবির্ভূত হয়ে,
মাঝখানে সবার সাথে খেলে গেলাম বনভোজন বনভোজন।

অনেকদিন ধরেই মগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×